ঢাকা ০৭:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

টিকা কেনা নিয়ে জটিলতা: দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে শিশুদের মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে

বাংলাদেশে সম্প্রতি হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে। মিয়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো থেকে শুরু হওয়া এই সংক্রমণ এখন দেশজুড়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাগে ইতিমধ্যে শিশুসহ দুই শতাধিক মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকটের কারণে রোগীরা মেঝেতে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। আক্রান্তদের একটি বড় অংশই হাম-রুবেলার (এমআর) প্রয়োজনীয় টিকা পাননি বলে জানা গেছে।

দীর্ঘ দুই দশক ধরে বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচি অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। নিয়মিত টিকাদান ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় প্রায় ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় এনে ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছিল। তবে সম্প্রতি টিকা কেনার পদ্ধতি পরিবর্তন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতাই এই সংকটের মূলে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্বচ্ছতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ইউনিসেফের পরিবর্তে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে টিকা কেনার সিদ্ধান্ত নেয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইউনিসেফের তৎকালীন কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ এই পরিবর্তনের ফলে টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে দেওয়া সতর্কবার্তায় তিনি জানিয়েছিলেন যে, নতুন পদ্ধতিতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বাড়লে টিকার সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। বর্তমানে সেই আশঙ্কাই বাস্তবে রূপ নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের নতুন ক্রয় মডেল নিয়ে উদ্বেগ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার স্থবিরতা দেশের শিশুদের এক চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেনীতে প্রবাসীর স্ত্রী হত্যা রহস্য উন্মোচন: ডাকাতির উদ্দেশ্যে ঢুকে খুন, ভাগ্নে গ্রেপ্তার

টিকা কেনা নিয়ে জটিলতা: দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে শিশুদের মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে

আপডেট সময় : ১২:৪৫:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

বাংলাদেশে সম্প্রতি হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে। মিয়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো থেকে শুরু হওয়া এই সংক্রমণ এখন দেশজুড়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাগে ইতিমধ্যে শিশুসহ দুই শতাধিক মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকটের কারণে রোগীরা মেঝেতে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। আক্রান্তদের একটি বড় অংশই হাম-রুবেলার (এমআর) প্রয়োজনীয় টিকা পাননি বলে জানা গেছে।

দীর্ঘ দুই দশক ধরে বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচি অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। নিয়মিত টিকাদান ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় প্রায় ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় এনে ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছিল। তবে সম্প্রতি টিকা কেনার পদ্ধতি পরিবর্তন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতাই এই সংকটের মূলে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্বচ্ছতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ইউনিসেফের পরিবর্তে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে টিকা কেনার সিদ্ধান্ত নেয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইউনিসেফের তৎকালীন কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ এই পরিবর্তনের ফলে টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে দেওয়া সতর্কবার্তায় তিনি জানিয়েছিলেন যে, নতুন পদ্ধতিতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বাড়লে টিকার সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। বর্তমানে সেই আশঙ্কাই বাস্তবে রূপ নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের নতুন ক্রয় মডেল নিয়ে উদ্বেগ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার স্থবিরতা দেশের শিশুদের এক চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।