বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি এবং অভ্যন্তরীণ নানা সীমাবদ্ধতায় দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্প এখন অস্তিত্ব রক্ষার চ্যালেঞ্জে পড়েছে। চলতি অর্থবছরের শুরুতে কিছুটা আশার আলো দেখা গেলেও জুলাই মাসের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে কমছে এই খাতের রপ্তানি আয়। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা, অন্যদিকে দেশে বিদ্যুৎ সংকট ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে এই শিল্প। উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
বিজিএমইএর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত মার্চ মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২.৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের। অথচ আগের বছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৩.৪৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি কমেছে প্রায় ১৯ শতাংশের বেশি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ছিল নেতিবাচক। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসের পর থেকে প্রায় প্রতি মাসেই রপ্তানির গ্রাফ নিচের দিকে নামছে।
চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসের সামগ্রিক চিত্রও হতাশাজনক। এই সময়ে মোট ২৮.৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫.৫১ শতাংশ কম। মূলত জ্বালানি সংকট এবং বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন ব্যাহত হওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। সেই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে জাহাজ ও কনটেইনার ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।
তৈরি পোশাকশিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ব অর্থনীতি এখন যুদ্ধের প্রভাবে টালমাটাল। বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী মনে করেন, আন্তর্জাতিক অর্থনীতির এই অস্থিরতা সরাসরি আমাদের রপ্তানি বাণিজ্যে প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে জ্বালানির উচ্চমূল্য ও দেশের অভ্যন্তরে লোডশেডিং উৎপাদন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকারি নীতি সহায়তা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টারের নাম 























