তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচন শেষে এখন রাজ্যজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে দক্ষিণি মেগাস্টার থালাপতি বিজয় এবং তাঁর নতুন রাজনৈতিক দল ‘তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম’ (টিভিকে)। জীবনের প্রথম নির্বাচনে অংশ নিয়েই বিজয় যে রাজ্যের দীর্ঘদিনের দ্বিমেরু রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিয়েছেন, বুথফেরত জরিপগুলোতে তার স্পষ্ট আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্টালিনের নেতৃত্বাধীন ডিএমকে জোটের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে বিজয়ের উত্থানকে বড় চমক হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিভিন্ন সংস্থার বুথফেরত জরিপে থালাপতি বিজয়ের দলের শক্ত অবস্থানের কথা বলা হয়েছে। কোনো কোনো জরিপের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিজয়ের দল ৯৮ থেকে ১২০টি পর্যন্ত আসন পেতে পারে। যদি এই পূর্বাভাস সত্যি হয়, তবে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র বাইরে এক নতুন যুগের সূচনা হবে। তবে জরিপগুলোর ফলে বেশ বৈচিত্র্যও রয়েছে; যেমন পিপলস পালস এবং পিপলস ইনসাইটের মতে, ডিএমকে জোট ১২০ থেকে ১৪৫টি আসন পেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে। অন্যদিকে, প্রজা পোল বা পি-মার্কের মতো সংস্থাগুলো বিজয়কে অতটা এগিয়ে না রাখলেও কামাখ্যা অ্যানালিটিক্সের জরিপ বলছে, টিভিকে যদি ৬৭ থেকে ৮১টি আসন পায়, তবে সরকার গঠনে তারা ‘কিংমেকার’ বা বড় নিয়ামক হিসেবে আবির্ভূত হবে।
নির্বাচনের আগে থালাপতি বিজয়ের জনসভাগুলোতে উপচে পড়া ভিড় এবং বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁর কড়া অবস্থান জনমত গঠনে বড় ভূমিকা রেখেছে। যদিও একটি সমাবেশে পদদলিত হয়ে ৩৯ জনের মৃত্যুর ঘটনাটি শোকের ছায়া ফেলেছিল, তবুও বিজয়ের ব্যক্তিগত ক্যারিশমা ভোটারদের উৎসাহিত করেছে। গত ২৩ এপ্রিল তামিলনাড়ুর ২৩৪টি আসনে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে প্রায় ৮২.২৪ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণের প্রমাণ দেয়। এখন সবার অপেক্ষা আগামী দিনগুলোর চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে, যেখানে নির্ধারিত হবে বিজয়ের রুপালি পর্দার জনপ্রিয়তা ভোটের বাক্সে কতটা প্রতিফলিত হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 





















