ঢাকা ০৪:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬

বাবুগঞ্জে এন্টিভেনম ও জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট, প্রাণহানির শঙ্কা

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় জরুরি জীবনরক্ষাকারী এন্টিভেনম ও জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে এবং একের পর এক প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে, যা স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভয়াবহ দুর্বলতা ও অব্যবস্থাপনাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

সম্প্রতি উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের ২৮ বছর বয়সি যুবক এইচ এম সায়েমকে বিষধর সাপ দংশন করে। তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলেও সেখানে এন্টিভেনম না থাকায় তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু পথেই তার মৃত্যু হয়। এর আগে গত ২ মে কেদারপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভূতেরদিয়া নতুনচর গ্রামের ৬০ বছর বয়সি হানিফ শরীফ গরুর ঘাস কাটার সময় সাপে দংশনের শিকার হন। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তিনিও মারা যান।

চাঁদপাশা ইউনিয়নের বাসিন্দা জুয়েল হোসেন জানান, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটার এন্টিভেনম না থাকায় আমার ভাইকে বরিশালে নিয়ে যেতে দেরি হয়। ফলে পথেই তার মৃত্যু হয়েছে।’

১৬৪.৮৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বাবুগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ৫৪ হাজার ৫১৮ জন বাসিন্দা বসবাস করেন। এখানে একটি ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থাকলেও বাস্তবে ৩০ শয্যার সীমিত সেবা চালু রয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো, জরুরি জীবনরক্ষাকারী এন্টিভেনম সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাপে কাটা রোগীর ক্ষেত্রে প্রথম এক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা ‘গোল্ডেন আওয়ার’ নামে পরিচিত। এই সময়ের মধ্যে সঠিক এন্টিভেনম প্রয়োগ না করা গেলে মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়।

বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার পূর্বসূরি এন্টিভেনমের চাহিদা পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যায়নি। দায়িত্ব নেওয়ার পর আমি জেলা সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে একাধিকবার চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি।’ তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে চার ধরনের বিষধর সাপ রয়েছে, বিশেষ করে গোখরা সাপের বিষ দ্রুত স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব ফেলে এবং এক ঘণ্টার মধ্যেই রোগী সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। তাই দ্রুত এন্টিভেনমই একমাত্র জীবনরক্ষার উপায়।

শুধু সাপের বিষ নয়, জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন নিয়েও একই ধরনের সংকটের অভিযোগ উঠেছে। কুকুর বা অন্য প্রাণীর কামড়ের পর জরুরি ভ্যাকসিন না পাওয়ায় রোগীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তিস্তা চুক্তি: দীর্ঘ দেড় দশকের অচলাবস্থা নিরসনে নতুন আশার আলো

বাবুগঞ্জে এন্টিভেনম ও জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট, প্রাণহানির শঙ্কা

আপডেট সময় : ০৪:৫২:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় জরুরি জীবনরক্ষাকারী এন্টিভেনম ও জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে এবং একের পর এক প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে, যা স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভয়াবহ দুর্বলতা ও অব্যবস্থাপনাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

সম্প্রতি উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের ২৮ বছর বয়সি যুবক এইচ এম সায়েমকে বিষধর সাপ দংশন করে। তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলেও সেখানে এন্টিভেনম না থাকায় তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু পথেই তার মৃত্যু হয়। এর আগে গত ২ মে কেদারপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভূতেরদিয়া নতুনচর গ্রামের ৬০ বছর বয়সি হানিফ শরীফ গরুর ঘাস কাটার সময় সাপে দংশনের শিকার হন। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তিনিও মারা যান।

চাঁদপাশা ইউনিয়নের বাসিন্দা জুয়েল হোসেন জানান, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটার এন্টিভেনম না থাকায় আমার ভাইকে বরিশালে নিয়ে যেতে দেরি হয়। ফলে পথেই তার মৃত্যু হয়েছে।’

১৬৪.৮৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বাবুগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ৫৪ হাজার ৫১৮ জন বাসিন্দা বসবাস করেন। এখানে একটি ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থাকলেও বাস্তবে ৩০ শয্যার সীমিত সেবা চালু রয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো, জরুরি জীবনরক্ষাকারী এন্টিভেনম সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাপে কাটা রোগীর ক্ষেত্রে প্রথম এক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা ‘গোল্ডেন আওয়ার’ নামে পরিচিত। এই সময়ের মধ্যে সঠিক এন্টিভেনম প্রয়োগ না করা গেলে মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়।

বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার পূর্বসূরি এন্টিভেনমের চাহিদা পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যায়নি। দায়িত্ব নেওয়ার পর আমি জেলা সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে একাধিকবার চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি।’ তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে চার ধরনের বিষধর সাপ রয়েছে, বিশেষ করে গোখরা সাপের বিষ দ্রুত স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব ফেলে এবং এক ঘণ্টার মধ্যেই রোগী সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। তাই দ্রুত এন্টিভেনমই একমাত্র জীবনরক্ষার উপায়।

শুধু সাপের বিষ নয়, জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন নিয়েও একই ধরনের সংকটের অভিযোগ উঠেছে। কুকুর বা অন্য প্রাণীর কামড়ের পর জরুরি ভ্যাকসিন না পাওয়ায় রোগীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।