ঢাকা ০৫:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

ঈদের আগে রাজধানীতে পশুর হাটে ক্রেতা সংকট, ব্যবসায়ীদের লোকসানের শঙ্কা

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানীর কোরবানির পশুর হাটগুলোতে শেষ মুহূর্তের বেচাকেনা চলছে। তবে বৈরী আবহাওয়া, টানা বৃষ্টি এবং ক্রেতা কমে যাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী লোকসানের আশঙ্কা করছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কোটি টাকার বিনিয়োগ নিয়ে রাজধানীতে আসা ব্যবসায়ীরা এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

রাজধানীর ধোলাইখাল গরুর হাটে সরেজমিনে দেখা গেছে, হাজার হাজার গরু থাকলেও ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম। অনেক ব্যবসায়ী বৃষ্টির হাত থেকে পশু বাঁচাতে ত্রিপল টানিয়ে ছাউনির ব্যবস্থা করেছেন। কেউ কেউ আবার রাতভর জেগে গরু পাহারা দিচ্ছেন।

নাটোরের এক ব্যবসায়ী জানান, তিনি তিন দিন আগে ২১টি গরু নিয়ে ধোলাইখাল হাটে এসেছেন। প্রায় ১৫ বছর ধরে তিনি কোরবানির পশুর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং এবার তাঁর বিনিয়োগ প্রায় এক কোটি টাকা। এবার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি কিছুটা হতাশ। তিনি বলেন, ‘গরু পরিবহন, খাবার, শ্রমিক ও হাট খরচ মিলিয়ে ব্যয় অনেক বেড়েছে। এরপরও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় লাভ কমে যাচ্ছে।’

একই হাটে ফরিদপুরের এক ব্যবসায়ী প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ২০টি গরু এনেছেন। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তিনি এই ব্যবসা করেছেন। তবে শেষ সময়ে এসে বাজার পরিস্থিতি তাকে হতাশ করছে। তিনি জানান, ‘বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কাস্টমার কমে গেছে। গতকাল যে গরুর দাম ছিল, আজকে সেই গরু ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা কমে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে বড় ধরনের লোকসান হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে ঠিকমতো ঘুমাইনি। গরু নিয়ে হাটেই থাকতে হচ্ছে। এখন শুধু চাই, গরুগুলো ভালো দামে বিক্রি হোক।’

ঢাকার নবাবগঞ্জের এক খামারিও একই ধরনের শঙ্কার কথা জানিয়েছেন। অন্য ব্যবসার পাশাপাশি তিনি নিজ বাড়িতে গরুর খামার গড়ে তুলেছেন এবং সেখানে প্রায় কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আইফোনের মেইল অ্যাপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বড় আপডেট, কাজের গতি বাড়বে বহুগুণ

ঈদের আগে রাজধানীতে পশুর হাটে ক্রেতা সংকট, ব্যবসায়ীদের লোকসানের শঙ্কা

আপডেট সময় : ১২:২০:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানীর কোরবানির পশুর হাটগুলোতে শেষ মুহূর্তের বেচাকেনা চলছে। তবে বৈরী আবহাওয়া, টানা বৃষ্টি এবং ক্রেতা কমে যাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী লোকসানের আশঙ্কা করছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কোটি টাকার বিনিয়োগ নিয়ে রাজধানীতে আসা ব্যবসায়ীরা এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

রাজধানীর ধোলাইখাল গরুর হাটে সরেজমিনে দেখা গেছে, হাজার হাজার গরু থাকলেও ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম। অনেক ব্যবসায়ী বৃষ্টির হাত থেকে পশু বাঁচাতে ত্রিপল টানিয়ে ছাউনির ব্যবস্থা করেছেন। কেউ কেউ আবার রাতভর জেগে গরু পাহারা দিচ্ছেন।

নাটোরের এক ব্যবসায়ী জানান, তিনি তিন দিন আগে ২১টি গরু নিয়ে ধোলাইখাল হাটে এসেছেন। প্রায় ১৫ বছর ধরে তিনি কোরবানির পশুর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং এবার তাঁর বিনিয়োগ প্রায় এক কোটি টাকা। এবার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি কিছুটা হতাশ। তিনি বলেন, ‘গরু পরিবহন, খাবার, শ্রমিক ও হাট খরচ মিলিয়ে ব্যয় অনেক বেড়েছে। এরপরও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় লাভ কমে যাচ্ছে।’

একই হাটে ফরিদপুরের এক ব্যবসায়ী প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ২০টি গরু এনেছেন। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তিনি এই ব্যবসা করেছেন। তবে শেষ সময়ে এসে বাজার পরিস্থিতি তাকে হতাশ করছে। তিনি জানান, ‘বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কাস্টমার কমে গেছে। গতকাল যে গরুর দাম ছিল, আজকে সেই গরু ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা কমে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে বড় ধরনের লোকসান হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে ঠিকমতো ঘুমাইনি। গরু নিয়ে হাটেই থাকতে হচ্ছে। এখন শুধু চাই, গরুগুলো ভালো দামে বিক্রি হোক।’

ঢাকার নবাবগঞ্জের এক খামারিও একই ধরনের শঙ্কার কথা জানিয়েছেন। অন্য ব্যবসার পাশাপাশি তিনি নিজ বাড়িতে গরুর খামার গড়ে তুলেছেন এবং সেখানে প্রায় কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে।