দেশের অর্থনীতি যখন জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে যা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে অর্থাৎ জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় সরকার প্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকা পিছিয়ে রয়েছে। উল্লেখ্য যে, এর আগে আট মাস শেষে এই রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৭১ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা, অর্থাৎ মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ঘাটতি বেড়েছে ২০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এর মধ্যে গত মার্চ মাসে রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধির হার ছিল চলতি অর্থবছরের মধ্যে সবচেয়ে কম।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২ লাখ ৫৯ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকা। তবে মার্চ মাস পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল ৩ লাখ ৮৫ हजार ৮৫২ কোটি টাকা, যার ফলে প্রকৃত ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা। যদিও আলোচ্য সময়ে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক—এই তিন খাতে যথাক্রমে ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ, ১৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ ও ৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, তবুও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ধরনের ব্যর্থতা পরিলক্ষিত হয়েছে। বিস্তারিত হিসেবে দেখা যায়, নয় মাসে আয়করে ১ লাখ ৩১ হাজার ৯৬ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৮০ হাজার ২২৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা, ভ্যাটে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১ লাখ ৯ হাজার ১৩৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং শুল্ক খাতে ১ লাখ ৩৯ হাজার ১১৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৯৮ হাজার ৫০১ কোটি ১৭ লাখ টাকা আদায় হয়েছে।
পূর্ববর্তী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের পুরো সময়ে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৯২ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং আদায় হয়েছিল ৩ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা। অন্যদিকে, চলতি বছরের গত মার্চ মাসে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ, যেখানে এর আগে জানুয়ারিতে এই হার ছিল ৩ দশমিক ২১ শতাংশ। মার্চ মাসে ৬০ হাজার ৫০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও প্রকৃতপক্ষে আদায় হয়েছে ৩৩ হাজার ৫২২ কোটি টাকা। এই মাসে আয়কর খাতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে শূন্য দশমিক ৪৪ শতাংশ, যেখানে ১৪ হাজার ১১৭ কোটি টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৮ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা। এছাড়া ভ্যাট খাতে ২৫ হাজার ৩ ২৪ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১১ হাজার ৮৫৪ কোটি টাকা আদায় হয়েছে যার প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং শুল্ক খাতে ২০ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১৩ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা আদায় হয়েছে যার প্রবৃদ্ধির হার ২ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
রিপোর্টারের নাম 






















