ঢাকা ০২:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

হামের ছোবলে মৃত্যু ২০০-র পথে: বাড়ছে উদ্বেগ ও সংক্রমণ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫০:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে ২০০-র কোটায় পৌঁছাতে চলায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও তিনজনের মৃত্যুর ফলে গত এক মাসে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯৮ জনে। একই সময়ে ২২ হাজার ১৩৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন, যাদের একটি বড় অংশই হলো ৯ মাসের কম বয়সী শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৩২ জন চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ৭৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মৃতদের মধ্যে দুজন ঢাকার এবং একজন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিলেন। বছরের শুরু থেকেই সংক্রমণ বাড়তে থাকলেও গত ১৫ মার্চ থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে তথ্য সংগ্রহ শুরু করে অধিদপ্তর।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৮৭ শতাংশ এবং মৃতদের ৮৩ শতাংশের ক্ষেত্রে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। মৃত শিশুদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৭ শতাংশ ঢাকায় এবং ৩৪ শতাংশ রাজশাহী বিভাগে চিকিৎসাধীন ছিলেন; অর্থাৎ মোট মৃত্যুর ৮১ শতাংশই এই দুই বিভাগে সীমাবদ্ধ। বর্তমানে দেশে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৯৭৩ জন এবং উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ১৬১ জন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেনের মতে, নির্দিষ্ট এলাকায় একই উপসর্গ নিয়ে একাধিক রোগী দেখা দিলে একজনের পরীক্ষার মাধ্যমেই পুরো এলাকার পরিস্থিতি আঁচ করা সম্ভব।

এদিকে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন যে, এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসতে আরও কিছু সময় লাগবে। গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেও টিকা গ্রহণের পর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে সময়ের প্রয়োজন হয়, তাই পরিস্থিতির উন্নতি রাতারাতি সম্ভব নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের একটি বড় অংশ আগে টিকার আওতার বাইরে থাকায় বর্তমান ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শিশুদের এই মর্মান্তিক মৃত্যু কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় মন্তব্য করে তিনি জানান যে, আক্রান্তদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে দেশের হাসপাতালগুলোতে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় তীব্র গরমে ঘন ঘন লোডশেডিং: জনজীবনে চরম নাভিশ্বাস

হামের ছোবলে মৃত্যু ২০০-র পথে: বাড়ছে উদ্বেগ ও সংক্রমণ

আপডেট সময় : ১২:৫০:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে ২০০-র কোটায় পৌঁছাতে চলায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও তিনজনের মৃত্যুর ফলে গত এক মাসে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯৮ জনে। একই সময়ে ২২ হাজার ১৩৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন, যাদের একটি বড় অংশই হলো ৯ মাসের কম বয়সী শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৩২ জন চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ৭৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মৃতদের মধ্যে দুজন ঢাকার এবং একজন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিলেন। বছরের শুরু থেকেই সংক্রমণ বাড়তে থাকলেও গত ১৫ মার্চ থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে তথ্য সংগ্রহ শুরু করে অধিদপ্তর।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৮৭ শতাংশ এবং মৃতদের ৮৩ শতাংশের ক্ষেত্রে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। মৃত শিশুদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৭ শতাংশ ঢাকায় এবং ৩৪ শতাংশ রাজশাহী বিভাগে চিকিৎসাধীন ছিলেন; অর্থাৎ মোট মৃত্যুর ৮১ শতাংশই এই দুই বিভাগে সীমাবদ্ধ। বর্তমানে দেশে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৯৭৩ জন এবং উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ১৬১ জন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেনের মতে, নির্দিষ্ট এলাকায় একই উপসর্গ নিয়ে একাধিক রোগী দেখা দিলে একজনের পরীক্ষার মাধ্যমেই পুরো এলাকার পরিস্থিতি আঁচ করা সম্ভব।

এদিকে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন যে, এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসতে আরও কিছু সময় লাগবে। গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেও টিকা গ্রহণের পর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে সময়ের প্রয়োজন হয়, তাই পরিস্থিতির উন্নতি রাতারাতি সম্ভব নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের একটি বড় অংশ আগে টিকার আওতার বাইরে থাকায় বর্তমান ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শিশুদের এই মর্মান্তিক মৃত্যু কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় মন্তব্য করে তিনি জানান যে, আক্রান্তদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে দেশের হাসপাতালগুলোতে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।