ঢাকা ০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামে ফের হাঁটুসমান জলমগ্নতা, জনজীবনে চরম দুর্ভোগ

বুধবার সকালে ভারী বৃষ্টিতে আবারও তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম নগর। দুপুর নাগাদ প্রবর্তক মোড়ে হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাস্তায় যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এবং পথচারীরাও চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। যে সড়কটি গতকাল পর্যন্ত স্বাভাবিক ছিল, আজ দুপুরে তা এক বিশাল জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। নগরবাসীর মনে প্রশ্ন, কবে মিলবে এই জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি?

দুপুর ১টায় প্রবর্তক মোড়ের চিত্র ছিল ভয়াবহ। সড়কের উপর থইথই করছে হাঁটুসমান পানি। পাশের দোকানগুলোও পানিতে তলিয়ে গেছে, অনেক দোকানের ভেতরেও পানি প্রবেশ করেছে। দোকানের মালিকরা অসহায়ভাবে দাঁড়িয়ে দেখছেন। কিছু রিকশা কোনোমতে পানি মাড়িয়ে যাত্রী পারাপার করলেও, সিএনজি ও মোটরসাইকেল চালকদের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে আটকে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। পায়ে হেঁটে যাওয়া মানুষেরা বিরক্তি ও ক্লান্তি নিয়ে পানি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় এক ফার্মেসির মালিক ইদ্রিস আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গতকাল ও আজ সকালে মেয়র সাহেব এসেছিলেন, পানি নেমে গিয়েছিল। কিন্তু আজ দুপুরে আবার একই অবস্থা। তাহলে এর মানে কী?’ আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা যোগ করেন, ‘প্রতি বছর একই সমস্যা। স্থায়ী সমাধানের আশা কবে পূরণ হবে?’

প্রবর্তক মোড় ছাড়াও নগরীর মুরাদপুর, ষোলশহর, বহদ্দারহাট, চকবাজার, কাতালগঞ্জসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। ষোলশহরের বাসিন্দা নাজমা বেগম জানান, রাত থেকেই তার বাড়ির নিচতলায় পানি ঢুকে রান্নাঘর ডুবে গেছে, ফলে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না এবং বাচ্চারা না খেয়ে আছে। বহদ্দারহাটের এক ব্যবসায়ী তার লক্ষাধিক টাকার মালামাল পানিতে নষ্ট হওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘প্রতি বছর এই কষ্ট। সরকার কি এসব দেখে না?’

এ বিষয়ে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) করছে এবং এতে তার সরাসরি কোনো দায়িত্ব নেই। তবে নগরবাসী কষ্টে পড়লে মেয়র হিসেবে চুপ করে থাকা তার নৈতিক দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে ৫ জনকে পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ করল বিজিবি

চট্টগ্রামে ফের হাঁটুসমান জলমগ্নতা, জনজীবনে চরম দুর্ভোগ

আপডেট সময় : ০৩:০০:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

বুধবার সকালে ভারী বৃষ্টিতে আবারও তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম নগর। দুপুর নাগাদ প্রবর্তক মোড়ে হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাস্তায় যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এবং পথচারীরাও চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। যে সড়কটি গতকাল পর্যন্ত স্বাভাবিক ছিল, আজ দুপুরে তা এক বিশাল জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। নগরবাসীর মনে প্রশ্ন, কবে মিলবে এই জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি?

দুপুর ১টায় প্রবর্তক মোড়ের চিত্র ছিল ভয়াবহ। সড়কের উপর থইথই করছে হাঁটুসমান পানি। পাশের দোকানগুলোও পানিতে তলিয়ে গেছে, অনেক দোকানের ভেতরেও পানি প্রবেশ করেছে। দোকানের মালিকরা অসহায়ভাবে দাঁড়িয়ে দেখছেন। কিছু রিকশা কোনোমতে পানি মাড়িয়ে যাত্রী পারাপার করলেও, সিএনজি ও মোটরসাইকেল চালকদের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে আটকে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। পায়ে হেঁটে যাওয়া মানুষেরা বিরক্তি ও ক্লান্তি নিয়ে পানি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় এক ফার্মেসির মালিক ইদ্রিস আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গতকাল ও আজ সকালে মেয়র সাহেব এসেছিলেন, পানি নেমে গিয়েছিল। কিন্তু আজ দুপুরে আবার একই অবস্থা। তাহলে এর মানে কী?’ আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা যোগ করেন, ‘প্রতি বছর একই সমস্যা। স্থায়ী সমাধানের আশা কবে পূরণ হবে?’

প্রবর্তক মোড় ছাড়াও নগরীর মুরাদপুর, ষোলশহর, বহদ্দারহাট, চকবাজার, কাতালগঞ্জসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। ষোলশহরের বাসিন্দা নাজমা বেগম জানান, রাত থেকেই তার বাড়ির নিচতলায় পানি ঢুকে রান্নাঘর ডুবে গেছে, ফলে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না এবং বাচ্চারা না খেয়ে আছে। বহদ্দারহাটের এক ব্যবসায়ী তার লক্ষাধিক টাকার মালামাল পানিতে নষ্ট হওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘প্রতি বছর এই কষ্ট। সরকার কি এসব দেখে না?’

এ বিষয়ে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) করছে এবং এতে তার সরাসরি কোনো দায়িত্ব নেই। তবে নগরবাসী কষ্টে পড়লে মেয়র হিসেবে চুপ করে থাকা তার নৈতিক দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।