যৌন নিপীড়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাদিকুল ইসলাম সাগরকে স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ৫৪৫তম সভায় এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইতিপূর্বে সাময়িক বরখাস্ত থাকা এই শিক্ষককে এখন স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তিনি কোনো ধরনের পেনশন বা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন না।
জানা গেছে, অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা যাচাইয়ে আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সাঈদা আঞ্জুর নেতৃত্বে ১৭ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এই কমিটিতে বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাচের ১২ জন ছাত্র-ছাত্রীও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে কমিটি অভিযোগের সত্যতা পায় এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, যৌন হয়রানির প্রাথমিক তদন্ত শেষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৭৩ সালের অ্যাক্টের ৫৫ (৩) ধারা অনুযায়ী আরও একটি কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশের ভিত্তিতেই সিন্ডিকেট তাকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৬ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাদিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রকাশ পায়। এরপরই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয় এবং আন্দোলনের মুখে গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর ৫৩৩তম সিন্ডিকেট সভায় তাকে সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্তের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করেন।
রিপোর্টারের নাম 
























