ঢাকা ০১:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

রাখাইন দখলের চূড়ান্ত লড়াই: মিয়ানমারে নতুন করে গৃহযুদ্ধের দামামা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

মিয়ানমারে সামরিক জান্তা প্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বে নতুন সরকার শপথ নেওয়ার সপ্তাহ না পেরোতেই আবারও দেশটিতে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত বুধবার দেশটির অন্যতম শক্তিশালী বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) ঘোষণা করেছে যে, ২০২৭ সালের মধ্যে তারা গোটা রাখাইন প্রদেশ দখল করার লক্ষ্যে নতুন উদ্যমে লড়াই শুরু করবে। বর্তমানে রাখাইন প্রদেশের অধিকাংশ এলাকাই বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও প্রাদেশিক রাজধানী সিত্তুয়ে, কিয়াকফিউ এবং মানাউং—এই তিনটি শহর এখনো জান্তা বাহিনীর দখলে রয়েছে। আরাকান আর্মির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে গোষ্ঠীর প্রধান মেজর জেনারেল তোয়াই ম্রা নাইং জানান, ২০২৩ সালের শেষ ভাগ থেকে শুরু হওয়া অভিযানে তারা ইতোমধ্যে রাখাইনের ১৪টি টাউনশিপ এবং দক্ষিণ চিন রাজ্যের পালেতওয়া দখল করতে সক্ষম হয়েছেন।

আরাকান আর্মির এই যুদ্ধ ঘোষণা প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাখাইন রাজ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা বিদ্রোহীদের দখলে চলে আসায় এবং মণিপুর সীমান্ত সংলগ্ন চিন প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় সীমান্ত এলাকায় নতুন করে অশান্তির মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, জান্তাবিরোধী নতুন জোট ‘চিন ব্রাদারহুড’-এর শরিকরা এই লড়াইয়ে আরাকান আর্মির সহযোগী হতে পারে, যা যুদ্ধকে আরও দীর্ঘস্থায়ী ও রক্তক্ষয়ী করে তুলবে। গত ১০ এপ্রিল মিয়ানমারে নতুন সরকার গঠিত হলেও বিদ্রোহীদের এই অনমনীয় মনোভাব দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

মিয়ানমারের এই সংঘাতের প্রেক্ষাপট বেশ দীর্ঘ ও জটিল। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চির গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করেছিল সেনাবাহিনী। এর আড়াই বছর পর ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ‘থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়্যান্স’ নামে বিদ্রোহীদের একটি শক্তিশালী জোট জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ১০২৭’ নামক অভিযান শুরু করে। যদিও গত বছর চীনের মধ্যস্থতায় কিছু বিদ্রোহী গোষ্ঠী জান্তার সঙ্গে সাময়িক সংঘর্ষবিরতি চুক্তি করেছিল, তবে আরাকান আর্মির বর্তমান অবস্থান সেই চুক্তিকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। ২০২৭ সালের মধ্যে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের এই লক্ষ্যমাত্রা মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধকে এক নতুন ও চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

শরীয়তপুরে ৪০০ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধারের ঘটনায় খাদ্য কর্মকর্তা বদলি

রাখাইন দখলের চূড়ান্ত লড়াই: মিয়ানমারে নতুন করে গৃহযুদ্ধের দামামা

আপডেট সময় : ১১:১৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

মিয়ানমারে সামরিক জান্তা প্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বে নতুন সরকার শপথ নেওয়ার সপ্তাহ না পেরোতেই আবারও দেশটিতে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত বুধবার দেশটির অন্যতম শক্তিশালী বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) ঘোষণা করেছে যে, ২০২৭ সালের মধ্যে তারা গোটা রাখাইন প্রদেশ দখল করার লক্ষ্যে নতুন উদ্যমে লড়াই শুরু করবে। বর্তমানে রাখাইন প্রদেশের অধিকাংশ এলাকাই বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও প্রাদেশিক রাজধানী সিত্তুয়ে, কিয়াকফিউ এবং মানাউং—এই তিনটি শহর এখনো জান্তা বাহিনীর দখলে রয়েছে। আরাকান আর্মির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে গোষ্ঠীর প্রধান মেজর জেনারেল তোয়াই ম্রা নাইং জানান, ২০২৩ সালের শেষ ভাগ থেকে শুরু হওয়া অভিযানে তারা ইতোমধ্যে রাখাইনের ১৪টি টাউনশিপ এবং দক্ষিণ চিন রাজ্যের পালেতওয়া দখল করতে সক্ষম হয়েছেন।

আরাকান আর্মির এই যুদ্ধ ঘোষণা প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাখাইন রাজ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা বিদ্রোহীদের দখলে চলে আসায় এবং মণিপুর সীমান্ত সংলগ্ন চিন প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় সীমান্ত এলাকায় নতুন করে অশান্তির মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, জান্তাবিরোধী নতুন জোট ‘চিন ব্রাদারহুড’-এর শরিকরা এই লড়াইয়ে আরাকান আর্মির সহযোগী হতে পারে, যা যুদ্ধকে আরও দীর্ঘস্থায়ী ও রক্তক্ষয়ী করে তুলবে। গত ১০ এপ্রিল মিয়ানমারে নতুন সরকার গঠিত হলেও বিদ্রোহীদের এই অনমনীয় মনোভাব দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

মিয়ানমারের এই সংঘাতের প্রেক্ষাপট বেশ দীর্ঘ ও জটিল। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চির গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করেছিল সেনাবাহিনী। এর আড়াই বছর পর ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ‘থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়্যান্স’ নামে বিদ্রোহীদের একটি শক্তিশালী জোট জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ১০২৭’ নামক অভিযান শুরু করে। যদিও গত বছর চীনের মধ্যস্থতায় কিছু বিদ্রোহী গোষ্ঠী জান্তার সঙ্গে সাময়িক সংঘর্ষবিরতি চুক্তি করেছিল, তবে আরাকান আর্মির বর্তমান অবস্থান সেই চুক্তিকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। ২০২৭ সালের মধ্যে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের এই লক্ষ্যমাত্রা মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধকে এক নতুন ও চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।