আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট দ্রুত পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু-পরবর্তী উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এখন বিএনপি। কূটনীতিক, ব্যবসায়ী সমাজ, পেশাজীবী সংগঠন থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এখন তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ে ব্যস্ত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই গণ-সাক্ষাৎকারগুলো কেবল সৌজন্যতা নয়, বরং আগামী দিনে বিএনপির রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার সম্ভাবনার এক আগাম ইঙ্গিত।
তবে বিএনপির এই আকস্মিক ‘উত্থান’ এবং প্রশাসনের একাংশের সম্ভাব্য পক্ষপাতিত্ব নিয়ে গভীর অস্বস্তি প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)। জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মাদ তাহের অভিযোগ করেছেন যে, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একটি নির্দিষ্ট দলকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, যা নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে। একইভাবে এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া একটি ‘পাতানো নির্বাচনের’ আশঙ্কা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনে নালিশ করেছেন। গবেষক আলতাফ পারভেজের মতে, ক্ষমতার কাছাকাছি থাকাই আমাদের সমাজের সংস্কৃতি; তাই তারেক রহমানকে ঘিরে এই ভিড়কে অনেকেই ভবিষ্যতের ‘রাজনৈতিক বিনিয়োগ’ হিসেবে দেখছেন।
উল্লেখ্য যে, গত নভেম্বর পর্যন্ত রাজনীতির চিত্রটি ছিল ভিন্ন। ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের সাফল্য এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR) পদ্ধতি নিয়ে বিতর্কে জামায়াত অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল। কিন্তু ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন এবং ঢাকা জুড়ে লাখ লাখ মানুষের সমাগম সব সমীকরণ পাল্টে দিয়েছে। যদিও জামায়াত ও এনসিপি এই পরিস্থিতিকে প্রশাসনের ‘দেউলিয়াত্ব’ হিসেবে দেখছে, তবুও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের দাবি—জনগণের আস্থার প্রতিফলনই বিএনপিকে আজ রাজনীতির প্রধান কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। এই রাজনৈতিক টানাপোড়েন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোটারদের আচরণে কেমন প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
রিপোর্টারের নাম 

























