ঢাকা ০২:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি বাংলাদেশে: জাতিসংঘের প্রতিবেদন

ধীরগতিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথে থাকলেও দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় এখনও এখানে মূল্যস্ফীতির চাপ সবচেয়ে বেশি। জাতিসংঘের অর্থনীতি ও সামাজিক বিষয়ক বিভাগের প্রকাশিত ‘বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সম্ভাবনা ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগের চিত্র ফুটে উঠেছে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা তাদের সুদের হার কমাতে শুরু করলেও বাংলাদেশ ব্যাংক এখনও কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রেখেছে। খাদ্যপণ্য ও আমদানিনির্ভর জ্বালানির উচ্চমূল্য মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের মন্থর প্রবৃদ্ধির পর ২০২৬ সালে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫.১ শতাংশে উন্নীত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। তবে একই সময়ে ভারতের প্রবৃদ্ধি ৬.৬ শতাংশ এবং ভুটানের প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা আঞ্চলিক গড়ের তুলনায় বাংলাদেশকে কিছুটা পিছিয়ে রাখছে।

প্রতিবেদনে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং সরকারি ঋণের পরিমাণ বাড়তে থাকায় মধ্যমেয়াদে অর্থনীতিতে ঝুঁকি রয়ে গেছে। যদিও বাংলাদেশ বর্তমানে উচ্চ ঋণঝুঁকিতে নেই, তবে রাজস্ব আদায়ের দুর্বলতা এবং ঋণের সুদ পরিশোধের ক্রমবর্ধমান ব্যয় ভবিষ্যতে বাজেট ব্যবস্থাপনাকে কঠিন করে তুলতে পারে। কৃষি খাতের স্থিতিশীল উৎপাদন ও আইএমএফ-সমর্থিত সংস্কার কর্মসূচি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গতির সঞ্চার করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির প্রভাব বাংলাদেশের রপ্তানি ও বিনিয়োগ পরিবেশের জন্য চ্যালেঞ্জিং হতে পারে বলে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘ।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের ওয়ানডে জয়ে বাংলাদেশের সৈকত, আইসিসি চুক্তিতে নেই বিসিবির বাধা

দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি বাংলাদেশে: জাতিসংঘের প্রতিবেদন

আপডেট সময় : ০৩:১৩:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
ধীরগতিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথে থাকলেও দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় এখনও এখানে মূল্যস্ফীতির চাপ সবচেয়ে বেশি। জাতিসংঘের অর্থনীতি ও সামাজিক বিষয়ক বিভাগের প্রকাশিত ‘বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সম্ভাবনা ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগের চিত্র ফুটে উঠেছে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা তাদের সুদের হার কমাতে শুরু করলেও বাংলাদেশ ব্যাংক এখনও কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রেখেছে। খাদ্যপণ্য ও আমদানিনির্ভর জ্বালানির উচ্চমূল্য মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের মন্থর প্রবৃদ্ধির পর ২০২৬ সালে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫.১ শতাংশে উন্নীত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। তবে একই সময়ে ভারতের প্রবৃদ্ধি ৬.৬ শতাংশ এবং ভুটানের প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা আঞ্চলিক গড়ের তুলনায় বাংলাদেশকে কিছুটা পিছিয়ে রাখছে।

প্রতিবেদনে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং সরকারি ঋণের পরিমাণ বাড়তে থাকায় মধ্যমেয়াদে অর্থনীতিতে ঝুঁকি রয়ে গেছে। যদিও বাংলাদেশ বর্তমানে উচ্চ ঋণঝুঁকিতে নেই, তবে রাজস্ব আদায়ের দুর্বলতা এবং ঋণের সুদ পরিশোধের ক্রমবর্ধমান ব্যয় ভবিষ্যতে বাজেট ব্যবস্থাপনাকে কঠিন করে তুলতে পারে। কৃষি খাতের স্থিতিশীল উৎপাদন ও আইএমএফ-সমর্থিত সংস্কার কর্মসূচি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গতির সঞ্চার করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির প্রভাব বাংলাদেশের রপ্তানি ও বিনিয়োগ পরিবেশের জন্য চ্যালেঞ্জিং হতে পারে বলে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘ।