ঢাকা ০৬:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

নির্বাচনে এআই ও ডিজিটাল বৈষম্য: ইসি ও সরকারের নির্লিপ্ততায় দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের উদ্বেগ

ডিজিটাল রূপান্তর একদিকে যেমন প্রগতি ও দুর্নীতিরোধে সহায়ক হয়েছে, অন্যদিকে এটি সমাজে নতুন ধরনের বৈষম্যও সৃষ্টি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য। মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক মুক্ত আলোচনায় তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহার একটি নতুন দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই ব্যবহার করে ঘৃণা ও সহিংসতা ছড়ানো হলেও তা বন্ধে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকরী উদ্যোগ বা সদিচ্ছা দেখা যাচ্ছে না।

সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ড. দেবপ্রিয় আরও উল্লেখ করেন যে, চব্বিশের আগস্ট আন্দোলনে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল তৎকালীন হাসিনা সরকারের ‘নৈতিক পরাজয়ের’ বড় প্রমাণ। তিনি একটি সমন্বিত ও জাতীয় তথ্যভাণ্ডার তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যা কোনো নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে না থেকে একটি স্বায়ত্তশাসিত ও জবাবদিহিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হবে। পাশাপাশি, নতুন সাইবার সিকিউরিটি অর্ডন্যান্সকে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে বৈধতা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন তিনি।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ব্যবসায়িক নেতারা বলেন, সুশাসন ও গণতন্ত্র ছাড়া ডিজিটাল অর্থনীতির টেকসই বিকাশ অসম্ভব। বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি শাহেদুল ইসলাম হেলাল দুর্নীতি দমনে ডিজিটাল পদ্ধতির ওপর জোর দেন। এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আবদুল মজিদ মানুষের মানসিকতা পরিবর্তনের তাগিদ দিয়ে বলেন, পাশের দেশ সিলিকন ভ্যালিতে নেতৃত্ব দিলেও আমরা পিছিয়ে আছি। এছাড়া নতুন উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তিতে হয়রানি এবং ডিজিটাল দক্ষতার অভাবকেও অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেন আলোচকরা। সিজিএসের প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে এই আলোচনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও নারী উদ্যোক্তারাও অংশ নেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

বিপিএল মহারণ: আজ সিলেট-রংপুর, ঢাকা-রাজশাহী; টিভিতে কখন দেখবেন?

নির্বাচনে এআই ও ডিজিটাল বৈষম্য: ইসি ও সরকারের নির্লিপ্ততায় দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০১:১৪:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

ডিজিটাল রূপান্তর একদিকে যেমন প্রগতি ও দুর্নীতিরোধে সহায়ক হয়েছে, অন্যদিকে এটি সমাজে নতুন ধরনের বৈষম্যও সৃষ্টি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য। মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক মুক্ত আলোচনায় তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহার একটি নতুন দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই ব্যবহার করে ঘৃণা ও সহিংসতা ছড়ানো হলেও তা বন্ধে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকরী উদ্যোগ বা সদিচ্ছা দেখা যাচ্ছে না।

সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ড. দেবপ্রিয় আরও উল্লেখ করেন যে, চব্বিশের আগস্ট আন্দোলনে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল তৎকালীন হাসিনা সরকারের ‘নৈতিক পরাজয়ের’ বড় প্রমাণ। তিনি একটি সমন্বিত ও জাতীয় তথ্যভাণ্ডার তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যা কোনো নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে না থেকে একটি স্বায়ত্তশাসিত ও জবাবদিহিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হবে। পাশাপাশি, নতুন সাইবার সিকিউরিটি অর্ডন্যান্সকে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে বৈধতা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন তিনি।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ব্যবসায়িক নেতারা বলেন, সুশাসন ও গণতন্ত্র ছাড়া ডিজিটাল অর্থনীতির টেকসই বিকাশ অসম্ভব। বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি শাহেদুল ইসলাম হেলাল দুর্নীতি দমনে ডিজিটাল পদ্ধতির ওপর জোর দেন। এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আবদুল মজিদ মানুষের মানসিকতা পরিবর্তনের তাগিদ দিয়ে বলেন, পাশের দেশ সিলিকন ভ্যালিতে নেতৃত্ব দিলেও আমরা পিছিয়ে আছি। এছাড়া নতুন উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তিতে হয়রানি এবং ডিজিটাল দক্ষতার অভাবকেও অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেন আলোচকরা। সিজিএসের প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে এই আলোচনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও নারী উদ্যোক্তারাও অংশ নেন।