ঢাকা ০৬:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে মাদরাসার দৃষ্টিনন্দন ফটক বিধ্বস্ত, সুপারের আবেগঘন বার্তা

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে একটি মাদরাসার দৃষ্টিনন্দন প্রধান ফটক সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে বজ্রপাতে প্রতিষ্ঠানটির একটি শ্রেণিকক্ষও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ঘটনায় মাদ্রাসার সুপারের আবেগঘন ফেসবুক পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল শনিবার দুপুর আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে প্রবল বেগে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে উপজেলার সেনগাঁও ইউনিয়নের বেলদহী মডেল দাখিল মাদরাসার নান্দনিক প্রধান ফটকটি ভেঙে পড়ে। বাঁশ ও প্লেনসিট দিয়ে নির্মিত কারুকার্যময় এই গেটটি তার সৌন্দর্য ও নির্মাণশৈলীর জন্য এলাকায় বিশেষভাবে পরিচিত ছিল।

গেটটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় গভীর আবেগ প্রকাশ করে মাদ্রাসার সুপার জয়নাল আবেদীন মঙ্গলবার তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘২৬/০৪/২০২৬ তারিখ আনুমানিক ১২.৩০ টার সময় প্রচণ্ড সর্বগ্রাসী কাল বৈশাখী ঝড়ের আঘাতে বেলদহী মডেল দাখিল মাদ্রাসা মেইন গেট ভেঙে লন্ডভন্ড হয়ে যায়। এত সুন্দর কারুকার্য, নির্মাণশৈলী যা দেখে সকলের মন ভরে যায় কিন্তু এখন তো কেউ দেখতে পাবে না এমন একটি গেইট। সর্বগ্রাসী বৈশাখ যেন আমার হৃদয়ের কলিজা ছিনিয়ে উড়িয়ে নিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের অতল তলায় ডুবিয়ে দিলো। হে বৈশাখ! তুমি কেন আমার এমন করলে? আমি তোমার কি ক্ষতি করেছি, কি রাগ তোমার? তুমি কি এতই নির্মম, এতই নিষ্ঠুর! আমার ২৭ বছরের সাধনা নিমিষেই নিঃশেষ করে দিলে। তুমি কি পারো না তোমার ক্ষমতায় এমন একটি গেট নির্মাণ করে দিতে? মিনতি আমার। নইলে যে আমার হৃদয়ের ক্ষতবিক্ষত আমার গ্লানি কি মুছবে? তোমায় প্রশ্ন করি হে বৈশাখ। নতুন বছরে আগমনে যেখানে তোমায় আমরা সকলেই ভালবাসি কিন্তু এ কি করলে? সমাজে অনেক রক্ত পিপাসু বড় বড় বিল্ডিং ইমারত গরিবের টাকা দিয়ে নির্মাণ যাদের কিন্তু তাদের তো তুমি কিছুই করতে পারোনি। এ তোমার কেমন বিচার? হে পরম দয়ালু রহিম রহমান তুমি আমাকে শক্তি দাও আমি যেন ঘুরে দাঁড়াতে পারি।’

মাদ্রাসার সুপার জয়নাল আবেদীন বলেন, এই গেটটি আমাদের আবেগ ও ভালোবাসার প্রতীক ছিল। এটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় আমরা খুবই মর্মাহত। আবেগ সামলাতে না পেরে ফেসবুকে পোস্টটি করেছি। এ বিষয়ে সেনগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন ক্ষতি অত্যন্ত দুঃখজনক। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে ৫ জনকে পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ করল বিজিবি

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে মাদরাসার দৃষ্টিনন্দন ফটক বিধ্বস্ত, সুপারের আবেগঘন বার্তা

আপডেট সময় : ১১:৩৫:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে একটি মাদরাসার দৃষ্টিনন্দন প্রধান ফটক সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে বজ্রপাতে প্রতিষ্ঠানটির একটি শ্রেণিকক্ষও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ঘটনায় মাদ্রাসার সুপারের আবেগঘন ফেসবুক পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল শনিবার দুপুর আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে প্রবল বেগে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে উপজেলার সেনগাঁও ইউনিয়নের বেলদহী মডেল দাখিল মাদরাসার নান্দনিক প্রধান ফটকটি ভেঙে পড়ে। বাঁশ ও প্লেনসিট দিয়ে নির্মিত কারুকার্যময় এই গেটটি তার সৌন্দর্য ও নির্মাণশৈলীর জন্য এলাকায় বিশেষভাবে পরিচিত ছিল।

গেটটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় গভীর আবেগ প্রকাশ করে মাদ্রাসার সুপার জয়নাল আবেদীন মঙ্গলবার তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘২৬/০৪/২০২৬ তারিখ আনুমানিক ১২.৩০ টার সময় প্রচণ্ড সর্বগ্রাসী কাল বৈশাখী ঝড়ের আঘাতে বেলদহী মডেল দাখিল মাদ্রাসা মেইন গেট ভেঙে লন্ডভন্ড হয়ে যায়। এত সুন্দর কারুকার্য, নির্মাণশৈলী যা দেখে সকলের মন ভরে যায় কিন্তু এখন তো কেউ দেখতে পাবে না এমন একটি গেইট। সর্বগ্রাসী বৈশাখ যেন আমার হৃদয়ের কলিজা ছিনিয়ে উড়িয়ে নিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের অতল তলায় ডুবিয়ে দিলো। হে বৈশাখ! তুমি কেন আমার এমন করলে? আমি তোমার কি ক্ষতি করেছি, কি রাগ তোমার? তুমি কি এতই নির্মম, এতই নিষ্ঠুর! আমার ২৭ বছরের সাধনা নিমিষেই নিঃশেষ করে দিলে। তুমি কি পারো না তোমার ক্ষমতায় এমন একটি গেট নির্মাণ করে দিতে? মিনতি আমার। নইলে যে আমার হৃদয়ের ক্ষতবিক্ষত আমার গ্লানি কি মুছবে? তোমায় প্রশ্ন করি হে বৈশাখ। নতুন বছরে আগমনে যেখানে তোমায় আমরা সকলেই ভালবাসি কিন্তু এ কি করলে? সমাজে অনেক রক্ত পিপাসু বড় বড় বিল্ডিং ইমারত গরিবের টাকা দিয়ে নির্মাণ যাদের কিন্তু তাদের তো তুমি কিছুই করতে পারোনি। এ তোমার কেমন বিচার? হে পরম দয়ালু রহিম রহমান তুমি আমাকে শক্তি দাও আমি যেন ঘুরে দাঁড়াতে পারি।’

মাদ্রাসার সুপার জয়নাল আবেদীন বলেন, এই গেটটি আমাদের আবেগ ও ভালোবাসার প্রতীক ছিল। এটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় আমরা খুবই মর্মাহত। আবেগ সামলাতে না পেরে ফেসবুকে পোস্টটি করেছি। এ বিষয়ে সেনগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন ক্ষতি অত্যন্ত দুঃখজনক। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।