ঢাকা ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

কোরবানির মাংস কি পরিমাণ খাওয়া নিরাপদ: পুষ্টিবিদের পরামর্শ

পশুর চামড়া ছাড়িয়ে মাংস বাড়িতে আনার পর অনেকেই কোরবানির ঈদে প্রায় প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখেন গরুর মাংস। যদিও গরুর মাংসে রয়েছে উন্নত মানের প্রোটিন এবং শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নানা পুষ্টি উপাদান, তবে অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে তা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি ডেকে আনতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিমিত পরিমাণে এবং সঠিক উপায়ে রান্না করা হলে এই ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

পুষ্টিবিদদের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির দৈনিক প্রোটিনের চাহিদা তার আদর্শ ওজনের ওপর নির্ভরশীল। সাধারণত, প্রতি কেজি আদর্শ ওজনের জন্য প্রায় এক গ্রাম প্রোটিনের প্রয়োজন হয়। উদাহরণস্বরূপ, যার আদর্শ ওজন ৬০ কেজি, তার দৈনিক প্রায় ৬০ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণ করা উচিত। তবে, প্রতিদিন একটানা ১০০ গ্রামের বেশি লাল মাংস খেলে হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি ১৫ শতাংশ, ব্রেইন স্ট্রোকের ১১ শতাংশ এবং বৃহদান্ত্র ও প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি ১৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

অতিরিক্ত লাল মাংস গ্রহণের ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য এবং গ্যাস্ট্রিকের মতো হজমজনিত সমস্যা দেখা দেয়। লাল মাংসে উপস্থিত কিছু ইনফ্লামেটরি যৌগ পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র এবং বৃহদন্ত্রের ক্যানসারের কারণ হতে পারে। এছাড়াও, ফুসফুসের রোগ, কোলন ও স্তন্য ক্যানসারের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। দীর্ঘমেয়াদী অতিরিক্ত লাল মাংস খাওয়ার অভ্যাস আর্থ্রাইটিস, গাউট, পেপটিক আলসার, পিত্তথলিতে পাথর, প্যানক্রিয়াস প্রদাহ এবং কিডনি রোগের মতো বিভিন্ন জটিলতার জন্ম দিতে পারে।

যাদের ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি জটিলতা বা অন্য কোনো দীর্ঘস্থায়ী রোগ রয়েছে, তাদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে মাংস গ্রহণ করা উচিত। সঠিক নিয়মে মাংস রান্না করলে এবং পরিমিত পরিমাণে খেলে এই ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

চিকিৎসকদের মতে, গরুর মাংস খেলে সাধারণত রক্তচাপ খুব বেশি বাড়ে না। উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য অতিরিক্ত লবণ বর্জন করা জরুরি। গরুর মাংস খেলে রক্তচাপ বেড়ে যায় এমন ধারণার কোনো সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে, যারা নিয়মিত বেশি পরিমাণে গরুর মাংস খান, তাদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গিয়ে পরবর্তীকালে স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। মনে রাখতে হবে, কোনো কিছুই অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া উচিত নয়।

বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে মাংসের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, গর্ভবতী বা স্তন্যদায়ী মা, যারা প্রচুর শারীরিক পরিশ্রম করেন, বাড়ন্ত বয়সের কিশোর-কিশোরী, বডিবিল্ডার এবং অস্ত্রোপচার থেকে সেরে ওঠা ব্যক্তিরা গড়ে দৈনিক প্রায় ২০০ গ্রাম পর্যন্ত মাংস খেতে পারবেন। অন্যদিকে, ডায়াবেটিস, ফ্যাটিলিভার বা আইবিএস-এর মতো সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের দৈনিক মাংস গ্রহণের পরিমাণ ২০০ গ্রামের নিচে রাখা উচিত। যারা স্ট্রোক, হৃদরোগ, গলব্লাডার বা কিডনির সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য প্রথম ধাপে দৈনিক মাংসের পরিমাণ ১০০ গ্রামের নিচে সীমাবদ্ধ রাখা বাঞ্ছনীয়। প্রাপ্তবয়স্ক সাধারণ মানুষের জন্য দৈনিক ৭০ থেকে ১০০ গ্রাম মাংস গ্রহণ নিরাপদ বলে মনে করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাজ্যে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৩ ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, তদন্ত অব্যাহত

