ঢাকা ০২:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

ঐতিহ্যের শেকড়ে বাংলা নববর্ষ: ইতিহাস ও বিবর্তনের সাতকাহন

বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ। এই উৎসবের সূচনার ইতিহাস বেশ প্রাচীন ও বৈচিত্র্যময়। মূলত সৌর পঞ্জি অনুসারে প্রাচীনকাল থেকেই এই অঞ্চলে বছর শুরুর দিনটি উদযাপনের রীতি ছিল। তবে বর্তমানের বাংলা সনের প্রবর্তক হিসেবে মোগল সম্রাট আকবরের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হলেও, অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন সপ্তম শতকের রাজা শশাঙ্কই ছিলেন বাংলা পঞ্জিকার প্রকৃত উদ্ভাবক।

মূলত কৃষিপ্রধান এই জনপদে খাজনা ও রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থেই সম্রাট আকবর হিজরি ও সৌর সনের সমন্বয়ে নতুন এক বর্ষপঞ্জি প্রবর্তন করেন। শুরুতে এর নাম ছিল ‘তারিখ-এ-এলাহী’। বিভিন্ন নক্ষত্রের নামানুসারে বাংলা বারো মাসের নামকরণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। যেমন—বিশাখা নক্ষত্র থেকে বৈশাখ এবং জ্যৈষ্ঠা থেকে জ্যৈষ্ঠ। কৃষকদের সুবিধার্থে প্রবর্তিত এই ‘ফসলি সন’ কালক্রমে আজকের বঙ্গাব্দ বা বাংলা সনে রূপান্তরিত হয়েছে।

তৎকালীন সময়ে চৈত্র মাসের শেষ দিনের মধ্যে কৃষকদের সব পাওনা পরিশোধ করতে হতো। এই উপলক্ষেই সম্রাট আকবর কৃষকদের জন্য মিষ্টি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতেন, যা থেকে পরবর্তী সময়ে হালখাতা ও বৈশাখী উৎসবের প্রচলন শুরু হয়। বর্তমানের আধুনিক উদযাপনের মূলে রয়েছে সেই প্রাচীন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে মতপার্থক্য

ঐতিহ্যের শেকড়ে বাংলা নববর্ষ: ইতিহাস ও বিবর্তনের সাতকাহন

আপডেট সময় : ১২:১২:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ। এই উৎসবের সূচনার ইতিহাস বেশ প্রাচীন ও বৈচিত্র্যময়। মূলত সৌর পঞ্জি অনুসারে প্রাচীনকাল থেকেই এই অঞ্চলে বছর শুরুর দিনটি উদযাপনের রীতি ছিল। তবে বর্তমানের বাংলা সনের প্রবর্তক হিসেবে মোগল সম্রাট আকবরের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হলেও, অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন সপ্তম শতকের রাজা শশাঙ্কই ছিলেন বাংলা পঞ্জিকার প্রকৃত উদ্ভাবক।

মূলত কৃষিপ্রধান এই জনপদে খাজনা ও রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থেই সম্রাট আকবর হিজরি ও সৌর সনের সমন্বয়ে নতুন এক বর্ষপঞ্জি প্রবর্তন করেন। শুরুতে এর নাম ছিল ‘তারিখ-এ-এলাহী’। বিভিন্ন নক্ষত্রের নামানুসারে বাংলা বারো মাসের নামকরণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। যেমন—বিশাখা নক্ষত্র থেকে বৈশাখ এবং জ্যৈষ্ঠা থেকে জ্যৈষ্ঠ। কৃষকদের সুবিধার্থে প্রবর্তিত এই ‘ফসলি সন’ কালক্রমে আজকের বঙ্গাব্দ বা বাংলা সনে রূপান্তরিত হয়েছে।

তৎকালীন সময়ে চৈত্র মাসের শেষ দিনের মধ্যে কৃষকদের সব পাওনা পরিশোধ করতে হতো। এই উপলক্ষেই সম্রাট আকবর কৃষকদের জন্য মিষ্টি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতেন, যা থেকে পরবর্তী সময়ে হালখাতা ও বৈশাখী উৎসবের প্রচলন শুরু হয়। বর্তমানের আধুনিক উদযাপনের মূলে রয়েছে সেই প্রাচীন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন।