আসল নামের চেয়ে পোশাকি নামেই বেশি পরিচিত তিনি। কখনও হাস্যরসাত্মক, কখনও স্পর্শকাতর বিষয়ে সংবেদনশীল কনটেন্ট তৈরি করে বারবার নেটদুনিয়ার নজর কেড়েছেন। অসংখ্য কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ভিড়েও নিজস্ব ঢংয়ে আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছেন তিনি। আলু-ফুলকপির গল্প কিংবা ‘মিষ্টি বাপী’ সিরিজ দিয়ে লাখো দর্শকের মন জয় করা সেই ‘বাঙালি বাবু’ এবার পৌঁছে গেলেন বিশ্বমঞ্চে।
পশ্চিমা আড়ম্বরপূর্ণ পোশাক নয়, নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য নিয়েই কান চলচ্চিত্র উৎসবের লালগালিচায় হাঁটলেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেতা নিরঞ্জন মণ্ডল, যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘লাফটারসেন’ নামেই বেশি পরিচিত।
ডিজিটাল দুনিয়ায় প্রতিদিনের চেনা বাঙালি সংস্কৃতি ও পারিবারিক চালচিত্রকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলে ইতোমধ্যে ১০ লাখের বেশি ফলোয়ার ভক্ত তৈরি হয়েছে নিরঞ্জনের। এতদিন ঘিঞ্জি শোবারঘর, কোলাহলপূর্ণ বারান্দা কিংবা বসার ঘরের মধ্যবিত্ত হট্টগোলের মধ্যে যাকে ভিডিও শুট করতে দেখেছে জেন-জি প্রজন্ম, সেই চিরচেনা নিরঞ্জনকে কানের লালগালিচায় হাঁটতে দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ভক্তরা একে ইন্টারনেটের ‘সাফল্যের চূড়ান্ত মুহূর্ত’ হিসেবে দেখছেন।
নিজের বিশ্বমঞ্চে অভিষেকের খবরটি জানিয়ে নিরঞ্জন লিখেছেন, ‘কান চলচ্চিত্র উৎসবে আমাদের অভিষেক হতে যাচ্ছে… মনে হচ্ছে একটা স্বপ্ন সত্যি হলো।’ খবরটি শেয়ার করার পরপরই জনপ্রিয় তারকা ও সহ-কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের শুভেচ্ছাবার্তায় ভেসে যান তিনি।
নিরঞ্জনের এই যাত্রা তরুণ প্রজন্ম ও আঞ্চলিক কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের কাছে অত্যন্ত ব্যক্তিগত ও অনুপ্রেরণার। গ্ল্যামার আর কৃত্রিমতার দুনিয়ায় নিজেকে টিকিয়ে রাখতে নিরঞ্জন কখনও নিজের কনটেন্ট থেকে ‘বাঙালিয়ানা’ বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেননি। বাঙালি পরিবারের প্রতিদিনের ড্রামা, মধ্যবিত্তের টানাপোড়েন, আবেগের ব্ল্যাকমেইল, অদ্ভুত আত্মীয়স্বজন, ঘ্যানঘ্যানে মা আর স্থানীয় পরনিন্দা-পরচর্চার মতো খাঁটি দেশি বিষয়গুলোকে তিনি তার কমেডির মূল হাতিয়ার করেছেন। এই একেবারে স্থানীয় গল্প বলার ধরনই তাকে আজ বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করে তুলেছে।
চলতি কান চলচ্চিত্র উৎসবে এবার ভারতীয় ডিজিটাল ক্রিয়েটরদের এক বিশাল উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 

























