ঢাকা ০২:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ ইস্যুতে ভারতের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করল পাকিস্তান

পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা নিয়ে ভারতের দেওয়া মন্তব্য জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভারতের এ বক্তব্য অযৌক্তিক ও অনভিপ্রেত। একই সঙ্গে এটিকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামাবাদ ও ঢাকার সম্পর্ক একটি সার্বভৌম বিষয়, যেখানে কোনো তৃতীয় পক্ষের সম্মতির প্রয়োজন নেই বলে জানানো হয়।

ভারতের এই মন্তব্য আসে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র রণধীর জেসওয়ালের শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) এক সংবাদ ব্রিফিংয়ের পর। সেখানে তিনি বলেন, জে এফ–১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাবনা নিয়ে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে চলমান আলোচনা নয়া দিল্লি সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

বিজ্ঞাপন

এই মন্তব্যের আগেই পাকিস্তান এয়ার ফোর্স প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জাহির আহমেদ বাবর সিধু ও বাংলাদেশ এয়ার ফোর্স প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জে এফ–১৭ ক্রয় ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে সিধু পাকিস্তান এয়ার ফোর্সের সাম্প্রতিক উন্নয়ন সম্পর্কে বাংলাদেশকে অবহিত করেন। একই সঙ্গে সুপার মুশশাক প্রশিক্ষণ বিমান দ্রুত সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেন এবং বিস্তৃত প্রশিক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার আশ্বাস দেন। অপরদিকে বাংলাদেশ এয়ার ফোর্স প্রধান পুরোনো বিমান রক্ষণাবেক্ষণ ও এয়ার ডিফেন্স রাডার সিস্টেম একীভূত করার মাধ্যমে নজরদারি সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা চান।

পাকিস্তানের দ্য নেশন সংবাদে এসেছে, পাকিস্তানের আইএসপিআর জানায়, এই সফর ঐতিহাসিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপ দেওয়ার প্রতিফলন।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপড়েনের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্য পুনরায় শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সামরিক পর্যায়েও একাধিক যোগাযোগ হয়েছে। চীন ও পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত জে এফ–১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বর্তমানে পাকিস্তানের সামরিক আধুনিকায়ন ও অস্ত্র রপ্তানি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আজারবাইজান ও লিবিয়ার সঙ্গে বড় অঙ্কের অস্ত্র চুক্তিতেও এই বিমান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, প্রতিরক্ষা খাতে অর্জিত সাফল্য দেশটির অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের ওয়ানডে জয়ে বাংলাদেশের সৈকত, আইসিসি চুক্তিতে নেই বিসিবির বাধা

বাংলাদেশ ইস্যুতে ভারতের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করল পাকিস্তান

আপডেট সময় : ০৭:২৫:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা নিয়ে ভারতের দেওয়া মন্তব্য জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভারতের এ বক্তব্য অযৌক্তিক ও অনভিপ্রেত। একই সঙ্গে এটিকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামাবাদ ও ঢাকার সম্পর্ক একটি সার্বভৌম বিষয়, যেখানে কোনো তৃতীয় পক্ষের সম্মতির প্রয়োজন নেই বলে জানানো হয়।

ভারতের এই মন্তব্য আসে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র রণধীর জেসওয়ালের শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) এক সংবাদ ব্রিফিংয়ের পর। সেখানে তিনি বলেন, জে এফ–১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাবনা নিয়ে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে চলমান আলোচনা নয়া দিল্লি সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

বিজ্ঞাপন

এই মন্তব্যের আগেই পাকিস্তান এয়ার ফোর্স প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জাহির আহমেদ বাবর সিধু ও বাংলাদেশ এয়ার ফোর্স প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জে এফ–১৭ ক্রয় ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে সিধু পাকিস্তান এয়ার ফোর্সের সাম্প্রতিক উন্নয়ন সম্পর্কে বাংলাদেশকে অবহিত করেন। একই সঙ্গে সুপার মুশশাক প্রশিক্ষণ বিমান দ্রুত সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেন এবং বিস্তৃত প্রশিক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার আশ্বাস দেন। অপরদিকে বাংলাদেশ এয়ার ফোর্স প্রধান পুরোনো বিমান রক্ষণাবেক্ষণ ও এয়ার ডিফেন্স রাডার সিস্টেম একীভূত করার মাধ্যমে নজরদারি সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা চান।

পাকিস্তানের দ্য নেশন সংবাদে এসেছে, পাকিস্তানের আইএসপিআর জানায়, এই সফর ঐতিহাসিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপ দেওয়ার প্রতিফলন।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপড়েনের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্য পুনরায় শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সামরিক পর্যায়েও একাধিক যোগাযোগ হয়েছে। চীন ও পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত জে এফ–১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বর্তমানে পাকিস্তানের সামরিক আধুনিকায়ন ও অস্ত্র রপ্তানি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আজারবাইজান ও লিবিয়ার সঙ্গে বড় অঙ্কের অস্ত্র চুক্তিতেও এই বিমান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, প্রতিরক্ষা খাতে অর্জিত সাফল্য দেশটির অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।