ঢাকা ০৯:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬

ভুয়া ডিবি পরিচয় দিয়ে আইটি প্রকৌশলীকে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার

রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ভুয়া ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক আইটি প্রকৌশলীকে অপহরণ, শারীরিক নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের সাথে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে মতিঝিল থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো. আনোয়ার সরকার (৩০) ও মো. জহিরুল ইসলাম জহির ওরফে বাবু (২৩)। তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণের জন্য ব্যবহার করা মোবাইল ফোন এবং ভিকটিমের স্বাক্ষরসহ ৩টি ফাঁকা নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়েছে।

মতিঝিল থানা পুলিশের বরাত দিয়ে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, অপহৃত রাসেল আহমেদ একজন কম্পিউটার প্রকৌশলী। মতিঝিল মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন এ.কে. খান ভবনে তার একটি আইটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গত ১০ মার্চ বিকেলে ৫-৬ জন দুষ্কৃতকারী ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তার প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। রাসেল চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে একটি সিএনজিতে উঠিয়ে নন্দীপাড়া এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আটকে রেখে রাসেলের পরিবারের কাছে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। এসময় তার মোবাইল, ল্যাপটপ ও ক্রেডিট কার্ড ছিনিয়ে নিয়ে তাকে প্রচণ্ড শারীরিক নির্যাতন করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ভিকটিম তার স্বজনদের মাধ্যমে দফায় দফায় বিভিন্ন মাধ্যমে এক লাখ ৫৩ হাজার টাকা প্রদান করেন। পরবর্তীতে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ভিকটিমের কাছ থেকে তিনটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয় এবং একই দিন রাতে তাকে গোড়ান টেম্পুস্ট্যান্ডে ফেলে রেখে যায় অপহরণকারীরা। ঘটনার পর ভিকটিম আতঙ্কে চুপ থাকলেও সম্প্রতি অপহরণকারীরা হোয়াটসঅ্যাপে কল করে আরও ৫ লাখ টাকা দাবি করে এবং স্ট্যাম্প দিয়ে মামলা করার হুমকি দেয়। নিরুপায় হয়ে গত ৪ মে ভিকটিম মতিঝিল থানা পুলিশের সহায়তা চান এবং একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার পর তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সবুজবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে প্রথমে আনোয়ারকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ বনশ্রী এলাকা থেকে একই দিন রাতে জহিরুলকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় জহিরুলের কাছ থেকে ভিকটিমের স্বাক্ষরসহ সেই স্ট্যাম্পগুলো উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার ও মুক্তিপণের অবশিষ্ট টাকা উদ্ধারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তির নিশ্বাস, গ্রস রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো

ভুয়া ডিবি পরিচয় দিয়ে আইটি প্রকৌশলীকে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০৮:৩৩:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ভুয়া ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক আইটি প্রকৌশলীকে অপহরণ, শারীরিক নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের সাথে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে মতিঝিল থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো. আনোয়ার সরকার (৩০) ও মো. জহিরুল ইসলাম জহির ওরফে বাবু (২৩)। তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণের জন্য ব্যবহার করা মোবাইল ফোন এবং ভিকটিমের স্বাক্ষরসহ ৩টি ফাঁকা নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়েছে।

মতিঝিল থানা পুলিশের বরাত দিয়ে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, অপহৃত রাসেল আহমেদ একজন কম্পিউটার প্রকৌশলী। মতিঝিল মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন এ.কে. খান ভবনে তার একটি আইটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গত ১০ মার্চ বিকেলে ৫-৬ জন দুষ্কৃতকারী ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তার প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। রাসেল চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে একটি সিএনজিতে উঠিয়ে নন্দীপাড়া এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আটকে রেখে রাসেলের পরিবারের কাছে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। এসময় তার মোবাইল, ল্যাপটপ ও ক্রেডিট কার্ড ছিনিয়ে নিয়ে তাকে প্রচণ্ড শারীরিক নির্যাতন করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ভিকটিম তার স্বজনদের মাধ্যমে দফায় দফায় বিভিন্ন মাধ্যমে এক লাখ ৫৩ হাজার টাকা প্রদান করেন। পরবর্তীতে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ভিকটিমের কাছ থেকে তিনটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয় এবং একই দিন রাতে তাকে গোড়ান টেম্পুস্ট্যান্ডে ফেলে রেখে যায় অপহরণকারীরা। ঘটনার পর ভিকটিম আতঙ্কে চুপ থাকলেও সম্প্রতি অপহরণকারীরা হোয়াটসঅ্যাপে কল করে আরও ৫ লাখ টাকা দাবি করে এবং স্ট্যাম্প দিয়ে মামলা করার হুমকি দেয়। নিরুপায় হয়ে গত ৪ মে ভিকটিম মতিঝিল থানা পুলিশের সহায়তা চান এবং একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার পর তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সবুজবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে প্রথমে আনোয়ারকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ বনশ্রী এলাকা থেকে একই দিন রাতে জহিরুলকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় জহিরুলের কাছ থেকে ভিকটিমের স্বাক্ষরসহ সেই স্ট্যাম্পগুলো উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার ও মুক্তিপণের অবশিষ্ট টাকা উদ্ধারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।