ঢাকা ০২:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

জেনেভা ক্যাম্পে জাহিদকে বোমা মেরে হত্যা: ৪ আসামি ২ দিনের রিমান্ডে

সোমবার (২৭ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম মিয়া এই জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

যাদের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে, তারা হলেন মো. সাজু (৩২), রুস্তুম (৩৫), মো. আরমান (৩৮) এবং মো. সাজু ওরফে সাঞ্জু ওরফে সাব্বির (২৪)।

ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জেনেভা ক্যাম্পে বোমা বিস্ফোরণের এই ঘটনায় গত ২৪ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, উপপরিদর্শক মো. মোশাররফ হোসেন, আসামিদের ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছিলেন। কিন্তু আদালত সেদিন শুনানি না করে রিমান্ড শুনানির জন্য আজকের দিনটি ঠিক করেন। আজ শুনানির জন্য তাদের আদালতে হাজির করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা আবারও ৭ দিনের রিমান্ড চান, তবে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিন চান। দুই পক্ষের কথা শোনার পর আদালত শেষ পর্যন্ত প্রত্যেকের ২ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা তার রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করেছেন, প্রাথমিক তদন্তেই এই আসামিদের মামলার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত এখনও চলছে। গ্রেফতার হওয়া আসামিরা এজাহারে নাম থাকা অন্য আসামি এবং পলাতক আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে জানে। তাই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য, ঘটনার মূল রহস্য বের করতে এবং ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের খুঁজে বের করে গ্রেফতার করতে হলে এই আসামিদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা (রিমান্ড) খুবই জরুরি। একারণেই ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল।

উল্লেখ্য, জেনেভা ক্যাম্পে বোমা বিস্ফোরণে জাহিদ নামে ওই যুবক নিহত হওয়ার পর তার বোন মদিনা বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৩ অক্টোবর রাত সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় ৫০-৬০ জন আসামি মিলে বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুরো এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করে। বোমার বিকট শব্দ শুনে জাহিদের বোন (বাদী) এবং আশপাশের লোকজন বাসা থেকে বেরিয়ে আসেন। এ সময় আসামি সাজ্জাদ (১৯) বাদীর ভাই জাহিদকে (২০) লক্ষ্য করে একটি বোমা ছুড়ে মারে। বোমাটি জাহিদের মাথার পেছনে লেগে বিস্ফোরিত হলে তার মাথার খুলি ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহিদকে মৃত ঘোষণা করেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মিয়ানমারে সু চির সাবেক আসনে জয়ী জান্তা সমর্থিত দল ইউএসডিপি

জেনেভা ক্যাম্পে জাহিদকে বোমা মেরে হত্যা: ৪ আসামি ২ দিনের রিমান্ডে

আপডেট সময় : ০৫:৩৮:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫

সোমবার (২৭ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম মিয়া এই জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

যাদের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে, তারা হলেন মো. সাজু (৩২), রুস্তুম (৩৫), মো. আরমান (৩৮) এবং মো. সাজু ওরফে সাঞ্জু ওরফে সাব্বির (২৪)।

ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জেনেভা ক্যাম্পে বোমা বিস্ফোরণের এই ঘটনায় গত ২৪ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, উপপরিদর্শক মো. মোশাররফ হোসেন, আসামিদের ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছিলেন। কিন্তু আদালত সেদিন শুনানি না করে রিমান্ড শুনানির জন্য আজকের দিনটি ঠিক করেন। আজ শুনানির জন্য তাদের আদালতে হাজির করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা আবারও ৭ দিনের রিমান্ড চান, তবে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিন চান। দুই পক্ষের কথা শোনার পর আদালত শেষ পর্যন্ত প্রত্যেকের ২ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা তার রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করেছেন, প্রাথমিক তদন্তেই এই আসামিদের মামলার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত এখনও চলছে। গ্রেফতার হওয়া আসামিরা এজাহারে নাম থাকা অন্য আসামি এবং পলাতক আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে জানে। তাই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য, ঘটনার মূল রহস্য বের করতে এবং ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের খুঁজে বের করে গ্রেফতার করতে হলে এই আসামিদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা (রিমান্ড) খুবই জরুরি। একারণেই ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল।

উল্লেখ্য, জেনেভা ক্যাম্পে বোমা বিস্ফোরণে জাহিদ নামে ওই যুবক নিহত হওয়ার পর তার বোন মদিনা বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৩ অক্টোবর রাত সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় ৫০-৬০ জন আসামি মিলে বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুরো এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করে। বোমার বিকট শব্দ শুনে জাহিদের বোন (বাদী) এবং আশপাশের লোকজন বাসা থেকে বেরিয়ে আসেন। এ সময় আসামি সাজ্জাদ (১৯) বাদীর ভাই জাহিদকে (২০) লক্ষ্য করে একটি বোমা ছুড়ে মারে। বোমাটি জাহিদের মাথার পেছনে লেগে বিস্ফোরিত হলে তার মাথার খুলি ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহিদকে মৃত ঘোষণা করেন।