মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বর্তমানে সারা দেশে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে আসায় জেলা শহরগুলোতে গড়ে ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা এবং গ্রামাঞ্চলে কোথাও কোথাও ১০ ঘণ্টারও বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো এলাকাভিত্তিক এক ঘণ্টার লোডশেডিংয়ের ঘোষণা দিলেও বাস্তবে দুই ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের। ১৬ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকেই বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেয়েছে দেশের বিভিন্ন বিতরণ সংস্থা।
বিভাগীয় শহরগুলোর চিত্র এখন অত্যন্ত উদ্বেগজনক:
- চট্টগ্রাম: বন্দরনগরীতে দিনে ৭-৮ ঘণ্টা এবং গ্রামাঞ্চলে প্রায় ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। পিক-আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হওয়ায় উৎপাদন ও জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।
- বরিশাল: চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় দিনে ৫-৬ ঘণ্টা লোডশেডিং করতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধের নির্দেশনায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক লোকসানে পড়েছেন।
- ময়মনসিংহ: ৬ জেলায় চাহিদার বিপরীতে প্রায় ৩২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে। গ্যাস ও ফার্নেস তেলের উচ্চমূল্য ও সংকটের কারণে স্থানীয় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সক্ষমতার অতি সামান্য অংশ উৎপাদন করছে।
- সিলেট ও রংপুর: সিলেটে দিনে-রাতে সমানতালে লোডশেডিং চলায় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। রংপুরের উপজেলাগুলোতে পল্লী বিদ্যুতের আওতায় দিনে ১০-১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না।
- খুলনা: ওজোপাডিকোর তথ্যমতে চাহিদার বিপরীতে বিশাল ঘাটতি থাকায় প্রতি ঘণ্টায় লোডশেডিং হচ্ছে। তবে আশার কথা হলো, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন স্বাভাবিক থাকায় তা পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়া থেকে রক্ষা করছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) জানিয়েছে, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের কারণে কেন্দ্রগুলো থেকে পূর্ণ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে পিক-আওয়ারে (বিকাল ৫টা থেকে রাত ১১টা) চাহিদা সর্বোচ্চ থাকায় লোডশেডিংয়ের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৈশ্বিক এই অস্থিতিশীলতা না কাটলে আপাতত এই ভোগান্তি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রিপোর্টারের নাম 






















