ঢাকা ০৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ভেনামি চিংড়ি চাষে কাটছে স্থগিতাদেশ: রপ্তানি বৃদ্ধিতে নতুন দিগন্তের হাতছানি

বাংলাদেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত থেকে ভেনামি চিংড়ি চাষের পোনা আমদানি ও চাষের ওপর থেকে স্থগিতাদেশ খুব দ্রুত উঠে যাচ্ছে। বিশ্ববাজারের চাহিদা এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা বিবেচনা করে বর্তমান সরকার এই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

চিংড়ি খাত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। হাজারো খামারি দেশীয় প্রজাতির গলদা ও বাগদা চিংড়ি চাষের ওপর নির্ভরশীল। এই ধারাবাহিকতায়, বর্তমানে মৎস্য খাতের নতুন সম্ভাবনা হিসেবে ভেনামি চিংড়ি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে, গত জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার ভেনামি চিংড়িকে আমদানিনির্ভর প্রজাতি উল্লেখ করে এর পোনা আমদানি ও চাষ কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছিলেন। বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতা ছিল এর অন্যতম কারণ।

ইতিমধ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ভেনামি চিংড়ি চাষের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং বাণিজ্যিক প্রসারের লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ে এ বিষয়ে পর্যালোচনা সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে দ্রুত ভেনামি চিংড়ি পোনা আমদানির স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ভেনামি চিংড়ি চাষের বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক দিক রয়েছে। সাধারণ চিংড়ির তুলনায় এটি অধিক ঘনত্বে চাষ করা যায়, দ্রুত বর্ধনশীল এবং ৮০ থেকে ১২০ দিনের মধ্যেই বাজারজাত করার উপযোগী হয়। অন্যান্য চিংড়ির তুলনায় এর উৎপাদন খরচ অপেক্ষাকৃত কম এবং এটি আধুনিক প্রযুক্তিতে চাষ করা সম্ভব।

সূত্র আরও জানায়, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, ফেনী ও কক্সবাজার জেলায় মোট ৩৩টি প্রতিষ্ঠানকে এর আগে চিংড়ি চাষের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া, সাতক্ষীরা, খুলনা ও কক্সবাজার জেলায় সাতটি হ্যাচারিকে ভেনামি চিংড়ির পোনা (পিএল) উৎপাদনের অনুমতিও দেওয়া হয়। তবে স্থগিতাদেশের কারণে এই মুহূর্তে তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে যারা ব্রুড চিংড়ি ও খাদ্য আমদানি করতে চাচ্ছেন, তাদের আমদানি কার্যক্রমও বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে উৎপাদিত মোট চিংড়ির প্রায় ৮০ শতাংশই ভেনামি চিংড়ি। তাই এর রপ্তানি সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি। ভারত, ভিয়েতনাম, ইকুয়েডর ও থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলো এই চিংড়ি চাষ করে তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশ শুধু বাগদার ওপর নির্ভর করে বিশ্ববাজারের একটি বড় অংশ হারাচ্ছে, যা ভেনামি চাষের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিক্ষোভের পর মুক্তি পেলেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা সহ কংগ্রেস নেতারা

ভেনামি চিংড়ি চাষে কাটছে স্থগিতাদেশ: রপ্তানি বৃদ্ধিতে নতুন দিগন্তের হাতছানি

আপডেট সময় : ০২:১০:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

বাংলাদেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত থেকে ভেনামি চিংড়ি চাষের পোনা আমদানি ও চাষের ওপর থেকে স্থগিতাদেশ খুব দ্রুত উঠে যাচ্ছে। বিশ্ববাজারের চাহিদা এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা বিবেচনা করে বর্তমান সরকার এই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

চিংড়ি খাত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। হাজারো খামারি দেশীয় প্রজাতির গলদা ও বাগদা চিংড়ি চাষের ওপর নির্ভরশীল। এই ধারাবাহিকতায়, বর্তমানে মৎস্য খাতের নতুন সম্ভাবনা হিসেবে ভেনামি চিংড়ি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে, গত জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার ভেনামি চিংড়িকে আমদানিনির্ভর প্রজাতি উল্লেখ করে এর পোনা আমদানি ও চাষ কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছিলেন। বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতা ছিল এর অন্যতম কারণ।

ইতিমধ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ভেনামি চিংড়ি চাষের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং বাণিজ্যিক প্রসারের লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ে এ বিষয়ে পর্যালোচনা সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে দ্রুত ভেনামি চিংড়ি পোনা আমদানির স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ভেনামি চিংড়ি চাষের বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক দিক রয়েছে। সাধারণ চিংড়ির তুলনায় এটি অধিক ঘনত্বে চাষ করা যায়, দ্রুত বর্ধনশীল এবং ৮০ থেকে ১২০ দিনের মধ্যেই বাজারজাত করার উপযোগী হয়। অন্যান্য চিংড়ির তুলনায় এর উৎপাদন খরচ অপেক্ষাকৃত কম এবং এটি আধুনিক প্রযুক্তিতে চাষ করা সম্ভব।

সূত্র আরও জানায়, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, ফেনী ও কক্সবাজার জেলায় মোট ৩৩টি প্রতিষ্ঠানকে এর আগে চিংড়ি চাষের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া, সাতক্ষীরা, খুলনা ও কক্সবাজার জেলায় সাতটি হ্যাচারিকে ভেনামি চিংড়ির পোনা (পিএল) উৎপাদনের অনুমতিও দেওয়া হয়। তবে স্থগিতাদেশের কারণে এই মুহূর্তে তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে যারা ব্রুড চিংড়ি ও খাদ্য আমদানি করতে চাচ্ছেন, তাদের আমদানি কার্যক্রমও বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে উৎপাদিত মোট চিংড়ির প্রায় ৮০ শতাংশই ভেনামি চিংড়ি। তাই এর রপ্তানি সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি। ভারত, ভিয়েতনাম, ইকুয়েডর ও থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলো এই চিংড়ি চাষ করে তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশ শুধু বাগদার ওপর নির্ভর করে বিশ্ববাজারের একটি বড় অংশ হারাচ্ছে, যা ভেনামি চাষের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।