ঢাকা ০৫:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

কাদায় মাখামাখি, ভোগান্তিতে গাবতলী পশুর হাট

ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর গাবতলীর পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) বৃষ্টির পর হাটজুড়ে কাদায় একাকার হয়ে যায়, যা মানুষের চলাচলের পরিস্থিতিকে অত্যন্ত কঠিন করে তোলে। কখন কোন গরু ধাক্কা দেবে বা কে কাদায় পিছলে পড়ে যাবে, তা নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতারা রয়েছেন আতঙ্কে।

সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ার পর বেলা ১২টার দিকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে গরু নামানো, কেনাবেচা এবং মানুষের চলাচল শুরু হয়। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই গাবতলী থেকে মোহাম্মদপুরমুখী সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় এবং মোহাম্মদপুর থেকে গাবতলীমুখী সড়কেও প্রায় দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত যানজট লেগে যায়। গরুর ট্রাক, পিকআপ, ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ভিড়ে সামান্য হাঁটার জায়গাও ছিল না। এর মধ্যেই ১০ নম্বর হাসিল ঘরের কাছে একটি গরু ছুটে এলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং দৌড় দিতে গিয়ে এক ব্যক্তি কাদায় পড়ে যান। এতে চারদিকে ছোটাছুটি শুরু হয় এবং কেউই কাদা ছিটকে পড়া থেকে রেহাই পাননি। অনেক গরু ব্যবসায়ীকে কাদায় পা ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

দুপুর দেড়টার দিকে ১০ নম্বর হাসিল ঘরের সামনে আরও একটি বিপত্তি ঘটে। হাসিল পরিশোধ করতে গিয়ে একটি গরু ছুটে পাশের সেডে ঢুকে পড়ে। এ সময় গরুর ধাক্কায় কয়েকজন পড়ে গেলে পাটুরিয়া থেকে আসা গরু বিক্রেতা নূর ইসলাম তাদের টেনে তোলেন। মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত পুরো গাবতলী হাটই ছিল কাদা আর বৃষ্টির পানিতে সয়লাব, কোথাও কোথাও পানি জমে ছিল। প্রধান সড়কের অনেক অংশ কাদায় ডুবে ছিল।

এমন পরিস্থিতিতে বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে না বলে জানান দিনাজপুরের বিরামপুর থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী ও খামারি সাইদুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আটটা গরু এনেছি। কিন্তু বৃষ্টি আর ভোগান্তির কারণে একটা গরুও বিক্রি করতে পারিনি। আমাদের সঙ্গে চারজন লোক আছে। এই গরুগুলো বিক্রি করে লাভ হবে কিনা সেটাই এখন চিন্তা।” অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, এই ভোগান্তির কারণে তারা ঠিকমতো দরদামও করতে পারছেন না। ক্রেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, “গরুর দাম আগের তুলনায় অনেক বেশি। তার ওপর কাদা আর ভিড়ের কারণে ঠিকমতো গরু দেখাও যাচ্ছে না।”

গাবতলী হাটের বর্ধিত অংশে সারিবদ্ধভাবে গরু বাঁধার জন্য শত শত খুঁটির সেড তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৬টি খুঁটির একটি সেডের মালিক রফিক উদ্দিন জানান, তিনি আড়াই লাখ টাকায় এই সেডটি ইজারাদারের কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছেন। তিনি বলেন, “তিন লাইনে ৩২টি করে মোট ৯৬টি খুঁটি আছে। ওপরে ত্রিপল দেওয়া, তাই বৃষ্টিতে গরুর তেমন সমস্যা হচ্ছে না।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আইফোনের মেইল অ্যাপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বড় আপডেট, কাজের গতি বাড়বে বহুগুণ

কাদায় মাখামাখি, ভোগান্তিতে গাবতলী পশুর হাট

আপডেট সময় : ০৮:৫৪:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর গাবতলীর পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) বৃষ্টির পর হাটজুড়ে কাদায় একাকার হয়ে যায়, যা মানুষের চলাচলের পরিস্থিতিকে অত্যন্ত কঠিন করে তোলে। কখন কোন গরু ধাক্কা দেবে বা কে কাদায় পিছলে পড়ে যাবে, তা নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতারা রয়েছেন আতঙ্কে।

সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ার পর বেলা ১২টার দিকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে গরু নামানো, কেনাবেচা এবং মানুষের চলাচল শুরু হয়। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই গাবতলী থেকে মোহাম্মদপুরমুখী সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় এবং মোহাম্মদপুর থেকে গাবতলীমুখী সড়কেও প্রায় দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত যানজট লেগে যায়। গরুর ট্রাক, পিকআপ, ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ভিড়ে সামান্য হাঁটার জায়গাও ছিল না। এর মধ্যেই ১০ নম্বর হাসিল ঘরের কাছে একটি গরু ছুটে এলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং দৌড় দিতে গিয়ে এক ব্যক্তি কাদায় পড়ে যান। এতে চারদিকে ছোটাছুটি শুরু হয় এবং কেউই কাদা ছিটকে পড়া থেকে রেহাই পাননি। অনেক গরু ব্যবসায়ীকে কাদায় পা ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

দুপুর দেড়টার দিকে ১০ নম্বর হাসিল ঘরের সামনে আরও একটি বিপত্তি ঘটে। হাসিল পরিশোধ করতে গিয়ে একটি গরু ছুটে পাশের সেডে ঢুকে পড়ে। এ সময় গরুর ধাক্কায় কয়েকজন পড়ে গেলে পাটুরিয়া থেকে আসা গরু বিক্রেতা নূর ইসলাম তাদের টেনে তোলেন। মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত পুরো গাবতলী হাটই ছিল কাদা আর বৃষ্টির পানিতে সয়লাব, কোথাও কোথাও পানি জমে ছিল। প্রধান সড়কের অনেক অংশ কাদায় ডুবে ছিল।

এমন পরিস্থিতিতে বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে না বলে জানান দিনাজপুরের বিরামপুর থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী ও খামারি সাইদুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আটটা গরু এনেছি। কিন্তু বৃষ্টি আর ভোগান্তির কারণে একটা গরুও বিক্রি করতে পারিনি। আমাদের সঙ্গে চারজন লোক আছে। এই গরুগুলো বিক্রি করে লাভ হবে কিনা সেটাই এখন চিন্তা।” অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, এই ভোগান্তির কারণে তারা ঠিকমতো দরদামও করতে পারছেন না। ক্রেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, “গরুর দাম আগের তুলনায় অনেক বেশি। তার ওপর কাদা আর ভিড়ের কারণে ঠিকমতো গরু দেখাও যাচ্ছে না।”

গাবতলী হাটের বর্ধিত অংশে সারিবদ্ধভাবে গরু বাঁধার জন্য শত শত খুঁটির সেড তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৬টি খুঁটির একটি সেডের মালিক রফিক উদ্দিন জানান, তিনি আড়াই লাখ টাকায় এই সেডটি ইজারাদারের কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছেন। তিনি বলেন, “তিন লাইনে ৩২টি করে মোট ৯৬টি খুঁটি আছে। ওপরে ত্রিপল দেওয়া, তাই বৃষ্টিতে গরুর তেমন সমস্যা হচ্ছে না।”