ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে থাকা হল ও স্থাপনার নাম পরিবর্তনের উদ্যোগকে ‘অনভিপ্রেত ও রাজনৈতিক এজেন্ডার অংশ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। একইসঙ্গে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে এমন রাজনৈতিক নামকরণ ও নাম পরিবর্তনের সংস্কৃতি বন্ধের জোরালো দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
গত শনিবার এক বিবৃতিতে শিক্ষক নেটওয়ার্ক জানায়, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থাপনার নামকরণ ও নাম পরিবর্তনের একটি নিন্দনীয় সংস্কৃতি চলে আসছে, যা রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে বিগত দেড় দশকে এই প্রবণতা চরম আকার ধারণ করে, যেখানে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে নির্মিত অসংখ্য স্থাপনা শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে নামকরণ করা হয়েছে, যা দলীয়করণের ঊর্ধ্বে ‘পারিবারিকীকরণের’ এক দৃষ্টান্ত।
সংগঠনটি আরও উল্লেখ করে, নামকরণ ও নাম পরিবর্তনের কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়, আবাসিক হল, অনুষদ ভবন, বিভাগ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমনকি সড়ক ও চত্বরের নামও কেবল রাজনৈতিক বিবেচনায় পরিবর্তন করা হচ্ছে। রাষ্ট্র ও জনগণের অর্থ ব্যয় করে এমন রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবসান হওয়া জরুরি।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ‘জুলাই অভ্যুত্থানের’ পর দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নাম পরিবর্তনের হিড়িক পড়েছে। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে থাকা স্থাপনাগুলোই বেশি করে পরিবর্তনের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধু হল’-এর নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষক নেটওয়ার্কের মতে, এসব সিদ্ধান্ত কোনো গঠনমূলক চেতনা থেকে নয়, বরং ইতিহাস ও সমাজ-সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত বিষয়গুলো মুছে ফেলার একটি রাজনৈতিক নীলনকশার অংশ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গে শিক্ষক নেটওয়ার্ক জানায়, প্রায় ৪০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘শহিদ ওসমান হাদি হল’ রাখার সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট, যা সিনেটে চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায়। সংগঠনটি এই সিদ্ধান্তকে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করেছে। আশির দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি ছাত্রাবাস জাতীয় দুই নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমানের নামে নামকরণ করা হয়েছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে এই নাম অপরিবর্তিত ছিল। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতাচ্যুত হলেও শেখ মুজিবুর রহমানের নাম মুছে ফেলার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলেও মন্তব্য করা হয়।
শহিদ ওসমান হাদির প্রতি সম্মান জানিয়ে শিক্ষক নেটওয়ার্ক জানায়, তার হত্যাকাণ্ডের বিচার ও প্রতিবাদে তারা আগেও সরব ছিল। তবে দীর্ঘদিন ধরে একজন জাতীয় নেতার নামে পরিচিত ছাত্রাবাসের নাম পরিবর্তন করে হাদির নামে রাখা একটি হটকারী সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক অপরিপ্বকতা প্রকাশ করে। সংগঠনটি মনে করে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে শহিদ হাদির নামে নতুন কোনো ভবন বা স্থাপনার নামকরণ করা যেতে পারে।
অবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক বিবেচনায় নামকরণ ও নাম পরিবর্তনের এই সংস্কৃতি জরুরি ভিত্তিতে বন্ধ করা উচিত।
রিপোর্টারের নাম 

























