ঢাকা ০৭:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

শিক্ষককে হুমকি গণতন্ত্র-বিরোধী: অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খানকে হুমকির ঘটনায় ইউট্যাবের গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৬:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩০ বার পড়া হয়েছে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খানকে সম্প্রতি হুমকির ঘটনাকে ‘গণতান্ত্রিক চেতনার বিরোধী’ উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) ইউট্যাবের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম ও মহাসচিব অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানের সই করা এক বিবৃতিতে এই গভীর উদ্বেগ জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে তারা বলেন, অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খানের উদ্দেশে পাঠানো কয়েকটি অশোভন, আক্রমণাত্মক ও হুমকিমূলক ই-মেইল সম্পর্কে তারা অবহিত। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে লক্ষ্য করে যে ধরনের আক্রমণাত্মক মন্তব্য ও অবমাননাকর বক্তব্য ব্যবহার করা হচ্ছে, তা শুধু অশালীন ও নিন্দনীয়ই নয়, বরং শিক্ষক সমাজের মর্যাদা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতার পরিপন্থি।

ইউট্যাব মনে করে, অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান বিভিন্ন টকশো ও গণমাধ্যমে বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দলের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান ও অতীতের স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার সমালোচনা করে বক্তব্য দেওয়ার কারণেই তাকে এই হুমকিমূলক ই-মেইলগুলো পাঠানো হয়েছে।

বিবৃতিতে ইউট্যাব নেতারা বলেন, একজন শিক্ষককে হুমকি দেওয়া বা তার পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া কেবল একজন ব্যক্তির ওপর আক্রমণ নয়, বরং এটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও উচ্চশিক্ষার পরিবেশের ওপর সরাসরি আঘাত। শিক্ষকরা সমাজের বিবেক এবং জ্ঞান বিতরণের অগ্রদূত; তাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে মুক্তবুদ্ধিচর্চা ও স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। কেননা, একটি মুক্ত গণতান্ত্রিক সমাজে যেকোনো নাগরিক তার যুক্তিনির্ভর মতামত প্রকাশ করতে পারেন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমন বা ভয়ভীতি দেখিয়ে সীমিত করার চেষ্টা গণতান্ত্রিক চেতনার বিরুদ্ধে যায়।

ইউট্যাবের শীর্ষ দুই নেতা বলেন, তারা আবারও নাহরিন ইসলামকে হুমকি দেওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন এবং এ ধরনের অগণতান্ত্রিক ও সন্ত্রাসী আচরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। এই ধরনের ঘটনা ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ, যা শিক্ষকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে। শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা ও শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। তাদের মতে, এমন ঘটনা প্রমাণ করে যে, দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের নিরাপত্তা এখনো যথেষ্ট নয়।

বিবৃতিতে ইউট্যাব অবিলম্বে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধী/অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি ইউট্যাব জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্টদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি নিরাপদ, সুষ্ঠু ও ভীতিমুক্ত শিক্ষাঙ্গন নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে হবে। ইউট্যাব আশা করে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকার এই গুরুতর বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষককে এমন হুমকির সম্মুখীন না হতে হয়, সেই নিশ্চয়তা দেবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে সহিংসতায় প্রাণহানি: দেশজুড়ে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা

শিক্ষককে হুমকি গণতন্ত্র-বিরোধী: অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খানকে হুমকির ঘটনায় ইউট্যাবের গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা

আপডেট সময় : ১১:২৬:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খানকে সম্প্রতি হুমকির ঘটনাকে ‘গণতান্ত্রিক চেতনার বিরোধী’ উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) ইউট্যাবের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম ও মহাসচিব অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানের সই করা এক বিবৃতিতে এই গভীর উদ্বেগ জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে তারা বলেন, অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খানের উদ্দেশে পাঠানো কয়েকটি অশোভন, আক্রমণাত্মক ও হুমকিমূলক ই-মেইল সম্পর্কে তারা অবহিত। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে লক্ষ্য করে যে ধরনের আক্রমণাত্মক মন্তব্য ও অবমাননাকর বক্তব্য ব্যবহার করা হচ্ছে, তা শুধু অশালীন ও নিন্দনীয়ই নয়, বরং শিক্ষক সমাজের মর্যাদা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতার পরিপন্থি।

ইউট্যাব মনে করে, অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান বিভিন্ন টকশো ও গণমাধ্যমে বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দলের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান ও অতীতের স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার সমালোচনা করে বক্তব্য দেওয়ার কারণেই তাকে এই হুমকিমূলক ই-মেইলগুলো পাঠানো হয়েছে।

বিবৃতিতে ইউট্যাব নেতারা বলেন, একজন শিক্ষককে হুমকি দেওয়া বা তার পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া কেবল একজন ব্যক্তির ওপর আক্রমণ নয়, বরং এটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও উচ্চশিক্ষার পরিবেশের ওপর সরাসরি আঘাত। শিক্ষকরা সমাজের বিবেক এবং জ্ঞান বিতরণের অগ্রদূত; তাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে মুক্তবুদ্ধিচর্চা ও স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। কেননা, একটি মুক্ত গণতান্ত্রিক সমাজে যেকোনো নাগরিক তার যুক্তিনির্ভর মতামত প্রকাশ করতে পারেন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমন বা ভয়ভীতি দেখিয়ে সীমিত করার চেষ্টা গণতান্ত্রিক চেতনার বিরুদ্ধে যায়।

ইউট্যাবের শীর্ষ দুই নেতা বলেন, তারা আবারও নাহরিন ইসলামকে হুমকি দেওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন এবং এ ধরনের অগণতান্ত্রিক ও সন্ত্রাসী আচরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। এই ধরনের ঘটনা ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ, যা শিক্ষকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে। শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা ও শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। তাদের মতে, এমন ঘটনা প্রমাণ করে যে, দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের নিরাপত্তা এখনো যথেষ্ট নয়।

বিবৃতিতে ইউট্যাব অবিলম্বে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধী/অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি ইউট্যাব জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্টদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি নিরাপদ, সুষ্ঠু ও ভীতিমুক্ত শিক্ষাঙ্গন নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে হবে। ইউট্যাব আশা করে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকার এই গুরুতর বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষককে এমন হুমকির সম্মুখীন না হতে হয়, সেই নিশ্চয়তা দেবে।