হজের অন্যতম প্রধান ও কঠিন ধাপ সম্পন্ন করতে লাখ লাখ মুসলমান বুধবার ভোর হওয়ার আগেই মুজদালিফা থেকে মিনায় পৌঁছেছেন। সেখানে শয়তানের উদ্দেশ্যে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদুল আজহার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার আরাফাতের ময়দান থেকে আসা হাজিরা মুজদালিফায় রাত কাটানোর সময় শয়তানের প্রতিনিধিত্বকারী স্তম্ভগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ‘জামারাত আল-আকাবা’য় নিক্ষেপের জন্য পাথর সংগ্রহ করেন। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এই সমাবেশে ভিড় সামলাতে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও পরিবহন ব্যবস্থার ব্যাপক নজরদারির মধ্য দিয়ে হাজিদের আরাফাত থেকে মুজদালিফা হয়ে মিনা পর্যন্ত স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সাদা ইহরাম পরিহিত হাজিরা প্রায় ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পায়ে হাঁটার পথ দিয়ে যাতায়াত করেন। তীব্র তাপমাত্রা থেকে স্বস্তি দিতে এই পথের বিভিন্ন অংশে পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করা হয়।
মুজদালিফায় হাজিরা রাতভর প্রার্থনা ও কুরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সময় কাটান। এরপর হজের তৃতীয় দিন, যা ‘ইয়াওম আন-নাহর’ বা কোরবানির দিন হিসেবে পরিচিত, ভোরে প্রথম পাথর নিক্ষেপের আনুষ্ঠানিকতার জন্য মিনায় ফিরে আসার প্রস্তুতি নেন। প্রথমবার পাথর নিক্ষেপের পর হাজিরা পশু কোরবানি সম্পন্ন করবেন এবং মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে ইহরামের পবিত্র অবস্থা থেকে আংশিক মুক্ত হবেন। পরবর্তীতে তাশরিকের দিনগুলোতে অতিরিক্ত পাথর নিক্ষেপের আনুষ্ঠানিকতার জন্য হাজিরা আবারও মিনায় ফিরে আসবেন।
এর আগে মঙ্গলবার হাজিরা হজের মূল আনুষ্ঠানিকতার জন্য আরাফাতের ময়দানে সমবেত হন। সেখানে তারা প্রার্থনা করেন এবং নামিরাহ মসজিদে হজের বার্ষিক খুতবা শোনেন। সূর্যাস্তের পর তারা মুজদালিফার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। মক্কা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত আরাফাতের ময়দান ইসলামি ঐতিহ্যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, যা আদম ও হাওয়ার পুনর্মিলনের স্থান হিসেবে পরিচিত।
রিপোর্টারের নাম 





















