ঢাকা ০৭:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

সন্ত্রাসীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসীদের কোনো অভয়ারণ্য থাকতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, দেশে সন্ত্রাসবাদের কোনো স্থান হবে না এবং এদের নির্মূল করা হবে। সম্প্রতি চট্টগ্রামে র‌্যাব ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যা শীঘ্রই দৃশ্যমান হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে পুলিশ সদর দফতরের এনসিকম ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। চট্টগ্রামে পুলিশ ও র‌্যাবের ওপর হামলার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরসহ অন্যান্য স্থানে র‌্যাব ও পুলিশের ওপর যে হামলা হয়েছে, তা গভীর পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসীরা অত্যন্ত উদ্ধত আচরণ করেছে এবং তাদের এই দুঃসাহসিকতাকে কঠোরভাবে দমন করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জঙ্গল সলিমপুরে র‌্যাব ক্যাম্পে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সন্ত্রাসীরা যতই বাধার সৃষ্টি করুক না কেন, তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দেশে আইনের শাসনের অভাব ছিল এবং দুর্বৃত্তায়নের এক মহামারি চলছিল। জঙ্গল সলিমপুরকে একসময় রাষ্ট্রের ভেতরে আরেকটি রাষ্ট্র হিসেবে দেখা হতো, যা এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সেখানে যৌথ অভিযানে অনেক অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং দাগী আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। সেখানে পুলিশ একাডেমি, র‌্যাবের একাডেমি, ক্রীড়া কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা কারাগারও সেখানে হওয়ার কথা ছিল। এই পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসীরা তাদের পুরোনো অবস্থান ধরে রাখতে চাইছে। তবে তাদের উদ্ধত ও দুঃসাহসিক আচরণ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখনই পুরো পরিকল্পনা প্রকাশ করা সম্ভব নয়, তবে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। সন্ত্রাসীদের কোনো অভয়ারণ্য থাকতে দেওয়া হবে না, এদের নির্মূল করা হবে। আশা করা যায়, সবাই এক্ষেত্রে সহযোগিতা করবেন। দেশে মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ বা অন্য কোনো অপরাধীর কোনো স্থান হবে না। এ বিষয়ে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।

সীমান্তে গোলাগুলির পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে কোনো সমস্যা দেখা দিলে ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে আলোচনা করে সমাধান করা হয়। দুই-একটি ঘটনা নজরে এসেছে এবং বিজিবির মহাপরিচালক তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো দেখেছেন। কিছু এলাকায় পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিরতি ভেঙে হৈমন্তীর কণ্ঠে দুই নতুন গান, মুগ্ধ দর্শক-শ্রোতা

সন্ত্রাসীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৪:২৯:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসীদের কোনো অভয়ারণ্য থাকতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, দেশে সন্ত্রাসবাদের কোনো স্থান হবে না এবং এদের নির্মূল করা হবে। সম্প্রতি চট্টগ্রামে র‌্যাব ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যা শীঘ্রই দৃশ্যমান হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে পুলিশ সদর দফতরের এনসিকম ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। চট্টগ্রামে পুলিশ ও র‌্যাবের ওপর হামলার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরসহ অন্যান্য স্থানে র‌্যাব ও পুলিশের ওপর যে হামলা হয়েছে, তা গভীর পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসীরা অত্যন্ত উদ্ধত আচরণ করেছে এবং তাদের এই দুঃসাহসিকতাকে কঠোরভাবে দমন করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জঙ্গল সলিমপুরে র‌্যাব ক্যাম্পে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সন্ত্রাসীরা যতই বাধার সৃষ্টি করুক না কেন, তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দেশে আইনের শাসনের অভাব ছিল এবং দুর্বৃত্তায়নের এক মহামারি চলছিল। জঙ্গল সলিমপুরকে একসময় রাষ্ট্রের ভেতরে আরেকটি রাষ্ট্র হিসেবে দেখা হতো, যা এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সেখানে যৌথ অভিযানে অনেক অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং দাগী আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। সেখানে পুলিশ একাডেমি, র‌্যাবের একাডেমি, ক্রীড়া কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা কারাগারও সেখানে হওয়ার কথা ছিল। এই পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসীরা তাদের পুরোনো অবস্থান ধরে রাখতে চাইছে। তবে তাদের উদ্ধত ও দুঃসাহসিক আচরণ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখনই পুরো পরিকল্পনা প্রকাশ করা সম্ভব নয়, তবে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। সন্ত্রাসীদের কোনো অভয়ারণ্য থাকতে দেওয়া হবে না, এদের নির্মূল করা হবে। আশা করা যায়, সবাই এক্ষেত্রে সহযোগিতা করবেন। দেশে মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ বা অন্য কোনো অপরাধীর কোনো স্থান হবে না। এ বিষয়ে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।

সীমান্তে গোলাগুলির পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে কোনো সমস্যা দেখা দিলে ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে আলোচনা করে সমাধান করা হয়। দুই-একটি ঘটনা নজরে এসেছে এবং বিজিবির মহাপরিচালক তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো দেখেছেন। কিছু এলাকায় পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।