ঢাকা ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ২০২৬ বিশ্বকাপ: চার্জে চলবে ‘ট্রিওন্ডা’ বল, নির্ভুল হবে রেফারিং

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু মাঠের লড়াইয়েই নয়, প্রযুক্তির ব্যবহারের দিক থেকেও নতুন এক যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। এই বিশ্বকাপে অফিসিয়াল ম্যাচ বল হিসেবে ব্যবহৃত হবে ‘ট্রিওন্ডা’, যা ব্যবহারের আগে প্রতি ম্যাচের আগেই চার্জ দিতে হবে। স্মার্ট প্রযুক্তিনির্ভর এই বল ফুটবল বিশ্বে ইতিমধ্যেই বাড়তি কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।

‘ট্রিওন্ডা’ বলটি আমাদের ব্যবহৃত স্মার্টফোন বা স্মার্টওয়াচের মতোই। এতে উন্নত সেন্সর প্রযুক্তি এবং অত্যাধুনিক ‘কানেক্টেড বল টেকনোলজি’ যুক্ত করা হয়েছে, যা ম্যাচ পরিচালনায় রেফারিদের আরও দ্রুত ও নিখুঁত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে। সেন্সরটি রিচার্জেবল ব্যাটারিতে চালিত হবে এবং একবার পূর্ণ চার্জে এটি প্রায় ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত চলবে, যা একটি ম্যাচ পরিচালনার জন্য যথেষ্ট। ব্যবহারের আগে অন্য ইলেকট্রনিক সরঞ্জামের মতোই এই বলকেও চার্জ দিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য এই বিশ্বকাপে ব্যবহারের জন্য তৈরি বলে রয়েছে ৫০০ হার্টজ গতির একটি মোশন সেন্সর চিপ। এই চিপ প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার তথ্য সংগ্রহ করতে পারে, যা বলের স্পর্শ, গতি, ঘূর্ণন, দিক পরিবর্তন ও চলাচল রিয়েল টাইমে পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম। সংগৃহীত তথ্য সরাসরি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) সিস্টেমে পাঠানো হবে এবং স্টেডিয়ামের ট্র্যাকিং ক্যামেরার তথ্যের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এতে অফসাইড, হ্যান্ডবল, ফাউল কিংবা বল মাঠের বাইরে গেছে কি না—এসব সূক্ষ্ম সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণে ম্যাচ অফিশিয়ালদের সুবিধা হবে। বিশেষ করে অফসাইডের ক্ষেত্রে বল স্পর্শের সুনির্দিষ্ট মুহূর্ত শনাক্ত করতে পারবে সেন্সরটি।

বলে ব্যবহৃত চিপটির ওজন প্রায় ১৪ গ্রাম এবং এটি এমনভাবে বলের ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে যাতে বলের ভারসাম্য বা পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব না পড়ে। এমনকি খেলোয়াড়রাও এর উপস্থিতি টের পাবেন না। এবারের বিশ্বকাপের আয়োজক তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ‘ট্রিওন্ডা’ বলের নকশাতেও। এর রং ও ডিজাইন তিন আয়োজক দেশকে স্মরণ করিয়ে দেবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদ উদযাপনের মধ্যে মর্মান্তিক ঘটনা: গলায় মাংস আটকে কিশোরের মৃত্যু

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ২০২৬ বিশ্বকাপ: চার্জে চলবে ‘ট্রিওন্ডা’ বল, নির্ভুল হবে রেফারিং

আপডেট সময় : ০৩:২৪:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু মাঠের লড়াইয়েই নয়, প্রযুক্তির ব্যবহারের দিক থেকেও নতুন এক যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। এই বিশ্বকাপে অফিসিয়াল ম্যাচ বল হিসেবে ব্যবহৃত হবে ‘ট্রিওন্ডা’, যা ব্যবহারের আগে প্রতি ম্যাচের আগেই চার্জ দিতে হবে। স্মার্ট প্রযুক্তিনির্ভর এই বল ফুটবল বিশ্বে ইতিমধ্যেই বাড়তি কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।

‘ট্রিওন্ডা’ বলটি আমাদের ব্যবহৃত স্মার্টফোন বা স্মার্টওয়াচের মতোই। এতে উন্নত সেন্সর প্রযুক্তি এবং অত্যাধুনিক ‘কানেক্টেড বল টেকনোলজি’ যুক্ত করা হয়েছে, যা ম্যাচ পরিচালনায় রেফারিদের আরও দ্রুত ও নিখুঁত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে। সেন্সরটি রিচার্জেবল ব্যাটারিতে চালিত হবে এবং একবার পূর্ণ চার্জে এটি প্রায় ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত চলবে, যা একটি ম্যাচ পরিচালনার জন্য যথেষ্ট। ব্যবহারের আগে অন্য ইলেকট্রনিক সরঞ্জামের মতোই এই বলকেও চার্জ দিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য এই বিশ্বকাপে ব্যবহারের জন্য তৈরি বলে রয়েছে ৫০০ হার্টজ গতির একটি মোশন সেন্সর চিপ। এই চিপ প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার তথ্য সংগ্রহ করতে পারে, যা বলের স্পর্শ, গতি, ঘূর্ণন, দিক পরিবর্তন ও চলাচল রিয়েল টাইমে পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম। সংগৃহীত তথ্য সরাসরি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) সিস্টেমে পাঠানো হবে এবং স্টেডিয়ামের ট্র্যাকিং ক্যামেরার তথ্যের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এতে অফসাইড, হ্যান্ডবল, ফাউল কিংবা বল মাঠের বাইরে গেছে কি না—এসব সূক্ষ্ম সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণে ম্যাচ অফিশিয়ালদের সুবিধা হবে। বিশেষ করে অফসাইডের ক্ষেত্রে বল স্পর্শের সুনির্দিষ্ট মুহূর্ত শনাক্ত করতে পারবে সেন্সরটি।

বলে ব্যবহৃত চিপটির ওজন প্রায় ১৪ গ্রাম এবং এটি এমনভাবে বলের ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে যাতে বলের ভারসাম্য বা পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব না পড়ে। এমনকি খেলোয়াড়রাও এর উপস্থিতি টের পাবেন না। এবারের বিশ্বকাপের আয়োজক তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ‘ট্রিওন্ডা’ বলের নকশাতেও। এর রং ও ডিজাইন তিন আয়োজক দেশকে স্মরণ করিয়ে দেবে।