ঢাকা ০৬:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

মাদুরোর পর আগ্রাসী ট্রাম্পের মুখোমুখি মোদি

নতুন বছরের শুরুতেই বিশ্বটা যেন দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এমনিতেই বেশ কঠিন পরিস্থিতিতে আছেন। গত বছরের চেয়ে এই অবস্থান আরো কঠিন হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিক থেকে ভারত এরই মধ্যে দু-দুবার বড় ধরনের সতর্কবার্তা পেয়েছে। একটা সাবধান বাণী ছিল একেবারে সরাসরি। এ ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বৈশ্বিক রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে যাচ্ছে। ভেনেজুয়ালায় কী ঘটছে এবং সেটা ভারতকে কীভাবে আক্রান্ত করতে পারে, সেদিকেও নজর দেওয়া দরকার। তাছাড়া ভারতে বিলিয়নপতিদের উত্থানের বিষয়েও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম সাবধান বাণীটি গেছে সারা বিশ্বের সবার উদ্দেশে। যুক্তরাষ্ট্রের খুবই আগ্রাসী আচরণের পর এই বার্তা দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার দখল নিয়েছে যেন। এই দেশটি তাদের দীর্ঘদিনের শত্রু। বহু দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ বিস্মিত করেছে। এমনকি ডেনমার্কের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রও উদ্বেগ জানিয়েছে। ডেনমার্ক যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বারবার আবেদন জানাচ্ছে, যাতে গ্রিনল্যান্ডের ব্যাপারেও একই ধরনের পদক্ষেপ না নেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞরা বুঝতে চেষ্টা করছেন এই কথার অর্থ কী হতে পারে। বাদের আল-সাইফ কুয়েত ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক। চাথাম হাউসের সহযোগী ফেলো হিসেবেও কাজ করছেন তিনি। তিনি ব্লুমবার্গকে বলেন, ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে দেখা যাচ্ছে একটা সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। এর অর্থ হলো যুক্তরাষ্ট্র আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অন্য দেশের ওপর আরো বেশিশক্তি আর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সক্রিয় হয়েছে।

ভেনেজুয়েলার ঘটনাপ্রবাহের সরাসরি কোনো অর্থনৈতিক প্রভাব ভারতের ওপর পড়বে না। ভারত আর ভেনেজুয়েলার মধ্যে বাণিজ্যের বেশির ভাগই তেল নিয়ে। তবে, এই বাণিজ্যের পরিমাণ এমনিতেও অনেক কমে এসেছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে গত বছরে তেল আমদানির পর দুই-তৃতীয়াংশ কমে গেছে। এখন দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ৩৪০ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।

কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, কিছু ভারতীয় কোম্পানি হয়তো পরে লাভবান হতে পারে। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ হয়তো ভেনেজুয়েলার সস্তা অপরিশোধিত তেল কেনার সুযোগ পেতে পারে। আরেকটি কোম্পানি হলো ওএনজিসি। দক্ষিণ আমেরিকায় উৎপাদনকেন্দ্রিক বেশ কিছু পাওনা রয়েছে তাদের। এই অর্থ তারা হয়তো উদ্ধার করতে পারবে। কিন্তু এসব সুবিধা অনেক দূরের বিষয়। ভেনেজুয়েলায় আমেরিকার স্বার্থ ঠিকঠাকমতো মিটলেই শুধু এসব সুযোগের দরজা খুলতে পারে। ভারতকে লাইনে দাঁড়িয়ে এ জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিপিএল মহারণ: আজ সিলেট-রংপুর, ঢাকা-রাজশাহী; টিভিতে কখন দেখবেন?

মাদুরোর পর আগ্রাসী ট্রাম্পের মুখোমুখি মোদি

আপডেট সময় : ০৬:১৩:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

নতুন বছরের শুরুতেই বিশ্বটা যেন দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এমনিতেই বেশ কঠিন পরিস্থিতিতে আছেন। গত বছরের চেয়ে এই অবস্থান আরো কঠিন হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিক থেকে ভারত এরই মধ্যে দু-দুবার বড় ধরনের সতর্কবার্তা পেয়েছে। একটা সাবধান বাণী ছিল একেবারে সরাসরি। এ ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বৈশ্বিক রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে যাচ্ছে। ভেনেজুয়ালায় কী ঘটছে এবং সেটা ভারতকে কীভাবে আক্রান্ত করতে পারে, সেদিকেও নজর দেওয়া দরকার। তাছাড়া ভারতে বিলিয়নপতিদের উত্থানের বিষয়েও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম সাবধান বাণীটি গেছে সারা বিশ্বের সবার উদ্দেশে। যুক্তরাষ্ট্রের খুবই আগ্রাসী আচরণের পর এই বার্তা দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার দখল নিয়েছে যেন। এই দেশটি তাদের দীর্ঘদিনের শত্রু। বহু দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ বিস্মিত করেছে। এমনকি ডেনমার্কের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রও উদ্বেগ জানিয়েছে। ডেনমার্ক যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বারবার আবেদন জানাচ্ছে, যাতে গ্রিনল্যান্ডের ব্যাপারেও একই ধরনের পদক্ষেপ না নেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞরা বুঝতে চেষ্টা করছেন এই কথার অর্থ কী হতে পারে। বাদের আল-সাইফ কুয়েত ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক। চাথাম হাউসের সহযোগী ফেলো হিসেবেও কাজ করছেন তিনি। তিনি ব্লুমবার্গকে বলেন, ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে দেখা যাচ্ছে একটা সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। এর অর্থ হলো যুক্তরাষ্ট্র আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অন্য দেশের ওপর আরো বেশিশক্তি আর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সক্রিয় হয়েছে।

ভেনেজুয়েলার ঘটনাপ্রবাহের সরাসরি কোনো অর্থনৈতিক প্রভাব ভারতের ওপর পড়বে না। ভারত আর ভেনেজুয়েলার মধ্যে বাণিজ্যের বেশির ভাগই তেল নিয়ে। তবে, এই বাণিজ্যের পরিমাণ এমনিতেও অনেক কমে এসেছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে গত বছরে তেল আমদানির পর দুই-তৃতীয়াংশ কমে গেছে। এখন দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ৩৪০ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।

কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, কিছু ভারতীয় কোম্পানি হয়তো পরে লাভবান হতে পারে। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ হয়তো ভেনেজুয়েলার সস্তা অপরিশোধিত তেল কেনার সুযোগ পেতে পারে। আরেকটি কোম্পানি হলো ওএনজিসি। দক্ষিণ আমেরিকায় উৎপাদনকেন্দ্রিক বেশ কিছু পাওনা রয়েছে তাদের। এই অর্থ তারা হয়তো উদ্ধার করতে পারবে। কিন্তু এসব সুবিধা অনেক দূরের বিষয়। ভেনেজুয়েলায় আমেরিকার স্বার্থ ঠিকঠাকমতো মিটলেই শুধু এসব সুযোগের দরজা খুলতে পারে। ভারতকে লাইনে দাঁড়িয়ে এ জন্য অপেক্ষা করতে হবে।