ঢাকা ০৭:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

তামিলনাড়ুতে চন্দ্রশেখর বিজয় আস্থাভোটে জয়ী, জ্যোতিষী নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৯:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

তামিলনাড়ুর বিধানসভায় নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ও জনপ্রিয় তারকা-রাজনীতিবিদ চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয় (থালাপতি বিজয়) আস্থাভোটে জয়ী হয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন দিনের মাথায় তিনি বিধানসভায় নিজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করেন। ১৪৪ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে তিনি নিজের অবস্থানকে সুদৃঢ় করেছেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগাম (টিভিকে) একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন আদায়ে তাকে বিভিন্ন ছোট দলের সাথে দেন-দরবার করতে হয়েছে, অবশেষে সেই বাধা পেরিয়ে তিনি স্বস্তির জয় লাভ করেছেন।

আস্থাভোটের প্রক্রিয়াটি বেশ নাটকীয় ছিল। বিধানসভার অভ্যন্তরে হট্টগোল, বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং ওয়াকআউটের মতো ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে বিরোধীদল এআইএডিএমকে-র অভ্যন্তরীণ কোন্দল ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। দলটির একটি বিদ্রোহী অংশ সিনিয়র নেতা সি ভি শানমুগাম ও এস পি ভেলুমানির নেতৃত্বে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়কে সমর্থন জানায়। তাদের অভিযোগ ছিল, দলের সাধারণ সম্পাদক এদাপ্পাদি কে পালানিস্বামী (ইপিএস) ডিএমকে-র সাথে হাত মেলানোর চেষ্টা করছেন। পালানিস্বামীর নেতৃত্বাধীন বাকি ৪৭ জন বিধায়ক বিজয়ের বিরোধিতা করলেও বিদ্রোহী ব্লকের ২৫ জন বিধায়ক সরকারকে সমর্থন দেন।

আস্থাভোটে ডিএমকে বিধায়ক ও বিরোধী দলীয় নেতা এম কে স্ট্যালিন বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন এবং এআইএডিএমকে-র একাংশের সমর্থন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ভোটের আগে বিজয় কেন তার নির্বাচনী এলাকা ত্রিচি (পূর্ব) পরিদর্শনে যাননি, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। স্ট্যালিন দাবি করেন, রাজ্যের ৬৫ শতাংশ মানুষ টিভিকে-কে ভোট দেয়নি। এরপর ডিএমকে বিধায়করা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ওয়াকআউট করছি। আপনাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ হয়ে যাবে। তবে ডিএমকে সরকারের চালু করা কল্যাণমুখী প্রকল্পগুলোতে রাজনীতি না করার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

আস্থাভোটের সময় মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের ব্যক্তিগত জ্যোতিষী রিকি রাধান পণ্ডিত ভেট্রিভেলকে ‘অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি’ (ওএসডি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়। এমজেকে এবং ডিএমডিকে দলগুলোর আপত্তির মুখে বিজয় আস্থাভোট জয়ের পরপরই এই নিয়োগ বাতিল করেন। আস্থাভোটের পর নিজের বক্তব্যে বিজয় সবাইকে নিয়ে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং বলেছেন, তার সরকার হবে ‘সাধারণ মানুষ’র সরকার।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে শুদ্ধি অভিযান: দুর্নীতির অভিযোগে পদচ্যুত কর্মকর্তা

তামিলনাড়ুতে চন্দ্রশেখর বিজয় আস্থাভোটে জয়ী, জ্যোতিষী নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক

আপডেট সময় : ০৮:০৯:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

তামিলনাড়ুর বিধানসভায় নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ও জনপ্রিয় তারকা-রাজনীতিবিদ চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয় (থালাপতি বিজয়) আস্থাভোটে জয়ী হয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন দিনের মাথায় তিনি বিধানসভায় নিজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করেন। ১৪৪ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে তিনি নিজের অবস্থানকে সুদৃঢ় করেছেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগাম (টিভিকে) একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন আদায়ে তাকে বিভিন্ন ছোট দলের সাথে দেন-দরবার করতে হয়েছে, অবশেষে সেই বাধা পেরিয়ে তিনি স্বস্তির জয় লাভ করেছেন।

আস্থাভোটের প্রক্রিয়াটি বেশ নাটকীয় ছিল। বিধানসভার অভ্যন্তরে হট্টগোল, বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং ওয়াকআউটের মতো ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে বিরোধীদল এআইএডিএমকে-র অভ্যন্তরীণ কোন্দল ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। দলটির একটি বিদ্রোহী অংশ সিনিয়র নেতা সি ভি শানমুগাম ও এস পি ভেলুমানির নেতৃত্বে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়কে সমর্থন জানায়। তাদের অভিযোগ ছিল, দলের সাধারণ সম্পাদক এদাপ্পাদি কে পালানিস্বামী (ইপিএস) ডিএমকে-র সাথে হাত মেলানোর চেষ্টা করছেন। পালানিস্বামীর নেতৃত্বাধীন বাকি ৪৭ জন বিধায়ক বিজয়ের বিরোধিতা করলেও বিদ্রোহী ব্লকের ২৫ জন বিধায়ক সরকারকে সমর্থন দেন।

আস্থাভোটে ডিএমকে বিধায়ক ও বিরোধী দলীয় নেতা এম কে স্ট্যালিন বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন এবং এআইএডিএমকে-র একাংশের সমর্থন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ভোটের আগে বিজয় কেন তার নির্বাচনী এলাকা ত্রিচি (পূর্ব) পরিদর্শনে যাননি, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। স্ট্যালিন দাবি করেন, রাজ্যের ৬৫ শতাংশ মানুষ টিভিকে-কে ভোট দেয়নি। এরপর ডিএমকে বিধায়করা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ওয়াকআউট করছি। আপনাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ হয়ে যাবে। তবে ডিএমকে সরকারের চালু করা কল্যাণমুখী প্রকল্পগুলোতে রাজনীতি না করার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

আস্থাভোটের সময় মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের ব্যক্তিগত জ্যোতিষী রিকি রাধান পণ্ডিত ভেট্রিভেলকে ‘অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি’ (ওএসডি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়। এমজেকে এবং ডিএমডিকে দলগুলোর আপত্তির মুখে বিজয় আস্থাভোট জয়ের পরপরই এই নিয়োগ বাতিল করেন। আস্থাভোটের পর নিজের বক্তব্যে বিজয় সবাইকে নিয়ে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং বলেছেন, তার সরকার হবে ‘সাধারণ মানুষ’র সরকার।