ঢাকা ০২:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

বঙ্গবন্ধু হলের নাম পরিবর্তনের প্রতিবাদে সরব বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে থাকা আবাসিক হল ও স্থাপনার নাম পরিবর্তনের সাম্প্রতিক উদ্যোগের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। এই পদক্ষেপকে ঐতিহাসিক বিচ্যুতি এবং প্রতিহিংসার রাজনীতির অংশ হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে এ ধরনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

শনিবার (১০ জানুয়ারি ২০২৬) এক বিবৃতিতে শিক্ষক নেটওয়ার্ক জানায়, বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে স্থাপনার নাম পরিবর্তনের যে নিন্দনীয় সংস্কৃতি চলছে, বর্তমান পরিস্থিতি তারই ধারাবাহিকতা। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪০ বছরের পুরনো ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল’-এর নাম পরিবর্তন করে শহীদ ওসমান হাদির নামে রাখার যে সুপারিশ সিন্ডিকেট করেছে, তাকে ‘রাজনৈতিক অপরিপক্বতা’ ও ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, জুলাই অভ্যুত্থানের পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিহাস মুছে ফেলার এক ধরনের মরিয়া প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

সংগঠনটি আরও জানায়, গত ১৭ বছর ধরে শেখ পরিবারের নামে অসংখ্য স্থাপনা তৈরি করে দলীয়করণের যে চরম সীমা লঙ্ঘন করা হয়েছিল, তার প্রতিবাদ তারা আগেও করেছে। তবে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হলেও শেখ মুজিবুর রহমানের নাম মুছে ফেলার কোনো যৌক্তিকতা নেই। রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও একই ধরণের উদ্যোগকে সমাজ-সংস্কৃতির ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন শিক্ষকরা। শহীদ ওসমান হাদির নামে নতুন কোনো ভবন করার পরামর্শ দিয়ে তারা বলেন, প্রতিষ্ঠিত একটি নাম মুছে ফেলা হটকারী সিদ্ধান্ত ছাড়া আর কিছুই নয়। রাষ্ট্রীয় অর্থে নির্মিত স্থাপনার নামকরণে একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের ওয়ানডে জয়ে বাংলাদেশের সৈকত, আইসিসি চুক্তিতে নেই বিসিবির বাধা

বঙ্গবন্ধু হলের নাম পরিবর্তনের প্রতিবাদে সরব বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক

আপডেট সময় : ০১:২৪:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে থাকা আবাসিক হল ও স্থাপনার নাম পরিবর্তনের সাম্প্রতিক উদ্যোগের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। এই পদক্ষেপকে ঐতিহাসিক বিচ্যুতি এবং প্রতিহিংসার রাজনীতির অংশ হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে এ ধরনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

শনিবার (১০ জানুয়ারি ২০২৬) এক বিবৃতিতে শিক্ষক নেটওয়ার্ক জানায়, বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে স্থাপনার নাম পরিবর্তনের যে নিন্দনীয় সংস্কৃতি চলছে, বর্তমান পরিস্থিতি তারই ধারাবাহিকতা। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪০ বছরের পুরনো ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল’-এর নাম পরিবর্তন করে শহীদ ওসমান হাদির নামে রাখার যে সুপারিশ সিন্ডিকেট করেছে, তাকে ‘রাজনৈতিক অপরিপক্বতা’ ও ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, জুলাই অভ্যুত্থানের পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিহাস মুছে ফেলার এক ধরনের মরিয়া প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

সংগঠনটি আরও জানায়, গত ১৭ বছর ধরে শেখ পরিবারের নামে অসংখ্য স্থাপনা তৈরি করে দলীয়করণের যে চরম সীমা লঙ্ঘন করা হয়েছিল, তার প্রতিবাদ তারা আগেও করেছে। তবে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হলেও শেখ মুজিবুর রহমানের নাম মুছে ফেলার কোনো যৌক্তিকতা নেই। রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও একই ধরণের উদ্যোগকে সমাজ-সংস্কৃতির ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন শিক্ষকরা। শহীদ ওসমান হাদির নামে নতুন কোনো ভবন করার পরামর্শ দিয়ে তারা বলেন, প্রতিষ্ঠিত একটি নাম মুছে ফেলা হটকারী সিদ্ধান্ত ছাড়া আর কিছুই নয়। রাষ্ট্রীয় অর্থে নির্মিত স্থাপনার নামকরণে একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।