ফুটবল চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার নাম এবার দাবার বিশ্বেও উজ্জ্বল করলেন তাদের বিস্ময় বালক ফাস্তিনো ওরো। মাত্র ১২ বছর ৬ মাস ২৮ দিন বয়সে তিনি বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ গ্র্যান্ডমাস্টার হয়ে ইতিহাস গড়েছেন। এই অবিশ্বাস্য কৃতিত্বের মাধ্যমে ‘দাবার মেসি’ খ্যাত ফাস্তিনো ওরো দাবা জগতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। তার অসাধারণ মেধা, আত্মবিশ্বাস এবং আক্রমণাত্মক খেলার ধরণ বিশ্ব দাবা অঙ্গনে এরই মধ্যে মুগ্ধতা ছড়িয়েছে।
বর্তমানে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ গ্র্যান্ডমাস্টারের রেকর্ডটি মার্কিন দাবাড়ু অভিমান্নু মিশ্রার দখলে, যিনি মাত্র ১২ বছর ৪ মাস ২৫ দিনে এই খেতাব অর্জন করেছিলেন। ২০১৩ সালের ১৪ অক্টোবর আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসে জন্ম নেওয়া ফাস্তিনোর দাবায় হাতেখড়ি হয় ২০২০ সালের মে মাসে কোভিড-১৯ মহামারির লকডাউনের সময়, মাত্র ছয় বছর বয়সে তার বাবার মাধ্যমে। তার বাবা নিজেও একজন দাবা অনুরাগী এবং স্থানীয় দাবা কমিউনিটির সক্রিয় সদস্য।
ফাস্তিনো খুব দ্রুত দাবার মৌলিক বিষয়গুলো আয়ত্ত করেন এবং তার অসাধারণ মেধার পরিচয় দেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি প্রথাগত অনুশীলনের পাশাপাশি অনলাইন প্রশিক্ষণও শুরু করেন। তার দ্রুত উত্থানের পথে রয়েছে বয়স ভিত্তিক অসংখ্য রেকর্ড ভাঙার গল্প। তিনি সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে ২৩০০ রেটিং অর্জন করেছেন, ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেটিংধারী ১১ বছর বয়সী দাবাড়ু হয়েছেন এবং সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে আইএম নর্ম অর্জন করেছেন (যদিও এই রেকর্ডটি পরে ইথান প্যাং ভেঙে দেন)।
মাত্র দশ বছর বয়সে তিনি একটি অনলাইন ‘বুলেট গেমে’ বর্তমান বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় ম্যাগনাস কার্লসেনকে পরাজিত করেন, যার ভিডিও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। ফাস্তিনো ১০ বছর ৮ মাস ১৬ দিন বয়সে আইএম খেতাব পান (এটিও একটি রেকর্ড ছিল যা পরে রোমান শোদঝিয়েভ ভেঙে দেন)। এগারো বছর বয়সে তিনি দাবার ইতিহাসে প্রথম অনূর্ধ্ব-১২ খেলোয়াড় হিসেবে ২৫০০ রেটিং পার করেন—যা বর্তমানে বিশ্বের ২০০ জনেরও কম সক্রিয় খেলোয়াড়ের রয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে ১২ বছর বয়সে তিনি ফিদে ওয়ার্ল্ড কাপে ম্যাচ জেতা সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হওয়ার নজির গড়েন। কাঙ্ক্ষিত গ্র্যান্ডমাস্টার টাইটেলের সন্ধানে তিনি প্রথম ধাপ সফলভাবে পার করেন ‘লিজেন্ডস অ্যান্ড প্রোডিজিস ২০২৫’ টুর্নামেন্টে, যেখানে অপরাজিত থেকে ৯ পয়েন্টের মধ্যে ৭.৫ স্কোর করে নজর কাড়েন।
রিপোর্টারের নাম 

























