ঢাকা ০৬:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানে ট্রাম্পের সম্ভাব্য হামলার ভাবনা নিয়ে জল্পনা

ইরানে সরকারবিরোধী দেশজুড়ে বিক্ষোভ টানা দুই সপ্তাহে গড়ালো। এই সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমনপীড়নে নিহতের সংখ্যা অন্তত ১১৬ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মীরা। ইরানের কিছু বিরোধী গোষ্ঠীর দাবি, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল এ খবর জানিয়েছে।

ইন্টারনেট ও টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বিদেশ থেকে বিক্ষোভের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে টানা ৬০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে কার্যত কোনও ইন্টারনেট সংযোগ নেই। শনিবার পাওয়া কিছু ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, যেসব এলাকায় বিক্ষোভকারীরা জড়ো হচ্ছিলেন, সেখানে রাস্তার বাতি নিভিয়ে রাখা হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সহিংস দমন অভিযানে অন্তত ১১৬ জন নিহত এবং ২ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। সংস্থাটি অতীতের একাধিক বিক্ষোভে তথ্যের নির্ভুলতার জন্য পরিচিত। অপরদিকে সরকারবিরোধী সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল দাবি করেছে, মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় নিহতের সংখ্যা ২ হাজার পর্যন্ত হতে পারে।

বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের তিনটি হাসপাতালের কর্মীরা জানান, নিহত ও আহত মানুষের চাপে তাদের চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল। তেহরানের একটি হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, তরুণদের মাথা ও হৃদপিণ্ড লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি করা হয়েছে। একই হাসপাতালের এক কর্মী জানান, নিহতের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে অনেক ক্ষেত্রে সিপিআর দেওয়ারও সুযোগ পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, মর্গে জায়গা না থাকায় মরদেহ একটির ওপর আরেকটি রাখা হয়েছিল, এমনকি নামাজের কক্ষেও মরদেহ স্তূপ করে রাখতে হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন নিরাপত্তা বাহিনীর হতাহতের খবর প্রচার করলেও নিহত বিক্ষোভকারীদের বিষয়ে কিছু বলেনি। বরং বিক্ষোভকারীদের ক্রমেই ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। তবে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম স্বীকার করেছে, রবিবার সকাল পর্যন্ত তেহরান এবং উত্তরপূর্বের পবিত্র শহর মাশহাদে বিক্ষোভ চলেছে।

শনিবার তেহরানের উত্তরাঞ্চলে আবারও বড় জমায়েত হয়। এএফপি যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা গেছে, আতশবাজি ফাটিয়ে ও হাঁড়ি–পাতিল পিটিয়ে সাবেক রাজতন্ত্রের পক্ষে স্লোগান দিচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। সত্যতা নিশ্চিত না হওয়া আরও কিছু ভিডিওতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিদেশভিত্তিক ফার্সিভাষী টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে তেহরানের পাশাপাশি মাশহাদ, উত্তরের তাবরিজ এবং পবিত্র শহর কুমে বড় বিক্ষোভের দৃশ্য দেখা গেছে। পশ্চিমের হামেদান শহরে এক ব্যক্তিকে সিংহসূর্য চিহ্নিত শাহ আমলের ইরানি পতাকা নাড়াতে দেখা গেছে।

সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই কঠোর দমনপীড়নের ইঙ্গিত দিয়েছেন। শনিবার তেহরান আরও কড়া হুঁশিয়ারি দেয়। ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া যে কাউকে ‘খোদার শত্রু’ হিসেবে গণ্য করা হবে, যার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তিনি বলেন, ‘দাঙ্গাকারীদের সহায়তাকারীরাও’ একই অভিযোগের মুখে পড়বেন।

এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, “ইরান স্বাধীনতার দিকে তাকিয়ে আছে, হয়তো আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করতে প্রস্তুত!!!”
নিউ ইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল নাম প্রকাশ না করা মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ট্রাম্পকে ইরানে হামলার সামরিক বিকল্পগুলো দেখানো হয়েছে, যদিও তিনি এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প হামলার অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি ‘গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা’ করছেন এবং তেহরানে সামরিক নয়, এমন লক্ষ্যবস্তুর ওপর আঘাতের বিকল্পও আলোচনায় রয়েছে।

এদিকে নিউ ইয়র্ক টাইমসের বরাতে জানা গেছে, শনিবার সকালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। আলাদা করে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি যা বলেন, তা বাস্তবায়ন করেন।”

এদিকে আধাসরকারি তাসনিম বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, বিপ্লবী গার্ডের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি অনুযায়ী, সন্ত্রাসী দলের সদস্য সন্দেহে প্রায় ২০০ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গ্রেনেড ও পেট্রলবোমা উদ্ধারের অভিযোগও করা হয়েছে। তাসনিমের খবরে বলা হয়, বিপ্লবী গার্ডের গোয়েন্দা শাখা ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে এক বিদেশিকেও গ্রেফতার করেছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই অস্থিরতা উসকে দিচ্ছে। প্রমাণ ছাড়াই গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতারের ঘটনাও নতুন নয়। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় নিরাপত্তা বাহিনী আরও ভয়াবহ দমনপীড়নে যেতে পারে, যেমনটি অতীতের বিক্ষোভগুলোতে দেখা গেছে।

নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ও বর্তমানে কারাবন্দি নরগেস মোহাম্মদির ছেলে আলী রহমানি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, ২০১৯ সালের বিক্ষোভে শত শত মানুষ নিহত হয়েছিল। তিনি বলেন, তারা একটি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে লড়ছে, আর সেই লড়াইয়ে জীবন দিচ্ছে। তাই সবচেয়ে খারাপ আশঙ্কাই আমাদের করতে হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিপিএল মহারণ: আজ সিলেট-রংপুর, ঢাকা-রাজশাহী; টিভিতে কখন দেখবেন?

ইরানে ট্রাম্পের সম্ভাব্য হামলার ভাবনা নিয়ে জল্পনা

আপডেট সময় : ০৮:৩১:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানে সরকারবিরোধী দেশজুড়ে বিক্ষোভ টানা দুই সপ্তাহে গড়ালো। এই সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমনপীড়নে নিহতের সংখ্যা অন্তত ১১৬ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মীরা। ইরানের কিছু বিরোধী গোষ্ঠীর দাবি, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল এ খবর জানিয়েছে।

ইন্টারনেট ও টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বিদেশ থেকে বিক্ষোভের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে টানা ৬০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে কার্যত কোনও ইন্টারনেট সংযোগ নেই। শনিবার পাওয়া কিছু ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, যেসব এলাকায় বিক্ষোভকারীরা জড়ো হচ্ছিলেন, সেখানে রাস্তার বাতি নিভিয়ে রাখা হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সহিংস দমন অভিযানে অন্তত ১১৬ জন নিহত এবং ২ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। সংস্থাটি অতীতের একাধিক বিক্ষোভে তথ্যের নির্ভুলতার জন্য পরিচিত। অপরদিকে সরকারবিরোধী সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল দাবি করেছে, মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় নিহতের সংখ্যা ২ হাজার পর্যন্ত হতে পারে।

বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের তিনটি হাসপাতালের কর্মীরা জানান, নিহত ও আহত মানুষের চাপে তাদের চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল। তেহরানের একটি হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, তরুণদের মাথা ও হৃদপিণ্ড লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি করা হয়েছে। একই হাসপাতালের এক কর্মী জানান, নিহতের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে অনেক ক্ষেত্রে সিপিআর দেওয়ারও সুযোগ পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, মর্গে জায়গা না থাকায় মরদেহ একটির ওপর আরেকটি রাখা হয়েছিল, এমনকি নামাজের কক্ষেও মরদেহ স্তূপ করে রাখতে হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন নিরাপত্তা বাহিনীর হতাহতের খবর প্রচার করলেও নিহত বিক্ষোভকারীদের বিষয়ে কিছু বলেনি। বরং বিক্ষোভকারীদের ক্রমেই ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। তবে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম স্বীকার করেছে, রবিবার সকাল পর্যন্ত তেহরান এবং উত্তরপূর্বের পবিত্র শহর মাশহাদে বিক্ষোভ চলেছে।

