রাজধানীর শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধ আইনের একটি মামলায় সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। বুধবার (১৩ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে লতিফ সিদ্দিকীর পক্ষে তার আইনজীবী এই আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আসামির ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফ করে আবেদনটি মঞ্জুর করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের শাহবাগ থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিন মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্ধারিত ছিল। তবে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক তৌফিক হাসান আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। ফলে, আগামী ২৪ জুলাই প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।
এর আগে লতিফ সিদ্দিকীর পক্ষে তার আইনজীবী আদালতে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে মওকুফের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। এসময় লতিফ সিদ্দিকী বিচারকের উদ্দেশে বলেন, ‘এভাবে বিচারব্যবস্থা চলতে পারে না। গত ৬ মাস আগে এ মামলায় আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছিল। আজ এ আদেশ দিলেন। আমি আদালতে আসব, হাজিরা দেব। আমার আসতে ভালো লাগে, অভ্যাস হয়ে গেছে।’ বিচারক উত্তরে বলেন, ‘সেটি আপনার ইচ্ছে। আপনার আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে।’ পরে তিনি হাসিমুখে আদালত ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে লতিফ সিদ্দিকীর আইনজীবী গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘এ মামলায় তার ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফের আবেদন করা হয়েছিল। আদালত এ আবেদন মঞ্জুর করেছেন। তবে লতিফ সিদ্দিকী আদালতকে বলেছেন, তিনি সশরীরে আদালতে এসে হাজিরা দেবেন।’
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৮ আগস্ট বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির একটি অনুষ্ঠান থেকে লতিফ সিদ্দিকী, সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্নাসহ ১৬ জনকে আটক করা হয়। পরদিন শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধ আইনে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ৬ নভেম্বর বিচারপতি এ এস এম আবদুল মোবিন ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ লতিফ সিদ্দিকী ও সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্নাকে অন্তর্বর্তী জামিন দেন। জামিন বাতিল চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করলেও বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির আপিল বেঞ্চ তাদের জামিন বহাল রাখেন। পরে তারা কারামুক্ত হন।
রিপোর্টারের নাম 






















