সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হাওরাঞ্চলে ব্যাপক ফসলহানি ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বছরব্যাপী সহায়তা দেওয়াসহ ১৩ দফা দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, পূর্ববর্তী কোনো সরকারই হাওরের সমস্যাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখেনি, বরং ভাসাভাসা কর্মসূচি নিয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় করেছে।
গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হাওরাঞ্চলের সাত জেলায় প্রায় অর্ধলক্ষ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। অপরিকল্পিত নির্মাণকাজ, দুর্বল বাঁধ, যত্রতত্র পল্লিসড়ক এবং ইজারাদারদের দৌরাত্ম্যে হাওরের জলাধারগুলোর গভীরতা কমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির কারণেই এই বিপর্যয়। গ্রীষ্মকালেই এমন পরিস্থিতি হওয়ায় আসন্ন বর্ষা ও বন্যার মৌসুমে কৃষকদের জন্য আরও বড় বিপদ অপেক্ষা করছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বিস্তীর্ণ হাওর এলাকা প্লাবিত হয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, কিশোরগঞ্জে ১৩ হাজার ১২২ হেক্টর জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে, যা প্রায় ৫০ হাজার কৃষককে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
সুনামগঞ্জের কৃষকদের জীবনেও একই চিত্র। একদিকে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, অন্যদিকে পানিতে ডুবে থাকা পাকা ধান কাটার জন্য তীব্র শ্রমিকসংকট। বেশি পারিশ্রমিক দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। জেলা প্রশাসক নিজেও স্বীকার করেছেন যে, শ্রমিকসংকটের কারণে এবার শতভাগ ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হবে না। ফলে বিপুল পরিমাণ ধান নষ্ট হবে এবং অসংখ্য কৃষকের স্বপ্ন ভঙ্গ হবে।
শ্রমিকসংকটের মূল কারণ হলো, হাওরে একসময় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ধান কাটার শ্রমিকেরা আসতেন, কিন্তু এখন তাদের আসা কমে গেছে। পাশাপাশি ধান কাটার যন্ত্র চালু হওয়ায় স্থানীয় শ্রমিকেরা আর আগের মতো ধান কাটেন না। ফলে ধান যখন পানির নিচে চলে গেছে, তখন সেই ধান কেটে ঘরে তোলার মতো পর্যাপ্ত শ্রমিক মিলছে না।
রিপোর্টারের নাম 

