শনিবার তেহরানের উত্তরাঞ্চলে আবারও বড় জমায়েত হয়। এএফপি যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা গেছে, আতশবাজি ফাটিয়ে ও হাঁড়ি–পাতিল পিটিয়ে সাবেক রাজতন্ত্রের পক্ষে স্লোগান দিচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। সত্যতা নিশ্চিত না হওয়া আরও কিছু ভিডিওতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিদেশভিত্তিক ফার্সিভাষী টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে তেহরানের পাশাপাশি মাশহাদ, উত্তরের তাবরিজ এবং পবিত্র শহর কুমে বড় বিক্ষোভের দৃশ্য দেখা গেছে। পশ্চিমের হামেদান শহরে এক ব্যক্তিকে সিংহসূর্য চিহ্নিত শাহ আমলের ইরানি পতাকা নাড়াতে দেখা গেছে।

সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই কঠোর দমনপীড়নের ইঙ্গিত দিয়েছেন। শনিবার তেহরান আরও কড়া হুঁশিয়ারি দেয়। ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া যে কাউকে ‘খোদার শত্রু’ হিসেবে গণ্য করা হবে, যার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তিনি বলেন, ‘দাঙ্গাকারীদের সহায়তাকারীরাও’ একই অভিযোগের মুখে পড়বেন।

এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, “ইরান স্বাধীনতার দিকে তাকিয়ে আছে, হয়তো আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করতে প্রস্তুত!!!”
নিউ ইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল নাম প্রকাশ না করা মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ট্রাম্পকে ইরানে হামলার সামরিক বিকল্পগুলো দেখানো হয়েছে, যদিও তিনি এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প হামলার অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি ‘গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা’ করছেন এবং তেহরানে সামরিক নয়, এমন লক্ষ্যবস্তুর ওপর আঘাতের বিকল্পও আলোচনায় রয়েছে।

এদিকে নিউ ইয়র্ক টাইমসের বরাতে জানা গেছে, শনিবার সকালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। আলাদা করে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি যা বলেন, তা বাস্তবায়ন করেন।”

এদিকে আধাসরকারি তাসনিম বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, বিপ্লবী গার্ডের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি অনুযায়ী, সন্ত্রাসী দলের সদস্য সন্দেহে প্রায় ২০০ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গ্রেনেড ও পেট্রলবোমা উদ্ধারের অভিযোগও করা হয়েছে। তাসনিমের খবরে বলা হয়, বিপ্লবী গার্ডের গোয়েন্দা শাখা ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে এক বিদেশিকেও গ্রেফতার করেছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই অস্থিরতা উসকে দিচ্ছে। প্রমাণ ছাড়াই গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতারের ঘটনাও নতুন নয়। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় নিরাপত্তা বাহিনী আরও ভয়াবহ দমনপীড়নে যেতে পারে, যেমনটি অতীতের বিক্ষোভগুলোতে দেখা গেছে।

নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ও বর্তমানে কারাবন্দি নরগেস মোহাম্মদির ছেলে আলী রহমানি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, ২০১৯ সালের বিক্ষোভে শত শত মানুষ নিহত হয়েছিল। তিনি বলেন, তারা একটি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে লড়ছে, আর সেই লড়াইয়ে জীবন দিচ্ছে। তাই সবচেয়ে খারাপ আশঙ্কাই আমাদের করতে হচ্ছে।