ঢাকা ১২:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন: শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট নিরসনে বড় পদক্ষেপ

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প অবশেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করেছে। নতুন সরকারের দ্বিতীয় একনেক সভায় প্রায় ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। এর পাশাপাশি, সভায় প্রায় ২৪ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আরও ১৬টি উন্নয়ন প্রকল্পও উপস্থাপন করা হয়।

বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় মোট ১৬টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ১১ নম্বর কার্যতালিকায় থাকা পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পটি বিশেষ গুরুত্ব পায়। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো ফারাক্কা বাঁধের কারণে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশে যে পানির সংকট দেখা দেয়, তা থেকে মুক্তি পাওয়া। কয়েক দশকের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অবশেষে ‘পদ্মা ব্যারাজ’ নামে প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেল। গত মাসে পরিকল্পনা কমিশন এটি বর্তমান সরকারের প্রথম একনেক সভায় উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুতি নিলেও শেষ মুহূর্তে তা প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র অনুযায়ী, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পটি চলতি বছর থেকে ২০৩৩ সালের জুন মাস পর্যন্ত বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো)। প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ৫০ হাজার ৪৪৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। তবে, প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে এবং প্রথম ধাপের জন্য ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রকল্পের সম্পূর্ণ অর্থায়ন সরকারি তহবিল থেকেই করা হবে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যারাজ নির্মাণের মাধ্যমে পদ্মা নদীতে প্রায় দুই হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এই সংরক্ষিত পানি দিয়ে হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল এবং ইছামতী—এই পাঁচটি নদীর পানিপ্রবাহ পুনরুজ্জীবিত করা হবে। এর ফলে শুষ্ক মৌসুমে জল ব্যবস্থাপনায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়েও প্রধান শিক্ষকের পদে দীপক, নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন: শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট নিরসনে বড় পদক্ষেপ

আপডেট সময় : ০৩:৩৩:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প অবশেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করেছে। নতুন সরকারের দ্বিতীয় একনেক সভায় প্রায় ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। এর পাশাপাশি, সভায় প্রায় ২৪ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আরও ১৬টি উন্নয়ন প্রকল্পও উপস্থাপন করা হয়।

বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় মোট ১৬টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ১১ নম্বর কার্যতালিকায় থাকা পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পটি বিশেষ গুরুত্ব পায়। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো ফারাক্কা বাঁধের কারণে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশে যে পানির সংকট দেখা দেয়, তা থেকে মুক্তি পাওয়া। কয়েক দশকের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অবশেষে ‘পদ্মা ব্যারাজ’ নামে প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেল। গত মাসে পরিকল্পনা কমিশন এটি বর্তমান সরকারের প্রথম একনেক সভায় উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুতি নিলেও শেষ মুহূর্তে তা প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র অনুযায়ী, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পটি চলতি বছর থেকে ২০৩৩ সালের জুন মাস পর্যন্ত বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো)। প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ৫০ হাজার ৪৪৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। তবে, প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে এবং প্রথম ধাপের জন্য ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রকল্পের সম্পূর্ণ অর্থায়ন সরকারি তহবিল থেকেই করা হবে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যারাজ নির্মাণের মাধ্যমে পদ্মা নদীতে প্রায় দুই হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এই সংরক্ষিত পানি দিয়ে হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল এবং ইছামতী—এই পাঁচটি নদীর পানিপ্রবাহ পুনরুজ্জীবিত করা হবে। এর ফলে শুষ্ক মৌসুমে জল ব্যবস্থাপনায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।