গাজীপুর জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক হত্যাকাণ্ড, গণপিটুনি এবং অন্যান্য নৃশংসতার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে, যা জনমনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এসব ঘটনার পেছনে সামাজিক অবক্ষয়, আইনের শাসনের অভাব এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে ব্যর্থতাকে দায়ী করছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলছেন।
গত তিন দিনে জেলায় অন্তত ১১টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও, পুলিশ এগুলোকে আইনশৃঙ্খলার অবনতি বলতে রাজি নয়। তবে স্থানীয়দের মতে, এমন ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকাবাসী চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং পুলিশের এই বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মনে করছেন।
সম্প্রতি কাপাসিয়া উপজেলার রাওতকোনা গ্রামে এক মর্মান্তিক ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। নিহতদের মধ্যে একজন নারী, তার তিন মেয়ে এবং ভাই ছিলেন। এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ও নিহত নারীর স্বামী পলাতক রয়েছেন। পুলিশ প্রাথমিকভাবে এটিকে পারিবারিক কলহের জেরে সৃষ্ট হত্যাকাণ্ড হিসেবে ধারণা করছে এবং এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, তবে এখনও কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।
একই সময়ে শ্রীপুরে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে সালিশ বৈঠকে পিটিয়ে আহত করা হয়, যিনি পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এছাড়া, কালিয়াকৈর উপজেলায় গরু চুরির অভিযোগে তিন ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতরা পেশাদার গরুচোর ছিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এই গণপিটুনির ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ৫০০ জনকে আসামি করে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হলেও, এখন পর্যন্ত কোনো গ্রেফতার নেই।
রিপোর্টারের নাম 
























