ইরানের সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলন দেশটির গত ৪৭ বছরের ইতিহাসে এক নতুন ও শক্তিশালী অধ্যায়ের সূচনা করেছে। বিশ্লেষক এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এবারের বিক্ষোভের মাত্রা ও প্রকৃতি ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির ইতিহাসে আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা এবং নজিরবিহীন।
দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভ দমনে ইরানি কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান নিলেও পিছু হটছে না আন্দোলনকারীরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে জানিয়েছেন, প্রয়োজনে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র। তবে ওয়াশিংটনের এমন অবস্থানের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানি প্রশাসনের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, এই অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থ কিংবা তাদের মিত্রদের ওপর যে কোনো সময় পাল্টা আঘাত হানা হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবারের আন্দোলনের প্রধান বিশেষত্ব হলো এর ব্যাপকতা ও তীব্রতা। সমাজবিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অতীতে ইরানের আন্দোলনগুলো নির্দিষ্ট কিছু বড় শহর বা নির্দিষ্ট শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এবার তা ভিন্ন রূপ নিয়েছে। বর্তমানে বড় শহরগুলোর পাশাপাশি এমন সব প্রত্যন্ত অঞ্চল ও ছোট ছোট জনপদেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে, যেগুলোর নাম আগে কখনো আলোচনায় আসেনি।
ইরানের আন্দোলনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০০৯ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর ‘গ্রিন মুভমেন্ট’ মূলত বড় শহর এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। পরবর্তীতে ২০১৭ এবং ২০১৯ সালের বিক্ষোভগুলো গড়ে উঠেছিল মূলত অর্থনৈতিক সংকটে থাকা প্রান্তিক অঞ্চলের দরিদ্র মানুষের হাত ধরে। আর ২০২২ সালে পুলিশি হেফাজতে মাহশা আমিনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যে হিজাববিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা ছিল একটি বিশেষ সামাজিক ইস্যুভিত্তিক।
তবে এবারের আন্দোলন পূর্ববর্তী সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এর ভৌগোলিক বিস্তৃতি এবং সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ এটিকে একটি অভূতপূর্ব গণজাগরণে পরিণত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের বিক্ষোভের মাধ্যমে ইরানের সাধারণ মানুষ তাদের ক্ষোভের যে বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে, তা দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থার জন্য গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















