ঢাকা ০৭:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

নতুন সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার ফারাক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক চাপ এবং নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, বিনিয়োগ বাড়বে, আইনশৃঙ্খলা উন্নত হবে এবং একটি স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হবে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর মানুষের প্রত্যাশা আরও বেড়ে যায়। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে চলা ভোটাধিকার হরণ, বিচারহীনতা, অর্থ পাচার এবং মেগা প্রকল্পের নামে দুর্নীতির অবসান চেয়েছিল তারা। সেই অভ্যুত্থানের পর প্রায় দুই বছর অতিবাহিত হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার ও নির্বাচন সম্পন্ন করে বিদায় নিয়েছে। এখন জনআকাঙ্ক্ষার নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে।

নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার যে স্বপ্ন তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষ দেখেছিল, তার সঙ্গে বর্তমান বাস্তবতার বিস্তর ফারাক লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের মনে এখনও শান্তি ফেরেনি। তারা জানতে চাইছে, নিত্যপণ্যের বাজারদর কবে কমবে, চাকরি ও ব্যবসা-বাণিজ্য টিকবে কিনা, সন্তানদের ভবিষ্যৎ কতটা নিরাপদ এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন থাকবে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তাদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা কাজ করছে।

রাজধানীর আদাবরের ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক ছাদেক বলেন, ‘সরকার বদলায়, কিন্তু আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না। প্রতিদিন আয়ও নির্দিষ্ট থাকে না। মালিককে ভাড়া দেওয়ার পর কখনও হাজারখানেক টাকা লাভ থাকে, আবার কখনও তার চেয়ে কম।’ মোহাম্মদপুরের সিএনজি-চালক সাইফুল জানান, ‘দৈনিক আয় অনিশ্চিত, কিন্তু খরচ বেড়েই চলেছে। দেশের অর্থনীতি খুবই খারাপ, যাত্রীও কমে গেছে। সরকারের উচিত আগে এগুলো ঠিক করা।’ নির্মাণ শ্রমিক জমির মিয়া বলেন, ‘নির্বাচনের আগে বলা হয়েছিল কাজ বাড়বে, মজুরি বাড়বে। কিন্তু কোনোটিই বাড়েনি। প্রতিদিন কাজও পাওয়া যায় না, অথচ বাজারে সবকিছুর দামে আগুন।’

মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে, মানুষের ক্ষোভের মূল দুটি কারণ হলো নিত্যপণ্যের লাগামহীন বাজার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। বেসরকারি চাকরিজীবী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘সরকার বদল হয়েছে, কিন্তু আমাদের ভাগ্য বদলায়নি। চাল, ডাল, তেল—সবকিছুর দাম আকাশছোঁয়া।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিরতি ভেঙে হৈমন্তীর কণ্ঠে দুই নতুন গান, মুগ্ধ দর্শক-শ্রোতা

নতুন সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার ফারাক

আপডেট সময় : ০৮:১০:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক চাপ এবং নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, বিনিয়োগ বাড়বে, আইনশৃঙ্খলা উন্নত হবে এবং একটি স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হবে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর মানুষের প্রত্যাশা আরও বেড়ে যায়। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে চলা ভোটাধিকার হরণ, বিচারহীনতা, অর্থ পাচার এবং মেগা প্রকল্পের নামে দুর্নীতির অবসান চেয়েছিল তারা। সেই অভ্যুত্থানের পর প্রায় দুই বছর অতিবাহিত হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার ও নির্বাচন সম্পন্ন করে বিদায় নিয়েছে। এখন জনআকাঙ্ক্ষার নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে।

নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার যে স্বপ্ন তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষ দেখেছিল, তার সঙ্গে বর্তমান বাস্তবতার বিস্তর ফারাক লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের মনে এখনও শান্তি ফেরেনি। তারা জানতে চাইছে, নিত্যপণ্যের বাজারদর কবে কমবে, চাকরি ও ব্যবসা-বাণিজ্য টিকবে কিনা, সন্তানদের ভবিষ্যৎ কতটা নিরাপদ এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন থাকবে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তাদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা কাজ করছে।

রাজধানীর আদাবরের ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক ছাদেক বলেন, ‘সরকার বদলায়, কিন্তু আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না। প্রতিদিন আয়ও নির্দিষ্ট থাকে না। মালিককে ভাড়া দেওয়ার পর কখনও হাজারখানেক টাকা লাভ থাকে, আবার কখনও তার চেয়ে কম।’ মোহাম্মদপুরের সিএনজি-চালক সাইফুল জানান, ‘দৈনিক আয় অনিশ্চিত, কিন্তু খরচ বেড়েই চলেছে। দেশের অর্থনীতি খুবই খারাপ, যাত্রীও কমে গেছে। সরকারের উচিত আগে এগুলো ঠিক করা।’ নির্মাণ শ্রমিক জমির মিয়া বলেন, ‘নির্বাচনের আগে বলা হয়েছিল কাজ বাড়বে, মজুরি বাড়বে। কিন্তু কোনোটিই বাড়েনি। প্রতিদিন কাজও পাওয়া যায় না, অথচ বাজারে সবকিছুর দামে আগুন।’

মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে, মানুষের ক্ষোভের মূল দুটি কারণ হলো নিত্যপণ্যের লাগামহীন বাজার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। বেসরকারি চাকরিজীবী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘সরকার বদল হয়েছে, কিন্তু আমাদের ভাগ্য বদলায়নি। চাল, ডাল, তেল—সবকিছুর দাম আকাশছোঁয়া।’