ঢাকা ০৮:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসকে কাঁদানো ‘মারাকানাজো’: এক অবিস্মরণীয় ট্র্যাজেডি

১৯৫০ সালের ১৬ জুলাই। পুরো ব্রাজিল এক মহোৎসবের জন্য প্রস্তুত ছিল, বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে বিভোর। রিও ডি জেনেইরোর ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়াম ছিল এই উন্মাদনার কেন্দ্রবিন্দু। প্রায় দুই লাখ দর্শক স্বাগতিকদের জয় কামনা করছিলেন। কিন্তু ফুটবল কখনও কখনও এমন নাটক মঞ্চস্থ করে যা কল্পনাকেও হার মানায়। সেই রাতে ব্রাজিলের জন্ম হয়েছিল এক এমন অধ্যায়ের, যা আজও সেলেসাওদের চোখে জল এনে দেয়। সেই ঐতিহাসিক ফাইনালটি আজও ‘মারাকানাজো’ নামে পরিচিত।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটিই ছিল প্রথম বিশ্বকাপ। ১৯৫০ সালে যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে ফুটবল বিশ্বমঞ্চে ফিরেছিল। সেই আসরের ফরম্যাট ছিল বর্তমানের চেয়ে ভিন্ন; মাত্র ১৩টি দল অংশ নিয়েছিল, যার মধ্যে ছয়টি ইউরোপ এবং সাতটি আমেরিকা মহাদেশ থেকে এসেছিল। চারটি গ্রুপে বিভক্ত দলগুলোর মধ্যে প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দল চূড়ান্ত রাউন্ড-রবিন পর্বে উন্নীত হয়েছিল।

চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেয় ব্রাজিল, উরুগুয়ে, স্পেন ও সুইডেন। ব্রাজিল দুর্দান্ত খেলে স্পেন ও সুইডেনকে পরাজিত করে। অন্যদিকে, উরুগুয়ে স্পেনের সাথে ড্র করে এবং সুইডেনকে হারিয়ে ব্রাজিলের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হয়।

স্বাগতিক ব্রাজিল তখন অপ্রতিরোধ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। সংবাদপত্রগুলো তাদের জয় নিয়ে আগাম ভবিষ্যদ্বাণী করছিল, অনেকেই ফাইনালকে কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা মনে করছিলেন। ম্যাচের ৪৭ মিনিটে ফ্রিয়াকা গোল করে ব্রাজিলকে এগিয়ে দিলে মারাকানা স্টেডিয়াম উল্লাসে ফেটে পড়ে। কিন্তু বিধাতার বিধান ছিল ভিন্ন! ৬৬ মিনিটে হুয়ান আলবার্তো শিয়াফিনো উরুগুয়ের হয়ে সমতাসূচক গোলটি করেন। তখনও কেউ ভাবেনি, এরপর কী অপেক্ষা করছে!

ম্যাচের ৭৯ মিনিটে আলসিদেস ঘিঘিয়া ইতিহাস রচনা করেন। ডান দিক থেকে এগিয়ে গিয়ে তার নেওয়া শট জালে জড়িয়ে গেলে মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো মারাকানা। লাখো দর্শকের চোখের সামনে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।

উরুগুয়ের সেই জয়কে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় অলৌকিক ঘটনা হিসেবে গণ্য করা হয়। শুধু ফলাফলের জন্যই নয়, অপ্রতিরোধ্য ফেবারিটদের বিপক্ষে যেভাবে তারা এই জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল, তা আজও বিস্ময়কর। সেই ম্যাচের নায়ক ঘিঘিয়া তখন মাত্র ২৩ বছর বয়সী তরুণ ছিলেন এবং টুর্নামেন্টে উরুগুয়ের চারটি ম্যাচেই খেলেছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক

ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসকে কাঁদানো ‘মারাকানাজো’: এক অবিস্মরণীয় ট্র্যাজেডি

আপডেট সময় : ০২:১৭:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

১৯৫০ সালের ১৬ জুলাই। পুরো ব্রাজিল এক মহোৎসবের জন্য প্রস্তুত ছিল, বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে বিভোর। রিও ডি জেনেইরোর ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়াম ছিল এই উন্মাদনার কেন্দ্রবিন্দু। প্রায় দুই লাখ দর্শক স্বাগতিকদের জয় কামনা করছিলেন। কিন্তু ফুটবল কখনও কখনও এমন নাটক মঞ্চস্থ করে যা কল্পনাকেও হার মানায়। সেই রাতে ব্রাজিলের জন্ম হয়েছিল এক এমন অধ্যায়ের, যা আজও সেলেসাওদের চোখে জল এনে দেয়। সেই ঐতিহাসিক ফাইনালটি আজও ‘মারাকানাজো’ নামে পরিচিত।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটিই ছিল প্রথম বিশ্বকাপ। ১৯৫০ সালে যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে ফুটবল বিশ্বমঞ্চে ফিরেছিল। সেই আসরের ফরম্যাট ছিল বর্তমানের চেয়ে ভিন্ন; মাত্র ১৩টি দল অংশ নিয়েছিল, যার মধ্যে ছয়টি ইউরোপ এবং সাতটি আমেরিকা মহাদেশ থেকে এসেছিল। চারটি গ্রুপে বিভক্ত দলগুলোর মধ্যে প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দল চূড়ান্ত রাউন্ড-রবিন পর্বে উন্নীত হয়েছিল।

চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেয় ব্রাজিল, উরুগুয়ে, স্পেন ও সুইডেন। ব্রাজিল দুর্দান্ত খেলে স্পেন ও সুইডেনকে পরাজিত করে। অন্যদিকে, উরুগুয়ে স্পেনের সাথে ড্র করে এবং সুইডেনকে হারিয়ে ব্রাজিলের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হয়।

স্বাগতিক ব্রাজিল তখন অপ্রতিরোধ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। সংবাদপত্রগুলো তাদের জয় নিয়ে আগাম ভবিষ্যদ্বাণী করছিল, অনেকেই ফাইনালকে কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা মনে করছিলেন। ম্যাচের ৪৭ মিনিটে ফ্রিয়াকা গোল করে ব্রাজিলকে এগিয়ে দিলে মারাকানা স্টেডিয়াম উল্লাসে ফেটে পড়ে। কিন্তু বিধাতার বিধান ছিল ভিন্ন! ৬৬ মিনিটে হুয়ান আলবার্তো শিয়াফিনো উরুগুয়ের হয়ে সমতাসূচক গোলটি করেন। তখনও কেউ ভাবেনি, এরপর কী অপেক্ষা করছে!

ম্যাচের ৭৯ মিনিটে আলসিদেস ঘিঘিয়া ইতিহাস রচনা করেন। ডান দিক থেকে এগিয়ে গিয়ে তার নেওয়া শট জালে জড়িয়ে গেলে মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো মারাকানা। লাখো দর্শকের চোখের সামনে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।

উরুগুয়ের সেই জয়কে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় অলৌকিক ঘটনা হিসেবে গণ্য করা হয়। শুধু ফলাফলের জন্যই নয়, অপ্রতিরোধ্য ফেবারিটদের বিপক্ষে যেভাবে তারা এই জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল, তা আজও বিস্ময়কর। সেই ম্যাচের নায়ক ঘিঘিয়া তখন মাত্র ২৩ বছর বয়সী তরুণ ছিলেন এবং টুর্নামেন্টে উরুগুয়ের চারটি ম্যাচেই খেলেছিলেন।