ঢাকা ১১:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ ফুটবলের মাসকট: ১৯৬৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিবর্তনের ইতিহাস

ফুটবল বিশ্বকাপ কেবল মাঠের লড়াই নয়, এটি বিশ্বজুড়ে সংস্কৃতি ও আবেগের এক মিলনমেলা। প্রতিটি আসরকে স্মরণীয় করে রাখতে আয়োজক দেশগুলো বিশেষ কিছু প্রতীক বা ‘মাসকট’ ব্যবহার করে। এই মাসকটগুলো কখনও কোনো প্রাণী, কখনও শিশু বা কাল্পনিক চরিত্রের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরে।

বিশ্বকাপের শুরুর দিকের আসরগুলোতে মাসকটের প্রচলন ছিল না। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ‘উইলি’ নামের একটি সিংহের মাধ্যমে মাসকটের যাত্রা শুরু হয়। এরপর থেকে প্রতিটি আসরেই মাসকট একটি অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। ব্রিটিশ পতাকার আদলে জার্সি পরা সিংহ ‘উইলি’ মুহূর্তেই বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল এবং সেবারই ইংল্যান্ড তাদের একমাত্র বিশ্বকাপ ট্রফিটি জয় করে।

১৯৭০ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপে মাসকট হিসেবে বেছে নেওয়া হয় ‘হুয়ানিতো’ নামের এক মেক্সিকান শিশুকে। মাথায় ঐতিহ্যবাহী সোমব্রেরো টুপি পরা সেই কিশোরের হাসিমাখা মুখ ফুটবলের আনন্দকেই ফুটিয়ে তুলেছিল। এরপর ১৯৭৪ সালে পশ্চিম জার্মানি তাদের মাসকট হিসেবে দুই শিশুকে বেছে নেয়, যাদের নাম ছিল ‘টিপ’ এবং ‘ট্যাপ’। এই দুই চরিত্রের মাধ্যমে তৎকালীন পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির ঐক্যের বার্তা দেওয়া হয়েছিল বলে মনে করা হয়।

১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে মাসকট হিসেবে আসে ‘গাউচিতো’। এটি ছিল মূলত আর্জেন্টিনার কাউবয় সংস্কৃতির একটি প্রতীকী রূপ। গায়ে আর্জেন্টিনার জার্সি, গলায় হলুদ স্কার্ফ আর হাতে ঐতিহ্যবাহী চাবুক নিয়ে গাউচিতো আর্জেন্টিনার লোকজ সংস্কৃতিকে ফুটবল বিশ্বের কাছে তুলে ধরেছিল। এভাবেই প্রতিটি আসরে মাসকটগুলো বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক একটি বিশেষ অধ্যায় হয়ে রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক

বিশ্বকাপ ফুটবলের মাসকট: ১৯৬৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিবর্তনের ইতিহাস

আপডেট সময় : ০২:৩৫:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

ফুটবল বিশ্বকাপ কেবল মাঠের লড়াই নয়, এটি বিশ্বজুড়ে সংস্কৃতি ও আবেগের এক মিলনমেলা। প্রতিটি আসরকে স্মরণীয় করে রাখতে আয়োজক দেশগুলো বিশেষ কিছু প্রতীক বা ‘মাসকট’ ব্যবহার করে। এই মাসকটগুলো কখনও কোনো প্রাণী, কখনও শিশু বা কাল্পনিক চরিত্রের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরে।

বিশ্বকাপের শুরুর দিকের আসরগুলোতে মাসকটের প্রচলন ছিল না। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ‘উইলি’ নামের একটি সিংহের মাধ্যমে মাসকটের যাত্রা শুরু হয়। এরপর থেকে প্রতিটি আসরেই মাসকট একটি অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। ব্রিটিশ পতাকার আদলে জার্সি পরা সিংহ ‘উইলি’ মুহূর্তেই বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল এবং সেবারই ইংল্যান্ড তাদের একমাত্র বিশ্বকাপ ট্রফিটি জয় করে।

১৯৭০ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপে মাসকট হিসেবে বেছে নেওয়া হয় ‘হুয়ানিতো’ নামের এক মেক্সিকান শিশুকে। মাথায় ঐতিহ্যবাহী সোমব্রেরো টুপি পরা সেই কিশোরের হাসিমাখা মুখ ফুটবলের আনন্দকেই ফুটিয়ে তুলেছিল। এরপর ১৯৭৪ সালে পশ্চিম জার্মানি তাদের মাসকট হিসেবে দুই শিশুকে বেছে নেয়, যাদের নাম ছিল ‘টিপ’ এবং ‘ট্যাপ’। এই দুই চরিত্রের মাধ্যমে তৎকালীন পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির ঐক্যের বার্তা দেওয়া হয়েছিল বলে মনে করা হয়।

১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে মাসকট হিসেবে আসে ‘গাউচিতো’। এটি ছিল মূলত আর্জেন্টিনার কাউবয় সংস্কৃতির একটি প্রতীকী রূপ। গায়ে আর্জেন্টিনার জার্সি, গলায় হলুদ স্কার্ফ আর হাতে ঐতিহ্যবাহী চাবুক নিয়ে গাউচিতো আর্জেন্টিনার লোকজ সংস্কৃতিকে ফুটবল বিশ্বের কাছে তুলে ধরেছিল। এভাবেই প্রতিটি আসরে মাসকটগুলো বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক একটি বিশেষ অধ্যায় হয়ে রয়েছে।