কোরবানির মাংস কি পরিমাণ খাওয়া নিরাপদ: পুষ্টিবিদের পরামর্শ

আপডেট সময় : ০৯:১১:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

পশুর চামড়া ছাড়িয়ে মাংস বাড়িতে আনার পর অনেকেই কোরবানির ঈদে প্রায় প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখেন গরুর মাংস। যদিও গরুর মাংসে রয়েছে উন্নত মানের প্রোটিন এবং শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নানা পুষ্টি উপাদান, তবে অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে তা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি ডেকে আনতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিমিত পরিমাণে এবং সঠিক উপায়ে রান্না করা হলে এই ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

পুষ্টিবিদদের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির দৈনিক প্রোটিনের চাহিদা তার আদর্শ ওজনের ওপর নির্ভরশীল। সাধারণত, প্রতি কেজি আদর্শ ওজনের জন্য প্রায় এক গ্রাম প্রোটিনের প্রয়োজন হয়। উদাহরণস্বরূপ, যার আদর্শ ওজন ৬০ কেজি, তার দৈনিক প্রায় ৬০ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণ করা উচিত। তবে, প্রতিদিন একটানা ১০০ গ্রামের বেশি লাল মাংস খেলে হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি ১৫ শতাংশ, ব্রেইন স্ট্রোকের ১১ শতাংশ এবং বৃহদান্ত্র ও প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি ১৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

অতিরিক্ত লাল মাংস গ্রহণের ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য এবং গ্যাস্ট্রিকের মতো হজমজনিত সমস্যা দেখা দেয়। লাল মাংসে উপস্থিত কিছু ইনফ্লামেটরি যৌগ পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র এবং বৃহদন্ত্রের ক্যানসারের কারণ হতে পারে। এছাড়াও, ফুসফুসের রোগ, কোলন ও স্তন্য ক্যানসারের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। দীর্ঘমেয়াদী অতিরিক্ত লাল মাংস খাওয়ার অভ্যাস আর্থ্রাইটিস, গাউট, পেপটিক আলসার, পিত্তথলিতে পাথর, প্যানক্রিয়াস প্রদাহ এবং কিডনি রোগের মতো বিভিন্ন জটিলতার জন্ম দিতে পারে।

যাদের ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি জটিলতা বা অন্য কোনো দীর্ঘস্থায়ী রোগ রয়েছে, তাদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে মাংস গ্রহণ করা উচিত। সঠিক নিয়মে মাংস রান্না করলে এবং পরিমিত পরিমাণে খেলে এই ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

চিকিৎসকদের মতে, গরুর মাংস খেলে সাধারণত রক্তচাপ খুব বেশি বাড়ে না। উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য অতিরিক্ত লবণ বর্জন করা জরুরি। গরুর মাংস খেলে রক্তচাপ বেড়ে যায় এমন ধারণার কোনো সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে, যারা নিয়মিত বেশি পরিমাণে গরুর মাংস খান, তাদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গিয়ে পরবর্তীকালে স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। মনে রাখতে হবে, কোনো কিছুই অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া উচিত নয়।

বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে মাংসের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, গর্ভবতী বা স্তন্যদায়ী মা, যারা প্রচুর শারীরিক পরিশ্রম করেন, বাড়ন্ত বয়সের কিশোর-কিশোরী, বডিবিল্ডার এবং অস্ত্রোপচার থেকে সেরে ওঠা ব্যক্তিরা গড়ে দৈনিক প্রায় ২০০ গ্রাম পর্যন্ত মাংস খেতে পারবেন। অন্যদিকে, ডায়াবেটিস, ফ্যাটিলিভার বা আইবিএস-এর মতো সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের দৈনিক মাংস গ্রহণের পরিমাণ ২০০ গ্রামের নিচে রাখা উচিত। যারা স্ট্রোক, হৃদরোগ, গলব্লাডার বা কিডনির সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য প্রথম ধাপে দৈনিক মাংসের পরিমাণ ১০০ গ্রামের নিচে সীমাবদ্ধ রাখা বাঞ্ছনীয়। প্রাপ্তবয়স্ক সাধারণ মানুষের জন্য দৈনিক ৭০ থেকে ১০০ গ্রাম মাংস গ্রহণ নিরাপদ বলে মনে করা হয়।