ঢাকা ০৯:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

আকাশসীমা নজরদারিতে বাংলাদেশের নতুন দিগন্ত: অত্যাধুনিক রাডার ও এটিসি টাওয়ারের উদ্বোধন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৮:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের আকাশসীমা নজরদারি ও বিমান চলাচল নিরাপত্তায় এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থাপন করা হয়েছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির রাডার এবং নেভিগেশন ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে দেশের পুরো আকাশসীমা এখন শতভাগ নজরদারির আওতায় আসবে। সোমবার (২০ এপ্রিল) প্রায় ৯৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই নতুন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) টাওয়ারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী। এই প্রকল্পের ফলে উড্ডয়ন ও অবতরণ প্রক্রিয়া যেমন নিরাপদ হবে, তেমনি বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে অনাদায়ী থাকা ‘ফ্লাইং ওভার চার্জ’ বা আকাশসীমা ব্যবহারের ফি সংগ্রহের মাধ্যমে বড় অঙ্কের রাজস্ব আয় করতে পারবে বাংলাদেশ।

আগের রাডার ব্যবস্থাটি প্রায় ৩৫ বছরের পুরোনো হওয়ায় বিশেষ করে বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে নজরদারি করা সম্ভব হতো না। নতুন এই এস-ব্যান্ড প্রাইমারি রাডার ৮০ নটিক্যাল মাইল এবং মোড-এস সেকেন্ডারি সার্ভেল্যান্স রাডার ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃতি দেবে। এটি কলকাতা ও ইয়াঙ্গুনের সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক সার্ভিসেস ইন্টার-ফ্যাসিলিটি ডেটা কমিউনিকেশন বাস্তবায়নের পথও সহজ করবে। ফ্রান্সের থ্যালেস কোম্পানির কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়িত এই প্রকল্পটির মাধ্যমে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলাররা এখন রিয়েল-টাইম তথ্য পাবেন, যা নিরাপদ ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পটি বাংলাদেশের ভৌগোলিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দেবে।

দীর্ঘ ৫৪ বছর পর এটিসি অটোমেশনের অভাব ঘুচিয়ে আধুনিক যুগে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ার কারণে প্রতিদিন অসংখ্য আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করে। ক্রমবর্ধমান এই এয়ার ট্রাফিক সামলাতে পুরোনো এনালগ পদ্ধতির অবসান ঘটিয়ে এই আধুনিক প্রযুক্তি অপরিহার্য ছিল। সোমবার থেকে এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং আকাশপথ ব্যবস্থাপনায় আসবে শৃঙ্খলা ও গতিশীলতা। এর ফলে আন্তর্জাতিক রুটের উড়োজাহাজগুলো এখন থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় নিরাপদ সেবা পাবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যজন সম্মাননায় ভূষিত আবুল হায়াত

আকাশসীমা নজরদারিতে বাংলাদেশের নতুন দিগন্ত: অত্যাধুনিক রাডার ও এটিসি টাওয়ারের উদ্বোধন

আপডেট সময় : ১০:১৮:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশের আকাশসীমা নজরদারি ও বিমান চলাচল নিরাপত্তায় এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থাপন করা হয়েছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির রাডার এবং নেভিগেশন ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে দেশের পুরো আকাশসীমা এখন শতভাগ নজরদারির আওতায় আসবে। সোমবার (২০ এপ্রিল) প্রায় ৯৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই নতুন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) টাওয়ারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী। এই প্রকল্পের ফলে উড্ডয়ন ও অবতরণ প্রক্রিয়া যেমন নিরাপদ হবে, তেমনি বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে অনাদায়ী থাকা ‘ফ্লাইং ওভার চার্জ’ বা আকাশসীমা ব্যবহারের ফি সংগ্রহের মাধ্যমে বড় অঙ্কের রাজস্ব আয় করতে পারবে বাংলাদেশ।

আগের রাডার ব্যবস্থাটি প্রায় ৩৫ বছরের পুরোনো হওয়ায় বিশেষ করে বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে নজরদারি করা সম্ভব হতো না। নতুন এই এস-ব্যান্ড প্রাইমারি রাডার ৮০ নটিক্যাল মাইল এবং মোড-এস সেকেন্ডারি সার্ভেল্যান্স রাডার ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃতি দেবে। এটি কলকাতা ও ইয়াঙ্গুনের সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক সার্ভিসেস ইন্টার-ফ্যাসিলিটি ডেটা কমিউনিকেশন বাস্তবায়নের পথও সহজ করবে। ফ্রান্সের থ্যালেস কোম্পানির কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়িত এই প্রকল্পটির মাধ্যমে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলাররা এখন রিয়েল-টাইম তথ্য পাবেন, যা নিরাপদ ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পটি বাংলাদেশের ভৌগোলিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দেবে।

দীর্ঘ ৫৪ বছর পর এটিসি অটোমেশনের অভাব ঘুচিয়ে আধুনিক যুগে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ার কারণে প্রতিদিন অসংখ্য আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করে। ক্রমবর্ধমান এই এয়ার ট্রাফিক সামলাতে পুরোনো এনালগ পদ্ধতির অবসান ঘটিয়ে এই আধুনিক প্রযুক্তি অপরিহার্য ছিল। সোমবার থেকে এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং আকাশপথ ব্যবস্থাপনায় আসবে শৃঙ্খলা ও গতিশীলতা। এর ফলে আন্তর্জাতিক রুটের উড়োজাহাজগুলো এখন থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় নিরাপদ সেবা পাবে।