সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় মহাশিং নদীর তীরে রাজকীয় মহিমায় দাঁড়িয়ে আছে শতবছরের ঐতিহ্যবাহী পাগলা বড় জামে মসজিদ। ১৯২৪ সালে (১৩৩১ বঙ্গাব্দ) নির্মিত এই স্থাপনাটির সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো, এর নির্মাণে কোনো রড ব্যবহার করা হয়নি। সম্পূর্ণ ইটের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এই মসজিদটি আজও তার স্থাপত্যশৈলীর জৌলুস ধরে রেখেছে।
মসজিদটির নির্মাণশৈলীতে ভারতীয় কারিগরদের ছোঁয়া রয়েছে। এর প্রধান স্থপতি ছিলেন মুমিন আস্তাগার, যার পূর্বপুরুষরা ভারতের ঐতিহাসিক তাজমহল নির্মাণে কাজ করেছিলেন। প্রায় ১০ বছর সময় নিয়ে নির্মিত এই মসজিদে তিনটি বিশাল গম্বুজ, ছয়টি বড় মিনার এবং ১২টি ছোট মিনার রয়েছে। ভূমিকম্প সহনীয় করার জন্য বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে এর ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছিল, যার ফলে বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগেও এর কোনো ক্ষতি হয়নি।
মসজিদটির ভেতরে ব্যবহৃত হয়েছে ইতালি ও ইংল্যান্ড থেকে আনা উন্নতমানের টাইলস এবং বিরল শ্বেতপাথর। তৎকালীন বিত্তবান ও ধর্মপ্রাণ দুই ভাই ইয়াসিন মির্জা ও ইউসুফ মির্জা তাদের বাবার স্মৃতি রক্ষার্থে এই নয়নাভিরাম মসজিদটি নির্মাণ করেন। স্থাপত্যকলার এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে এই মসজিদটি বর্তমানে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 




















