ঢাকা ০৭:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

রূপপুরে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং শুরু: বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন দিগন্ত

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম লোডিং কার্যক্রম। দেশের জ্বালানি খাতের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। তবে এই ‘ফুয়েল লোডিং’ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল এবং সংবেদনশীল, যা সম্পন্ন করতে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউক্লিয়ার ফিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। চুল্লিতে ইউরেনিয়ামের নিউক্লিয়াস বিভাজনের ফলে যে বিপুল তাপ উৎপন্ন হয়, তা দিয়ে পানিকে বাষ্পে রূপান্তর করে টারবাইন ঘোরানো হয়। এটি একটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত চেইন রিঅ্যাকশন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, জ্বালানি লোডিংয়ের পর প্রায় ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত পরীক্ষামূলক পর্যবেক্ষণ বা পাইলট অপারেশন চলবে।

এই দীর্ঘ সময়ে জেনারেটর, টারবাইন এবং জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করা হবে। সকল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনে শুরু হবে বাণিজ্যিক উৎপাদন। পূর্ণ সক্ষমতায় চলা শুরু করলে প্রতি ১৮ মাস অন্তর জ্বালানি পরিবর্তন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশগুলোর অভিজাত ক্লাবে নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই-তে আপনার গোপন জিজ্ঞাসা কতটা নিরাপদ?

রূপপুরে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং শুরু: বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন দিগন্ত

আপডেট সময় : ০৫:৪৪:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম লোডিং কার্যক্রম। দেশের জ্বালানি খাতের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। তবে এই ‘ফুয়েল লোডিং’ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল এবং সংবেদনশীল, যা সম্পন্ন করতে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউক্লিয়ার ফিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। চুল্লিতে ইউরেনিয়ামের নিউক্লিয়াস বিভাজনের ফলে যে বিপুল তাপ উৎপন্ন হয়, তা দিয়ে পানিকে বাষ্পে রূপান্তর করে টারবাইন ঘোরানো হয়। এটি একটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত চেইন রিঅ্যাকশন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, জ্বালানি লোডিংয়ের পর প্রায় ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত পরীক্ষামূলক পর্যবেক্ষণ বা পাইলট অপারেশন চলবে।

এই দীর্ঘ সময়ে জেনারেটর, টারবাইন এবং জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করা হবে। সকল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনে শুরু হবে বাণিজ্যিক উৎপাদন। পূর্ণ সক্ষমতায় চলা শুরু করলে প্রতি ১৮ মাস অন্তর জ্বালানি পরিবর্তন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশগুলোর অভিজাত ক্লাবে নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করল।