টেস্ট ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই সব আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন পেসার নাহিদ রানা। পাকিস্তানের ক্রিকেটাররাও তাকে নিয়ে বিশেষ চিন্তিত ছিলেন, এমনকি শাহিন শাহ আফ্রিদি প্রকাশ্যেই নাহিদ রানার জ্বলে না ওঠার আশা প্রকাশ করেছিলেন। ম্যাচের প্রথম ইনিংসে কিছুটা খরুচে হলেও (২১ ওভারে ১০৪ রান দিয়ে ১ উইকেট), শেষ দিনের শেষ সেশনে নাহিদ রানা তার আসল রূপ দেখালেন। ৯.৫ ওভারে মাত্র ৪০ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে তিনি একাই গুঁড়িয়ে দিলেন পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ, এনে দিলেন বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এক জয়।
শেষ দিনে বাংলাদেশকে ২৬৮ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দেয় পাকিস্তান। মাঝের সেশনে ভালো ব্যাটিং করে তারা লক্ষ্যটা অনেকটা কমিয়ে আনলেও, শেষ সেশনে জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন ছিল ১৫২ রান, হাতে ৭ উইকেট এবং খেলা বাকি ৪৫ ওভার। কিন্তু নাহিদ রানার এক স্পেলেই সেই সহজ হিসাব কঠিন হয়ে গেল। তার সুইং ও রিভার্স সুইংয়ের জাদুতে পাকিস্তানের শান মাসুদ, সৌদ শাকিল এবং মোহাম্মদ রিজওয়ানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটাররা সাজঘরে ফিরলেন। এরপর লেজের সারির আরও দুই ব্যাটারকে ফিরিয়ে দিয়ে তিনি বাংলাদেশকে এনে দেন ১০৪ রানের বিশাল জয়। পাকিস্তান গুটিয়ে যায় মাত্র ১৬৩ রানে, তখনো দিনের ২৩ ওভার খেলা বাকি ছিল।
এই জয়ের মাধ্যমে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সামনে পাকিস্তানের অসহায়ত্ব আরও একবার প্রমাণিত হলো। গত তিনটি টেস্টে বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তান টানা হেরেছে। দুই বছর আগে রাওয়ালপিন্ডিতে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের পর, এবার দুই টেস্টের সিরিজে বাংলাদেশ ১-০ তে এগিয়ে গেল। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং এবং অধিনায়কত্বের কৌশল—ক্রিকেটের প্রায় সব বিভাগেই ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশ পাকিস্তানের ওপর ছড়ি ঘুরিয়েছে, যা দেশের মাটিতে পাকিস্তানকে হারানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দাপটকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
শেষ দিনের সকালে বাংলাদেশ আগের দিনের ১৭৯ রানের সঙ্গে আরও ৮৮ রান যোগ করে ৬ উইকেট হারায়। এদিনও ব্যাট হাতে দলের সেরা পারফর্মার ছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, যিনি যেভাবে ব্যাট করছিলেন তাতে মনে হচ্ছিল টেস্টের উভয় ইনিংসে সেঞ্চুরি হাঁকাবেন।
রিপোর্টারের নাম 

























