ঢাকা ০১:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

কুমিল্লায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ: বহিষ্কৃত নেতাকে সংবর্ধনা ঘিরে বিতর্ক

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কৃত এক নেতাকে সংবর্ধনা দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই বিতর্কিত সংবর্ধনার আয়োজন করেছেন নিজেও বহিষ্কৃত এক যুবদল নেতা, যেখানে দলীয় ব্যানার ব্যবহার করা হয়েছে।

শনিবার চান্দিনা পৌর অডিটোরিয়ামে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা যুবদলের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক আবুল খায়ের। সংবর্ধনা দেওয়া হয় কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওনকে, যিনি পূর্বে দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় বিএনপি তাকে বহিষ্কার করে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওনকে দল থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়। একইভাবে, সংবর্ধনা আয়োজক আবুল খায়েরকেও পূর্বে উপজেলা যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

এ অবস্থায় বহিষ্কৃত নেতাকে আবার দলীয় ব্যানারে সংবর্ধনা দেওয়ায় উপজেলা জুড়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদল নেতা বোরহান উদ্দিন বলেন, “বহিষ্কৃত নেতা আরেক বহিষ্কৃত নেতাকে সংবর্ধনা দিতেই পারেন, কিন্তু সেখানে দলীয় ব্যানার ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক নেতা বলেন, “যারা নিজেরাই দল থেকে বহিষ্কৃত, তারা কিভাবে দলীয় পরিচয়ে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করে—এটা প্রশ্নবিদ্ধ।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আয়োজক আবুল খায়ের বলেন, “সংবর্ধনা দেওয়ার বিষয়ে উপরের পারমিশন রয়েছে।” তবে কার কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছে—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি এবং “উপরে কথা বলতে” বলেন। অন্যদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন ফোন রিসিভ করেননি।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান মুন্সী, যুগ্ম আহ্বায়ক আক্তার খান, কাইউম খান, ইসমাইল হোসেন, জামাল হোসেনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা। দলীয় নিয়ম অনুযায়ী বহিষ্কৃত কোনো নেতাকে দলীয় ব্যানারে সংবর্ধনা দেওয়া কতটা বৈধ—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে ইরানের চূড়ান্ত রণকৌশল: সম্ভাব্য যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মোকাবিলায় আইআরজিসি’র ঘোষণা

কুমিল্লায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ: বহিষ্কৃত নেতাকে সংবর্ধনা ঘিরে বিতর্ক

আপডেট সময় : ১১:৩১:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কৃত এক নেতাকে সংবর্ধনা দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই বিতর্কিত সংবর্ধনার আয়োজন করেছেন নিজেও বহিষ্কৃত এক যুবদল নেতা, যেখানে দলীয় ব্যানার ব্যবহার করা হয়েছে।

শনিবার চান্দিনা পৌর অডিটোরিয়ামে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা যুবদলের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক আবুল খায়ের। সংবর্ধনা দেওয়া হয় কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওনকে, যিনি পূর্বে দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় বিএনপি তাকে বহিষ্কার করে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওনকে দল থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়। একইভাবে, সংবর্ধনা আয়োজক আবুল খায়েরকেও পূর্বে উপজেলা যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

এ অবস্থায় বহিষ্কৃত নেতাকে আবার দলীয় ব্যানারে সংবর্ধনা দেওয়ায় উপজেলা জুড়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদল নেতা বোরহান উদ্দিন বলেন, “বহিষ্কৃত নেতা আরেক বহিষ্কৃত নেতাকে সংবর্ধনা দিতেই পারেন, কিন্তু সেখানে দলীয় ব্যানার ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক নেতা বলেন, “যারা নিজেরাই দল থেকে বহিষ্কৃত, তারা কিভাবে দলীয় পরিচয়ে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করে—এটা প্রশ্নবিদ্ধ।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আয়োজক আবুল খায়ের বলেন, “সংবর্ধনা দেওয়ার বিষয়ে উপরের পারমিশন রয়েছে।” তবে কার কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছে—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি এবং “উপরে কথা বলতে” বলেন। অন্যদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন ফোন রিসিভ করেননি।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান মুন্সী, যুগ্ম আহ্বায়ক আক্তার খান, কাইউম খান, ইসমাইল হোসেন, জামাল হোসেনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা। দলীয় নিয়ম অনুযায়ী বহিষ্কৃত কোনো নেতাকে দলীয় ব্যানারে সংবর্ধনা দেওয়া কতটা বৈধ—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।