ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক সোমালিল্যান্ডে স্থানান্তরের এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। সোমালিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহমেদ মোয়ালিম ফিকি এই পরিকল্পনাকে আন্তর্জাতিক আইন ও সোমালিয়ার সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন বলে আখ্যায়িত করেছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী ফিকি বলেন, “ইসরায়েল বহু বছর ধরে বিভিন্ন দেশকে বিভক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্রে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য তারা সোমালিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে ব্যবহার করছে। আমাদের কাছে নিশ্চিত তথ্য রয়েছে যে, ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের সোমালিল্যান্ডে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করছে।”
গত ডিসেম্বরে ইসরায়েল সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর এই অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে। সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, এই স্বীকৃতির বিনিময়ে সোমালিল্যান্ড তিনটি শর্তে রাজি হয়েছে: ফিলিস্তিনিদের পুনর্বাসন, উপকূলে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন এবং আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা।
যদিও সোমালিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিনিদের পুনর্বাসন বা সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের বিষয়ে কোনো চুক্তির কথা অস্বীকার করেছে, তাদের শাসক দল ওয়াদানি পার্টি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের জন্য তারা যেকোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য।
ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ সোমালিয়ায় ব্যাপক বিক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তুরস্ক, সৌদি আরব এবং আফ্রিকান ইউনিয়নসহ বহু দেশ ও সংস্থা এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বারে অবস্থিত সোমালিল্যান্ড ইসরায়েলের কাছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযানে এর গুরুত্ব অপরিসীম।
উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে স্বাধীনতা ঘোষণা করলেও সোমালিল্যান্ডকে জাতিসংঘের কোনো সদস্য রাষ্ট্র এখনও স্বীকৃতি দেয়নি। সোমালিয়া জানিয়েছে, তারা কূটনৈতিক ও আইনি সব উপায় অবলম্বন করে ইসরায়েলের এই কথিত পরিকল্পনা প্রতিহত করবে।
রিপোর্টারের নাম 






















