‘মুক্ত বিশ্বকোষ’ হিসেবে পরিচিত উইকিপিডিয়ায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইতিহাস বিকৃতি, সাম্প্রদায়িক ঘৃণা এবং রাজনৈতিক প্রচারণার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ২০১৪ সালে ভারতে বিজেপি-আরএসএস পন্থী গোষ্ঠী ক্ষমতায় আসার পর থেকে বাংলা উইকিপিডিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পরিকল্পিতভাবে মুসলিমবিদ্বেষী বয়ান ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার একটি সংগঠিত তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন অভিজ্ঞ লেখক ও ব্যবহারকারীরা।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নোয়াখালী দাঙ্গা, কলকাতা দাঙ্গা এবং চুকনগর গণহত্যার মতো সংবেদনশীল ঐতিহাসিক বিষয়গুলোতে উইকিপিডিয়ার নিবন্ধগুলো চরমভাবে পক্ষপাতদুষ্ট। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৪৬ সালের নোয়াখালী দাঙ্গায় ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত নিহতের সংখ্যা (২৮৫ জন) বহুগুণ বাড়িয়ে ৫০ হাজার পর্যন্ত দাবি করা হয়েছে। একইভাবে কলকাতা দাঙ্গায় মুসলমানদের জানমালের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে একতরফাভাবে তাদেরই ‘ভিলেন’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মতো জাতীয় নেতাদের চরিত্র হনন করে ‘কলকাতার কসাই’ তকমা দেওয়ার পেছনে হিন্দু মহাসভার রাজনৈতিক বয়ানকে উইকিপিডিয়া প্রশ্রয় দিচ্ছে বলে অভিযোগে উঠে এসেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, নিরপেক্ষ লেখকরা যখন এসব ভুল তথ্য সংশোধনের চেষ্টা করেন, তখন বাংলা উইকিপিডিয়ার এক শ্রেণির প্রশাসক বা ‘অ্যাডমিন’ তাদের অ্যাকাউন্ট ব্লক বা সাসপেন্ড করে দিচ্ছেন। এমনকি সাম্প্রতিক ‘জুলাই বিপ্লব’ সংক্রান্ত শহীদ ও যোদ্ধাদের পেজগুলো মুছে ফেলা বা বিতর্কিত করার চেষ্টাও চালানো হচ্ছে। উইকিপিডিয়ার অন্যতম লেখক এস এম মামুন হোসেনের মতে, এটি কেবল ধর্মীয় বিদ্বেষ নয়, বরং প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ভারতের আধিপত্যবাদী নীতিরই একটি অংশ। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসকদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো সদুত্তর দেননি, বরং প্রশ্নকারীদের অ্যাকাউন্ট ব্লক করার মতো ঘটনা ঘটেছে।
রিপোর্টারের নাম 






















