ঢাকা ১০:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তির নিশ্বাস, গ্রস রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। বুধবার (৬ মে) পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে থাকা মোট গ্রস রিজার্ভ ৩৫ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা পূর্বের দিনের তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে। যদিও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) কর্তৃক নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী হিসাবকৃত রিজার্ভের পরিমাণ এই মুহূর্তে ৩০ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, রিজার্ভের এই বৃদ্ধি মূলত প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবাহের ফল। গত মঙ্গলবার (৫ মে) একদিনেই প্রবাসীরা ১৬১ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। আর মে মাসের প্রথম পাঁচ দিনে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৬১৬ মিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের ৪৭৭ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় ২৯.১ শতাংশ বেশি।

চলতি অর্থবছরের (জুলাই থেকে ৫ মে) প্রথম ১০ মাসেই মোট রেমিট্যান্স প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ২৯.৯৫ বিলিয়ন ডলার। যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২৫.০১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ১৯.৭ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, রিজার্ভ বৃদ্ধির এই প্রবণতা অর্থনীতির জন্য একটি শুভ লক্ষণ হলেও এটি এখনও সম্পূর্ণ স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তা দেয় না। কারণ, বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভই দেশের প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতার সঠিক প্রতিফলন ঘটায়, যেখানে বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি দায়বদ্ধতা বাদ দেওয়া হয়। সেই হিসাবে রিজার্ভ এখনও ৩১ বিলিয়ন ডলারের নিচে রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী আয় বৃদ্ধির পেছনে বৈধ পথে অর্থ প্রেরণে সরকারি প্রণোদনা, অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং ডলারের বিনিময় হার বাজার-বান্ধব রাখার নীতি সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। একইসঙ্গে, আমদানি ব্যয় কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকায় রিজার্ভের উপর চাপও কমেছে।

তবে, সামনে জ্বালানি আমদানি, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা এবং বিশ্ব বাজারের অনিশ্চয়তা রিজার্ভের উপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। তাই রিজার্ভ বাড়লেও তা টেকসই রাখতে হলে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বৈদেশিক লেনদেনে শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।

সার্বিকভাবে, রেমিট্যান্সের সহায়তায় রিজার্ভে সাময়িক স্বস্তি ফিরে আসলেও, অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তি শক্তিশালী করার জন্য কাঠামোগত সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য নিয়ে নবী হোসেনের ভাইকে গুলি করে হত্যা

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তির নিশ্বাস, গ্রস রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো

আপডেট সময় : ০৯:৪৭:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। বুধবার (৬ মে) পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে থাকা মোট গ্রস রিজার্ভ ৩৫ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা পূর্বের দিনের তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে। যদিও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) কর্তৃক নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী হিসাবকৃত রিজার্ভের পরিমাণ এই মুহূর্তে ৩০ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, রিজার্ভের এই বৃদ্ধি মূলত প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবাহের ফল। গত মঙ্গলবার (৫ মে) একদিনেই প্রবাসীরা ১৬১ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। আর মে মাসের প্রথম পাঁচ দিনে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৬১৬ মিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের ৪৭৭ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় ২৯.১ শতাংশ বেশি।

চলতি অর্থবছরের (জুলাই থেকে ৫ মে) প্রথম ১০ মাসেই মোট রেমিট্যান্স প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ২৯.৯৫ বিলিয়ন ডলার। যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২৫.০১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ১৯.৭ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, রিজার্ভ বৃদ্ধির এই প্রবণতা অর্থনীতির জন্য একটি শুভ লক্ষণ হলেও এটি এখনও সম্পূর্ণ স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তা দেয় না। কারণ, বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভই দেশের প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতার সঠিক প্রতিফলন ঘটায়, যেখানে বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি দায়বদ্ধতা বাদ দেওয়া হয়। সেই হিসাবে রিজার্ভ এখনও ৩১ বিলিয়ন ডলারের নিচে রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী আয় বৃদ্ধির পেছনে বৈধ পথে অর্থ প্রেরণে সরকারি প্রণোদনা, অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং ডলারের বিনিময় হার বাজার-বান্ধব রাখার নীতি সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। একইসঙ্গে, আমদানি ব্যয় কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকায় রিজার্ভের উপর চাপও কমেছে।

তবে, সামনে জ্বালানি আমদানি, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা এবং বিশ্ব বাজারের অনিশ্চয়তা রিজার্ভের উপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। তাই রিজার্ভ বাড়লেও তা টেকসই রাখতে হলে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বৈদেশিক লেনদেনে শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।

সার্বিকভাবে, রেমিট্যান্সের সহায়তায় রিজার্ভে সাময়িক স্বস্তি ফিরে আসলেও, অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তি শক্তিশালী করার জন্য কাঠামোগত সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই।