গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষের দেওয়া সংস্কারের পক্ষে রায় অবিলম্বে কার্যকর এবং ‘জুলাই সনদ’ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে সম্মিলিত ১৪টি ছাত্রসংগঠন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্র নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার জনগণের দেওয়া সেই বিশাল ম্যান্ডেটকে নস্যাৎ করে রাষ্ট্রকে পুনরায় পুরোনো ফ্যাসিবাদী কাঠামোর দিকে নিয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। বিবৃতিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, পুলিশ কমিশন এবং গণভোট অধ্যাদেশসহ ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমুখী অধ্যাদেশকে বর্তমান সরকার আইনি সুরক্ষা দিচ্ছে না। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ১২ এপ্রিলের মধ্যে এসব অধ্যাদেশ সংসদে বিল আকারে পাস করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও সরকার তা না করে কৌশলে এড়িয়ে গেছে, যা শহীদদের রক্তের সাথে প্রতারণার শামিল।
ছাত্র নেতৃবৃন্দ বর্তমান সরকারের এই ভূমিকাকে ‘রাজনৈতিক দ্বিচারিতা’ ও ‘নব্য ফ্যাসিবাদের বহিঃপ্রকাশ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তারা বলেন, নির্বাচনের আগে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও এখন সরকার সেই জনরায়কে অস্বীকার করছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগের। বিশেষ করে গুম ও মানবাধিকার কমিশনের মতো স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইনি সুরক্ষা না দেওয়া মূলত এগুলোকে পুনরায় দলীয়করণের অপচেষ্টা মাত্র। নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আইনি মারপ্যাঁচে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে নস্যাৎ করা হলে এদেশের ছাত্রসমাজ সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। তারা অবিলম্বে গণভোটের ফলাফলকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে সকল জনমুখী সংস্কার আইন আকারে পাসের জোর দাবি জানান।
বিবৃতিদাতা সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, জাগপা ছাত্র কাফেলা, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস, গণতান্ত্রিক ছাত্রদল (এলডিপি), নাগরিক ছাত্র ঐক্যসহ ১৪টি সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। ৫ আগস্টের বিপ্লবের মাধ্যমে অর্জিত বিজয় রক্ষায় যেকোনো ষড়যন্ত্র ছাত্রসমাজ রাজপথেই রুখে দেবে বলে বিবৃতিতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
রিপোর্টারের নাম 






















